পায়ে পায়ে বর্ণিল বাহার

করেছে Rodoshee

শীতের মন ভালো নেই। কদিন পরেই তাকে বাড়ির পথ ধরতে হবে। কী আর করা! তবে বিকেলের পর থেকে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। শীত সময়ের ফ্যাশন নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে পায়ের দিকের নজর কি কম? তবে ফ্যাশন সচেতনরা কিন্তু সব বিষয়েই এক্সপার্ট। তাদের পায়ে পায়ে দেখা যাচ্ছে জুতার বর্ণিল বাহার। শীত সময়ের বর্ণিল জুতা নিয়ে আয়োজন-

জুতার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। তাই সময় যা হোক একটু ভেবেচিন্তে জুতা নির্বাচন করা উচিত। তবে শীতের ফ্যাশনে সবার আগে মনে রাখতে হবে, বছরের বাকি সময়ের চেয়ে এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা থাকে কম। তাই সহজেই শুকিয়ে যায় ত্বক। আর পায়ের চামড়া তুলনামূলক পুরু হওয়ায় শুকিয়ে ফেটে যায়। জুতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্টাইলেরও আগে তাই চলে আসে সুরক্ষার কথা। ম্যাটেরিয়ালের ক্ষেত্রে তাই সময়োপযোগী উপকরণ দরকার হয়। এখনকার তরুণীরা শীতে স্নিকার, ক্যানভাস, ব্যালেরিনা, ব্যালেরিনা কাট নাগরা স্টাইল জুতা কিংবা হাই হিল, সেমি হিল জুতা বেশ পরছে। সকালে হাঁটার অভ্যাস থাকলে কিংবা কাজের ধরনে দৌড়ঝাঁপ করার ব্যাপার থাকলে বেছে নিতে পারো কেডস। তবে সে ক্ষেত্রে পোশাকটি যেন মানানসই হয়, সেদিকে খেয়াল রাখো। কেডসের ব্যবহার পায়ের ক্লান্তি আনে না সহজে। সহজেই তাই দীর্ঘক্ষণ কাটিয়ে দেওয়া যায়। হিমেল হাওয়াতেও দেয় আরাম।

পশ্চিমা লুকে যেমন জুতা

পোশাকটি যদি হয় পশ্চিমা ধাঁচের, তবে সহজেই তার সঙ্গে মানিয়ে যায় চলতি ট্রেন্ডের অনেক কিছুই। নকশায় সে ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারো স্নিকার বা ক্যানভাস। স্মার্ট লাগে ব্যালেরিনায়ও। শীতে প্রাধান্য পাচ্ছে টেক্সটাইল, মাইক্রোফাইবার, সিনথেটিক লেদার আর সব সময়ের পছন্দ লেদারও। তবে খাঁটি চামড়ায় তৈরি জুতার দাম খানিকটা বেশি হওয়ায় বাকিগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ সময়। জিনসের সঙ্গে উঁচু হিল খুব একটা ট্রেন্ডি নয়। তবু স্টাইল যেহেতু একেবারেই ব্যক্তি পছন্দের বিষয়, তাই কেউ উঁচু হিল বেছে নিলেও মাথায় রাখতে হবে আরামের বিষয়টি। এমনিতে জিনসে ফ্ল্যাট জুতা মানিয়ে যায় বেশ। ফ্ল্যাট জুতায় স্নিকার, ক্যানভাসের পাশাপাশি এখন ব্যালেরিনা তরুণীদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকে। স্কার্ট বা লং গাউনের সঙ্গেও এই জুতাগুলো মানিয়ে যাচ্ছে। আর কেউ যদি হিল পরতে চাও, তবে পা ঢাকা বক্স হিলে অনায়াসে থাকবে স্বচ্ছন্দ।

যদি হয় বাঙালিয়ানা

বাঙালি নারীর পোশাকে পছন্দের তালিকায় প্রথমেই থাকে শাড়ি। আর শীতে তো উৎসব লেগেই থাকে। শাড়ি তাই পরাই হয়। এ ক্ষেত্রে শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে শীতের পোশাকের স্টাইলে যেমন এসেছে ভিন্নতা, তেমনি বাদ যাচ্ছে না জুতার ফ্যাশনের দিকটিও। খোলা জুতার চেয়ে শীতে এগিয়ে থাকে পা বন্ধ জুতাগুলোই। এখন তো হাই হিল বা সেমি হিলেও শু স্টাইল বেছে নিচ্ছে হালফ্যাশনে আগ্রহী তরুণীরা। ভুলছে না শীতের হাওয়ায় ত্বক রক্ষার সঙ্গে আরামের কথাও। যারা কাপড়ের জুতা বেছে নিচ্ছে এই শীতে, তারা কেনার আগে কাপড়ের মান দেখে নাও। জুতা কতটা টেকসই হবে তা নির্ভর করে কাপড়ের মানের ওপরই। জুতা কেনার ক্ষেত্রে যদি বাজেট একটু কম হয়, তবে রেক্সিন ম্যাটেরিয়ালের জুতাও বেছে নিতে পারো। মনের মতো নানা নকশা মিলছে রেক্সিনেও।

রংবাহারি

জুতার নকশার সঙ্গে রঙের বাছাইও জরুরি। এখন পোশাকের মতো জুতার ডিজাইনেও চলছে নানা রঙের মিশ্রণ। উজ্জ্বল রঙের রাজত্ব এখন জুতার ফ্যাশনেও। চিরায়ত সাদা, কালোর পাশাপাশি দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিচ্ছে লাল, কফি, সোনালি, রুপালি, ক্রিম, সবুজ। আছে মাল্টিকালার জারদৌসি নকশার জুতাও। ম্যাটেরিয়াল নাগরার কিন্তু নতুনত্ব এসেছে ব্যালেরিনা কাটে।

কমফোর্ট তো? জুতা কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে, এটি যাতে পরতে আরামদায়ক হয়। অনেকক্ষণ পায়ে থাকবে, অতএব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে অসুবিধায় পড়তে হবে। তা ছাড়া চলতি সময়ের স্টাইল কিংবা ট্রেন্ড কী, তা বোঝা দরকার। ফ্যাশন, উপলক্ষ, কোন পোশাকের সঙ্গে পরবে, কখন পরবে ইত্যাদি মাথায় রাখতে হবে। ফ্যাশনের রেসে গিয়ে ভুল জুতা কিনলে চলবে না। এতে পায়ের ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জুতার দোকানে তোমাকে কিছুটা সময় দিতে হবে। ম্যাটেরিয়াল, জুতার ইন সোল, ভেতরের দিকটা এবং সোল ভালোভাবে দেখে কিনো। সারা দিনের তোমার সঙ্গী যেহেতু জুতা তাই এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। তবে তুমি কোথায় যাচ্ছো এর ওপরও নির্ভর করে অনেক কিছু।

গন্তব্য কোথায়

অফিস, ক্লাস কিংবা আড্ডা সব জায়গাতেই জুতাজোড়া হওয়া চাই মানানসই। এখনকার তরুণীরা পছন্দের সালোয়ার-কামিজ কিংবা শাড়িতে নিজের লুকে ভিন্নতা আনতে মানানসই স্যান্ডেল বা উঁচু হিলের জুতা পরে থাকে। সাজ কে পরিপূর্ণতা দিতে পোশাকের সঙ্গে জুতার ম্যাচিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। নতুন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সব বয়সী মেয়েরাই গ্ল্যাডিয়েটর, মিডনাইটস স্টোরি ও জুয়েলারি থিমের সব নান্দনিক স্যান্ডেল পরে থাকে। তাই পোশাকের পাশাপাশি এখন অনেকে জুতাও পরিবর্তন করছে। তবে ফ্যাশনেবল জুতা মানেই সবার ধারণা থাকে হাই হিল নিয়ে। ফ্যাশন ট্রেন্ডের এই সময়ে সে ধারণা পাল্টে গেছে। ফ্যাশনের পাশাপাশি আরামের বিষয়টিও এখন প্রাধান্য পাচ্ছে সমানভাবে।

টিপসগুলো দরকারি

* জুতা ভিজে গেলে কখনো আগুন বা কড়া রোদে শুকাবে না।

* জুতা পরার সময় জোর করে পা ঢোকাবে না। একেবারে এঁটে থাকে এ ধরনের জুতা এড়িয়ে চলো।

* আবরণওয়ালা জুতা নিয়মিত পরলে অবশ্যই দিনে কয়েক ঘণ্টা পায়ে যেন বাতাস লাগে, সে ব্যবস্থা করবে।

* উঁচু বা হিল জুতা র‌্যাকে রাখার সময় ফ্ল্যাটভাবে শুইয়ে রাখবে। জুতা দুটির মুখ একে অপরের বিপরীতে থাকবে।

* চটি জুতার সোল ক্ষয়ে গেলে সেটা তাড়াতাড়ি পরিবর্তন করে নিতে হবে।

* যাদের পা খুব ঘামে, তারা আবরণওয়ালা জুতা না পরলেই ভালো করবে।

লেখা: সুরাইয়া নাজনীন

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 − eight =