নির্মলেন্দু গুণ ও তথাকথিত চেতনা | রঞ্জনা বিশ্বাস

করেছে Rodoshee Magazine

নয়া দিগন্তে লিখে কবি নির্মলেন্দু গুণ চেতনাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন বলে আমি মনে করি না। আজও দুটি পোস্ট দেখলাম। তারা বলেছেন, `নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিনে সবাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কিন্তু এই প্রশ্নটি তাকে কেউ করলো না, কেন তিনি নয় দিগন্তে লিখেছেন?’ খুবই শিশুসুলভ প্রশ্ন।

নয়া দিগন্ত, ইনকিলাব এ দেশের সরকার অনুমোদিত পত্রিকা। এদেশের পত্রিকা। এই পত্রিকার গ্রাহকসংখ্যা কম নয়, তারা কেউ ভিনগ্রহ থেকেও আসেনি। তাদের প্রতি কি কোনো দায়বোধ নেই নির্মলেন্দু গুণের? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, এই সম্পর্কিত জ্ঞান নিয়ে আপনার আমার লাভ কী- যদি তা বিরুদ্ধবাদীদের কাছে প্রচারই করতে না পারলেন? আপনার আমার চেতনার বটিকা কোথায় বিকোনো বুদ্ধিমানে কাজ? প্রফেটরা ভিন্ন-ধর্মাবলম্বীদের কাছেই গেছেন তাঁদের নব দর্শন নিয়ে। দুর্বল বিশ্বাসীদের প্রফেটরা কখনও ভিন্নমতাবলম্বীদের কাছে পাঠাননি। কারণ বায়াস হয়ে যেতে পারেন তারা! নির্মলেন্দু গুণ যেভাবে বাংলাদেশ এবং ৭১ কে ধারণ ও লালন করেন তাতে কি মনে হয় নয়া দিগন্তের দর্শন দ্বারা তিনি ধর্ষিত হতে পারেন কিংবা আমাদের চেতনাকে বিনষ্ট করে দিতে পারেন অথবা তিনিও জামাতের এজেন্ট হয়ে উঠতে পারেন? যদি তা না হয় তাহলে ক্ষোভ কেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমন বাংলাদেশের সকল জনগণের তেমনি নির্মলেন্দু গুণও সকল পাঠকের। একজন রাজাকারের যদি কোনো কারণে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে- একজন লেখক হিসেবে নির্মলেন্দু গুণ তার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নিশ্চয়ই কথা বলবেন। তারমানে এই নয় যে, তার বাপ দাদার বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি আপোষ করবেন। নির্মলেন্দু গুণ সাহিত্যের এমন একজন প্রফেট যিনি সর্বজনীন, তাঁর লেখা এডিট করে ছাপানোর সাহস ওরা রাখে না। অতএব, কবি নির্মলেন্দু গুণের উচিৎ জামাতের সকল পত্রিকায় সমান তালে লেখা। ওরা যেমন ঢুকে গেছে আমাদের মধ্যে, আমাদেরও উচিৎ শক্ত অবস্থানে থেকে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। চেতনা যাদের দুর্বল তারা অফ যান। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক, নির্মলেন্দু গুণ দীর্ঘজীবী হোন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

(রঞ্জনা বিশ্বাসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগৃহীত)

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × three =