পর্দায় প্রেম!

করেছে Sabiha Zaman

অন্তঃপুরের আসবাব, রং ও গৃহিণীর রুচি সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্দা নির্বাচন করলে সম্পূর্ণ হয় ঘরের সজ্জা। আজ সেই রহস্যেরই পর্দাফাঁস লিখেছেন আশা বিশ্বাস
শুরু সেই মিসর সাম্রাজ্যে। তার পরে পাঁচ হাজার বছর ধরে নানা চেহারায় অন্দর সাজিয়ে চলেছে পর্দা। ঘরের আবরুও রক্ষা করে, আবার অন্দরমহলের সৌন্দর্যও বাড়ায়। আলো-তাপ আটকায়, ধুলো-ময়লা থেকে ঘরকে বাঁচায়। বাড়ির ভেতরে কতটা হাওয়া-বাতাস খেলবে, সে-ও পর্দা লাগানোর কৌশলের ওপরে নির্ভর করে। তা এত দায়িত্ব যখন পর্দার গর্দানে, তখন বাছাইপর্বে বিশেষ কয়েকটা কথা মাথায় রাখতে হবে বইকি। সেই ফর্দে চোখ বুলিয়ে নাও।

 

পর্দার কাপড়, কাপড়ের রং
লিলেন, সিল্ক, ভেলভেট, মিক্সড সিল্ক, ভয়েল এই কয় ধরনের পর্দা বেশি মেলে। সুতির পর্দার চাহিদা বেশি। কারণ, নানাভাবে কুচি দিয়ে বা আরবি কায়দায় প্লিট করে ইচ্ছেমত ড্রেপ করা যায়। জামদানি বা মসলিনের পর্দা খুবই শৌখিন। তবে ঘরে হাতির দাঁতের পালঙ্ক, গাছের গুঁড়ির টেবিল-জাতীয় আসবাব না থাকলে এ ধরনের জমিদারি পর্দা মানাবে না। সে ক্ষেত্রে হ্যান্ডলুম পর্দা ঝুলিয়ে শখ মেটাও।
দেয়ালের রঙের সঙ্গে কনট্রাস্ট হয় এমন পর্দা নেবে, নাকি ঘরের রঙেরই কয়েক শেড হালকা বা গাঢ় রং বেছে গোটা লুকটা অ্যাকসেনচুয়েট করবে, তা ঠিক করতে নিজের শিল্পবোধের ওপরেই ভরসা রাখতে হবে।

দোকানে পর্দা অর্ডার দিলে তারা জানালা-দরজার মাপ নেওয়ার সময়েও ক্যাটালগ দেখিয়ে রং সম্পর্কে পরামর্শ দেন। ঘরে ওয়ালপেপার থাকলে বা নানা রঙের দেয়াল হলে একরঙা পর্দা লাগাও। ডাবল বা ট্রিপল লেয়ারড কার্টেনসও ব্যবহার করতে পারো। ছিমছাম ঘর ছাড়া প্রিন্টেড বা ফুলকাটা পর্দা একেবারেই ভালো দেখায় না।

 

কোন ঘরে কোন পর্দা
জানালা, দরজার আকার-আয়তন, ঘরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ রং এমন হাজারো বিষয় পর্দা লাগানোর আগে মনে রাখতে হয়। কিš‘ অন্দরসজ্জার শিল্পীরা সবচেয়ে গুরুত্ব দেন ঘরের প্রকৃতি অনুযায়ী পর্দা নির্বাচনের ওপরে। কারণ, মেঝের টাইলস, দেয়ালসজ্জা, আলোর ব্যবহার, আসবাব কী রকম ঘর অনুযায়ী সবকিছুরই রদবদল হয়। তাই শোবার ঘরের আবরণ আর বসার ঘরের আভরণ এক হবে না। এখন খাবার ঘর রান্নাঘরের পাশেই থাকে। তাই ডাইনিংয়ের কার্টেন বাছার সময়ে এঁটো হাত, খাবারের ধোয়া, চিমনির হাওয়া এই ঘরোয়া বিষয়গুলো খেয়াল রাখো। ওখানে শেওলা বা ধূসর রঙের পর্দা বাছা বুদ্ধির পরিচয় হবে।

ড্রয়িংরুমেই সবচেয়ে নজরকাড়া পর্দাটা লাগাও। ডাবল রড লাগিয়ে জানালার দিকে হেভি সিল্কের পর্দা লাগাও। এতে রোদ্দুর আড়াল হবে। আর তার ওপরে ডিজাইন করা ভয়েলের ট্রান্সপারেন্ট পর্দা লাগাও। ওই পর্দা মাঝখানে আলগোছে বেঁধে রাখলে বৈঠকখানা তারিফ কুড়োবেই। পরপর বিভিন্ন স্তরে তিনটি পর্দাও ঝোলাতে পারো।


যেখানে আড়াল দরকার নেই, সেখানে লেস বা নেটের পর্দা লাগাও। যেমন দরজা। বেডরুমের জানালায় ভেনিশিয়ান অথবা ডুপ্লে ব্লাইন্ডস (দুই রকম কাপড় জেব্রা ক্রসের মতো জুড়ে তৈরি, জানালায় এঁটে থাকে) ব্যবহার করতে পারো। অথবা ডাবল রডে লেয়ারড পর্দা লাগাও। এ ক্ষেত্রে কায়দাটা হবে ড্রয়িংরুমের ঠিক উল্টো। একটা পাতলা দুধসাদা শিয়ার (স্বচ্ছ) লাগাও জানালার কাচের ওপরে। ভেতরে থাক গর্জাস ভেলভেটের পর্দা। আঁধার চাইলে দুটোই পুরো টেনে দেবে। নরম আলো চাইলে ভেলভেটের পর্দা প্লিট করে দুপাশে সরিয়ে শুধু শিয়ারটা মেলে রাখো।

যত্নে রাখো, সাবধানে টাঙাও
পেলমেট বা ভ্যালেন্স (ঝালর) তৈরি করে পর্দা লাগানোর ফ্যাশন তো রয়েছেই। সামনে-পেছনে দুই বা তিনটি পর্দা ব্যবহার করতে চাইলে পেলমেটই প্রয়োজন হবে। ইদানীং শুধু রডেই পর্দা ঝোলানোর চল বেশি। হুক, রিং, লুপ (গিঁট), গবলেট (ওল্টানো গ্লাসের মতো) নানা কায়দায় পর্দা টাঙাতে পারো। সবচেয়ে সহজ ভেলকো স্টাইল। জানালা যেমনই হোক, মেঝেতে অল্প লোটানো লম্বা পর্দায় তাকে ভালো দেখাবেই। কিন্তু সেই মেঝে রোজ চকচকে রাখা চাই। ঘর ছোট হলে লম্বা পর্দা লাগাবে না। অন্তত দুসেট পর্দা তৈরি রাখো। অতিথি সমাগমের জন্য গ্ল্যামারাস এক সেট থাকুক। একপ্রস্থ লন্ড্রিতে গেলে অন্য সেটে চট করে ঘরের চেহারাও পাল্টে ফেলতে পারবে।
অনেক সময়েই পর্দা কিনতে পকেটে চাপ পড়ে।

 

নিজে কাপড় কিনে ইন্টারনেট থেকে ডিজাইন বেছে ভালো দর্জিকে বুঝিয়ে দাও, কী চাইছ। সাশ্রয় হবে। বিপণি থেকে কিনো বা দর্জিকে দিয়ে বানাও, মোদ্দা বিষয় একটাই। পর্দা যেন ঘরকে জমকালো করে। যাতে দিনের শেষে ঘরে ঢুকলে, আশার সুর ফিরে
আসে ক্লান্তি ছাপিয়ে-পর্দে মে রহনে দো…!

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four × three =