পরচর্চা বন্ধ হোক

করেছে Rodoshee

নানি-দাদিদের মুখে শুনেছি, তাদের যখন বিয়ে হয় বয়স তখন খুবই অল্প। কেউ কেউ তো পুতুলের বাক্সটা শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত টেনে এনেছিলেন! কিন্তু নানা-দাদারা? তারা কিন্তু পূর্ণ যৌবনে। মা-খালাদের বেলায় সময় বদলাতে শুরু করে। তবু বয়সের ব্যবধানটা ছিল বিস্তর। এখনো হয়তো কারও কারও মা-খালা তাদের স্বামীকে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করেন। এর মূল কারণ কিন্তু ওই বয়সের পার্থক্য। অসম বয়সের দুজন মানুষকে একসঙ্গে এক ছাদের নিচে জুড়ে দেওয়া হতো কোনোরকম মতামতের তোয়াক্কা না করেই। আরও আগে বাড়লে জানা যায়, তখন ব্রাহ্মণদের নাবালিকা কন্যা শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসার রেওয়াজ ছিল। যেটাকে তারা বলত ‘গৌরীদান’। ধর্মীয় কুসংস্কার তো ছিলই, আরও ভাবা হতো পুরুষের বয়স যত বেশি হবে, তত অর্থসমাগম হবে। প্রভাব-প্রতিপত্তি হবে এমন ভেবেই এই উপমহাদেশে দশ বছরের আগেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো ৩০-৩৫-এর কোনো সুঠাম যুবকের সঙ্গে। ‘অন্তর্জলি যাত্রা’ উপন্যাস কিংবা সিনেমাটার কথা মনে আছে? সেখানে দেখানো হয়েছে সমাজের এসব অসংগতির কথা।

এখন সময় বদলেছে। প্রায় সমবয়সী, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দু-চার বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে করছে মেয়েরা। বেশির ভাগ সময় পরিবার থেকেই এসব বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দেখা গেল কেউ আবার পনেরো কিংবা বিশ বছরের ছোটকে বিয়ে করে বসলেন! ব্যস, সমাজ বাধাল বিপত্তি! লোকের কানাঘুষা, নিন্দা।

ভালোবাসা, বিয়ে এসব ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি কাকে বিয়ে করব কাকে ভালোবাসব এসব কি সমাজ ঠিক করে দেবে? অবশ্যই না। অসম বয়সের বিয়ের নানা জটিলতার কথা মাথায় রেখেই বলছি, আমি কাকে নিয়ে সুখী হবো সেটা নিতান্তই আমার ব্যাপার। আমরা চাই মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের এসব বিষয় নিয়ে পরচর্চা বন্ধ হোক।

প্রকৃতিতে শীতের সমাগম। দিনগুলো এখন পাতাঝরার। এ সময়ে তোমার শরীরে চাই বাড়তি যত্ন। এবারের সংখ্যায় থাকল এসবের বিস্তারিত। পোশাক-পরিচ্ছদ কেমন হবে তাও বলে দিয়েছি। এখন তোমার যেমন অভিরুচি।

সকালের নাশতা নিয়ে ঝামেলা নিত্যদিনের। অফিসে যাওয়ার আগে এ নিয়েই মহাবিপত্তি। তোমার সমস্যা মাথায় রেখেই আমরা বাতলে দিয়েছি সাত দিনের সাত পদের মুখরোচক নাশতা। ভালো থাকো পাতাঝরা দিনগুলোয়!

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × 4 =