পাকা চুল টেনে তোলার ক্ষতি

পাকা চুল টেনে তোলার ক্ষতি

করেছে Rodoshee Magazine

রোদসী ডেস্ক
বয়স বাড়লে চুলে পাক ধরে। তবে কারো কারো চুল পেকে যায় অকালেই। তরুণ বয়সে মাথাভর্তি চুল সাদা হতে দেখে অস্বস্তি নিয়ে প্রায়ই চুল টানতে থাকে। কালোর আড়ালে থাকা পাকা চুল তুলেও ফেলে। কিন্তু এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চুল টেনে তুলে ফেলা কোন সমাধান নয় বরং ক্ষতি।

চুল পাকার কারণ

চুল পাকার কারণ

চুল পাকার কারণ
পিগমেন্ট সেল শরীরের ত্বকের রং নির্ধারণ করে। এর থেকে মেলানিন নামের রঞ্জক কণিকা উৎপাদিত হয়। সেই মেলানিন চুলের রং কালোর জন্য দায়ী। আর এর উৎপাদন বন্ধের কারণেই কালো চুল সাদা বর্ণের রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট চুলের গোড়ায় থাকা ফলিকলের মধ্যকার পিগমেন্ট কোষগুলো যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন চুল সাদা হবে না। দ্রæত চুল পাকার জন্য জিনগত কারণ অনেকটা দায়ী। সাধারণত মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে চুল পাকতে পারে। হজমের সমস্যা বা লিভারের সমস্যার ফলেও চুল অকালে পেকে যায়। এছাড়াও স্ট্রেস, কম ঘুম, অতিরিক্ত ধূমপান, প্রতিদিন শ্যাম্পু করা, চুলে ভিটামিন ই, এ ও ডি এর অভাবে অকালে পাকতে পারে চুল।

কালো চুলের উপর প্রভাব

কালো চুলের উপর প্রভাব

কালো চুলের উপর প্রভাব
অনেকের ধারণা পাকা চুল তুললে অন্য চুলের উপর প্রভাব ফেলে অর্থাৎ অন্য চুলও পাকতে শুরু করে। ফলে পাকা চুল উপড়ে ফেলেন। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা চুলের গিপমেন্ট কোষ মারা গেলে তার পাশের চুলের কোষে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। তাই কালো চুলের ফাঁকে ফাঁকে দু একটা সাদা চুল দেখলেই টেনে তোলার জন্য ব্যস্ত হওয়া ঠিক না।

বারবার টেনে তোলার ক্ষতিবারবার টেনে তোলার ক্ষতি
সাদা চুল বারংবার উপড়ে নিলে আবারও সেখানে সাদা চুলই গজায়। তাই টেনে তুললেও পাকা চুল থেকে নেই মুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চুলের ফলিকল থেকে একটাই চুল গজানো সম্ভব। তাই যে চুলে পাক ধরেছে তার অর্থ হলো সেই চুলের ফলিকলের পিগমেন্ট কোষ মৃত। এরপর যতই সেখান থেকে চুল টেনে ফেলে দেবে সেখানে বারবারই সাদা চুলই গজাবে। বরং পাকা চুল টেনে তোলার কারণে সেই ফলিকলটি ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে একপর্যায়ে সেই ফলিকল থেকে চুল গজানোই বন্ধ হয়ে যাবে।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চুলে কখনো না কখনো পাক ধরবেই। তাই সাদা চুলকে কালোর মতোই ভালোবেসে মাথায় রেখে দিতে হবে। তা না হলে বারবার চুল টেনে তোলার কারণে সেখানে ঘা দেখা দিতে পারে, স্থায়ীভাবে দাগ হয়ে যেতে পারে। এমনকি পাতলা হয়ে যেতে পারে চুলের ঘনত্ব। এছাড়াও অন্য চুলের তুলনায় চিকন ও মসৃণ হয়ে যেতে পারে। কারণ চুলের ফলিকল যখন পিগমেন্ট তৈরি করতে পারে না তখন সেখানে সেবামও উৎপাদন হয় কম।

অকালে চুল পাকা রোধে করণীয়

অকালে চুল পাকা রোধে করণীয়

অকালে চুল পাকা রোধে করণীয়
প্রতিরাতে চুলের গোড়ায় লেবুর রসের সাথে তেল ম্যাসাজ করে সকালে ধুয়ে নিতে হবে।
এক চামচ আদার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু নিয়মিত খেলেও অকালে চুল পাকা রোধ হতে পারে।

চুল অকালে পেকে যাওয়া ঠেকাতে নিয়মিত চুলের গোড়ায় পেঁয়াজবাটা ম্যাসাজ করে আধঘন্টা রেখে ধুয়ে নিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
অকালে পেকে যাওয়া চুলে মেহেদীর ব্যবহার বেশ প্রাচীন। মেহেদীর সাথে শর্ষের তেল মিশিয়ে নিলেও মুক্তি মিলতে পারে।

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three + 14 =