‘পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজন সরকারি পদক্ষেপ’

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন
‘ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। সে জানতে পারে দুনিয়ার তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র।’ বিখ্যাত মনীষী গুস্তাভ ফ্লুবেয়ার ভ্রমণ সম্পর্কে এমনটাই ধারণা করেন। তবে ভ্রমণ মানুষকে ঋদ্ধ করে। ভ্রমণ কেন্দ্রের গল্প একশ বার শোনার চেয়ে একবার ঘুরে আসাই শ্রেয়। প্রকৃতি মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, যদি সে প্রকৃতিকে বোঝে। বিশাল আকাশ থেকে অতল সমুদ্রপানে একটিবার দাঁড়ালে নিজেকে বারবার খুঁজে ফেরা যায়। বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে রয়েছে এমন সব নয়নাভিরাম জায়গা, যা একটিবার দেখলে মন ভরবে না। সাজেক তার মধ্যে অন্যতম। এমনই একটি জায়গা, যেখান থেকে আকাশের সবটুকু সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।

কখনো তীব্র শীত। আবার মুহূর্তেই বৃষ্টি। চোখের পলকেই চারপাশ ঘোমটা টানে সাদাকালো মেঘে। এ যেন মেঘের উপত্যকা। সেখানে গেলে মনে হবে এটি মেঘেদের রাজ্য। নিজেকে মনে হয় ওই মেঘের রাজ্যের বাসিন্দা। হয়তো মনের অজান্তেই খুঁজতে থাকবে সাদা মেঘের পরী। মন, প্রাণ, দেহ পুলকিত হবে এক বিশুদ্ধ চিন্তা আর অনুভূতিতে।

সাজেকের রিসোর্টগুলোও অপরূপ সুন্দর। যেন মেঘেদের রাজ্য ছোট ছোট প্রাসাদ। রিসোর্টের খোলা বারান্দাগুলো থেকে বকসাদা মেঘেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায়। তেমনই এক রিসোর্ট মোনঘর। কথা হলো মোনঘর রিসোর্টের ম্যানেজিং পার্টনার এ টি এম জাবিদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানালেন মোনঘরের নানা বিষয় নিয়ে, সাজেকের বহিরাগত প্রাকৃতিক আকর্ষণে ঘেরা অপ্রতিরোধ্য সবুজের ওপর ছড়িয়ে পড়া রুইলুই পাড়ায় হেলিপ্যাডের কাছাকাছি অবস্থিত আমাদের মোনঘর রিসোর্ট। সাজেক বিরল নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ম্বরপূর্ণ সুখের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করার এক জায়গা। এবং শহর জীবনের আড্ডা থেকে দূরে বিরল নীরবতায় শোষিত হওয়ার উপযুক্ত জায়গা মোনঘর রিসোর্ট।

যদি বলি কেন যাবে মোনঘর রিসোর্টে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোনঘর রিসোর্ট সাজেকের একটি সুসজ্জিত রিসোর্ট এবং ব্যক্তিগত প্রাকৃতিক বহিরাঙ্গন। পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটাতে এবং পাহাড়কে খুব কাছ থেকে দেখা ছাড়াও এখানে পাবে অনুপ্রাণিত সবুজ বনের পাশাপাশি ঘন মেঘের একটি আড়ম্বরপূর্ণ বাসভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত নিখুঁত অবস্থান। এখানের প্যানোরামিক দৃশ্য এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রাচীন দৃশ্য তোমার বারান্দা এবং কক্ষ থেকেই উপভোগ করতে পারবে।

কী কী সেখানে?
মোনঘর রিসোর্টে রয়েছে সাতটি কক্ষ, যার প্রতিটির সঙ্গে রয়েছে ব্যক্তিগত ব্যালকনি এবং বাথরুম। সুসজ্জিত প্রতিটি রুমে দুটি করে ডাবল বেড, যেখানে চারজন থাকতে পারে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রয়েছে মনোমুগ্ধকর ক্যানভাস। বারান্দাই রয়েছে একটি আকর্ষণীয় বসার বেঞ্চ এবং সবুজ কৃত্রিম ঘাস, যেখানে বসলে মনে হবে তুমি বসে আছ পাহাড়ের মাঝে। এখানে তুমি কাটাতে পারবে অফুরন্ত সময় মেঘ আর পাহাড়ের খেলা দেখতে দেখতে।

সুবিধা রয়েছে আরও
এ টি এম জাবিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে বুকিং করলেই পাচ্ছেন কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট এবং সকল অতিথির জন্য রয়েছে বারবিকিউ করার সুবিধা। রিসোর্টের সামনে রয়েছে ফ্রি পার্কিং সুবিধা। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ এবং পানির সুবিধা রয়েছে। তা ছাড়া সুদক্ষ ম্যানেজার, যারা সব সময় থাকবে আপনাদের সাহায্য এবং নিরাপত্তার জন্য।’

ভাড়া
সাজেকে ভাড়া নিয়ে অনেকের কাছে রয়েছে বিভ্রান্তিকর খবর। অনেকেই ভাবে গলাকাটা দাম রাখা হয়। মোনঘর রিসোর্ট এখানে ব্যতিক্রম ভূমিকা পালন করছে। রুমের ভাড়া সব সময় এক এবং সব রুমেই সেই ভাড়ার তালিকা দেওয়া, যেন কোনোভাবেই কেউ প্রতারণা করতে না পারে। সঙ্গে প্রতিটি অতিথি রুম অনুযায়ী পাবে সারপ্রাইজ ক্যাশব্যাক।


লক্ষ্য যেমন
যেসব অতিথি সাজেকে বেড়াতে আসে, তাদের একটি আনন্দময় এবং সুন্দর ভ্রমণ উপহার দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।

২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন দিবসকে উল্লেখ করে পর্যটনশিল্প নিয়ে এ টি এম জাবিদুর রহমান বলেন, ‘পর্যটনশিল্পকে আমরা যথেষ্ট লাভজনক ও দ্রুত প্রসারণশীল শিল্প হিসেবে বিবেচনা করতেই পারি, অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে আমার ধারণা। তবে এই সময়ে যখন আমাদের দেশ তথা পুরো বিশ্ব মহামারিতে ভুগছে, ভেঙেছে পর্যটনশিল্পের উন্নয়নকাঠামো। এ পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতকে সামনে নিয়ে যেতে হলে সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি সব পর্যটককে ভ্রমণশিল্পে গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলে আমি মনে করি।’
যোগাযোগ
মোনঘর রিসোর্ট সাজেক, রুইলুই পাড়া, সাজেক, রাঙামাটি ৪৫০০ রাঙামাটি, চট্টগ্রাম বিভাগ, বাংলাদেশ, ০১৮৪৪২১৭৩১০, ০১৮৪৪২১৭৩০১
ফেসবুক: www.facebook.com/monghorsajek

ইনস্টাগ্রাম: www.instagram.com/monghorsajek
ইউটিউব:  https://cutt.ly/dWq4LuY
ওয়েবসাইট: www.monghorsajek.com

এ টি এম জাবিদুর রহমান ছোট থেকেই ভ্রমণবিলাসী। তাই তো ব্যক্তিগত জীবনেও এর প্রতিচ্ছবি রেখে গেছেন। তিনি মানুষকে প্রকৃতির কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন নানা অনুষঙ্গ। স্বপ্নপাড়ি তারই একটি প্রতিচ্ছবি। তিনি ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য ভাবেন। মনের খোরাক জোগাতে স্বপ্নপাড়ি দারুণভাবে কাজ করে।
ভ্রমণকে সবার মাঝে সহজ ও সরল করে তুলতেই স্বপ্নপাড়ির সৃষ্টি। স্বপ্নপাড়ি একটি ট্রাভ্রেল গ্রুপ, যা প্রকৃতির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ছোট-বড় সবার মাঝে। এই সময়ে যেখানে আমরা সবাই প্রযুক্তির হাতে বন্দি প্রায়, স্বপ্নপাড়ি তখন আমাদের বের করে আনছে ঘরের বাইরে, পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমির সঙ্গে। আমাদের নিজেদের দেশ যে কতটা নজরকাড়া, তা এখনো আমাদের অনেকেরই অজানা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি ধানের শীষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।’

বরাবরই ভ্রমণপ্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া ও তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ-সুলভ করে তোলাই আমাদের চেষ্টা। অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যারা শুধু সুপরিকল্পিত ও নিরাপদ গাইডলাইনের অভাবে প্রকৃতিকে কাছ থেকে অবলোকন করতে পারেন না, স্বপ্নপাড়ি দিনরাত তাদের লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, নতুন নতুন ভ্রমণযোগ্য স্থান খুঁজে তা সবার সামনে নিয়ে আসা ও সেখানে যেতে উৎসাহ প্রদান করে চলেছে। ছাত্রছাত্রীরা যারা সচ্ছলতার অভাবে ভ্রমণ করতে পারে না, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

স্বপ্নপাড়ির লক্ষ্য
* খরচে সবচেয়ে কম
* মানে সবচেয়ে বেশি
* সেবায় সবচেয়ে আগে


সেবাসমূহ
* করপোরেট প্যাকেজ
* ফ্যামিলি প্যাকেজ
* স্টুডেন্ট প্যাকেজ
* সাপ্তাহিক ট্যুর প্যাকেজ
* শিক্ষা সফর
* হোটেল বুকিং
* বাস, ট্রেন, শিপ ও এয়ার টিকেটিং

স্বপ্নপাড়িই কেন?
তোমার ভ্রমণ পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে স্বপ্নপাড়ি বদ্ধপরিকর। সুপরিকল্পিত গাইডলাইন ও দূরদর্শী চিন্তা। আমাদের আছে অভিজ্ঞ হোস্ট, যিনি যেকোনো সময়ে যেকোনো সমস্যার সহজ সমাধান দিতে সর্বদা সচেষ্ট।

যোগাযোগ
স্বপ্নপাড়ি
প্লট# চ-২, ফ্লাট# ১ম ফ্লোর,
উত্তর বাড্ডা, গুলশান, ঢাকা-১২১২।
০১৮৪৪২১৭৩০৬

ফেসবুক  :   www.facebook.com/shopnoparibd

ইনস্টাগ্রাম : www.instagram.com/shopnoparitours

ওয়েবসাইট : www.shopnopari.com

ছবি:   মোনঘর রিসোর্ট ও স্বপ্নপাড়ি রিসোর্ট সৌজন্য

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

4 × five =