পিসিওএসঃ ব্যায়ামেই মিলবে মুক্তি?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

নারীদের কাছে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে আতঙ্কিত যে বিষয় তা হল পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম। অনিয়মিত ঋতুচক্র, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, চুল পড়া এমনকি বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যার সূত্রপাত হয় এই পিসিওএস এর কারণে। আতঙ্কিত না হয়ে এর ব্যাপারে জানা এবং সচেতন হওয়া সকলের জন্য জরুরী।

বর্তমানে যাকে পিসিওএস বলা হয় সেই রোগের প্রাচীনতম বর্ননা পাওয়া যায় ১৭২১ সালে ইটালিতে। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হল মহিলাদের মধ্যে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) এর মাত্রা বেড়ে যাবার জন্য কিছু উপসর্গের সমাহার। পিসিওএস আসলে একটি হরমোনজনিত ব্যাধি। পলি কথার অর্থ অনেক। সুতরাং পলিসিস্টিক মানে হল অনেকগুলো সিস্ট। পিসিওএসের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল জরায়ু থেকে ডিম নির্গত না হওয়া। তার পরিবর্তে যা ঘটে তা হল ডিমের চারপাশে তরল জমে সেগুলো সিস্টে পরিণত হয়। আর এই সিস্ট ডিম্বাশয় থেকে ডিম বের হতে বাধা সৃষ্টি করে এবং এভাবে একসময় ডিম বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ এন্ডোক্রিন গ্রন্থির রোগ হল পিসিওএস। এই বয়সের প্রায় ২% থেকে ২০% মহিলা এই অসুখে আক্রান্ত।

পিসিওএস এর সাধারণ লক্ষণ

-মাসিকের অনিয়ম

-অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি

-স্থূলতা

-অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন বা ডিম্বস্ফোটন ব্যর্থতার কারণে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা

-মাথার চুল পড়া ও পাতলা হয়ে যাওয়া

-ব্রণ

পিসিওএস এর কারণ

অতিস্থূলতা, যথেষ্ট ব্যায়াম না করা, পারিবারিক ইতিহাসে আগে কারো হয়েছে এমন হলে তার সাথে এর যোগসাজশ আছে বলে ধারনা করা হয়। কিছু প্রমাণ থেকে জানা গেছে এটি একটি জেনেটিক রোগ। এই প্রমাণ গুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, পারিবারিক ইতিহাসে বেশি দেখতে পাওয়ার ক্ষেত্রে, এন্ডোক্রিন ও বিপাকীয় লক্ষণে পিসিওএস এর উত্তরাধিকারিতা থেকে। মোট কথা, এর অজানা কারনের জন্য পিসিওএস একটি হেটারোজেনাস ডিসঅর্ডার।

ব্যায়ামেই মিলবে মুক্তি?

অস্বীকার করার কিছু নেই যে, ব্যায়াম অসংখ্য সুবিধা দেয় এবং জীবনযাত্রার উন্নতি করে। কিন্তু এর সুবিধাগুলো কি পিসিওএস এর ক্ষেত্রে একই কাজে দেয়? যেহেতু একাধিক কারণে পিসিওএস এর জটিলতা তৈরি হয় তাই একক কোন চিকিৎসা নেই এটি ভাল করার তবে পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জটিলতা নিরসন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। সিন্ড্রোমে আক্রান্ত প্রায় ৫০-৬০% মহিলা সাধারণ জনসংখ্যার ৩০% মহিলাদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল। জীবনধারায় পরিবর্তন, যেমন ডায়েট কন্ট্রোল, ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রনের উপর গুরুত্ব দিয়ে পিসিওএস দূর করা সম্ভব। ওজন হ্রাস একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কৌশল কারণ এটি কার্যত পিসিওএস এর প্রতিটি প্যারামিটারকে উন্নত করে। যদিও এই সময় ওজন কমানোকে কঠিন করে তোলে। রোগী যদি নিজের ওজন পাঁচ শতাংশ কমাতে পারে, তাহলে তাদের পিরিয়ড নিয়মিত হতে শুরু করবে। আর ওজন দশ শতাংশ কমাতে পারলে ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। এখন থেকেই যদি খুব বেশি সক্রিয় না হয়ে থাকো তবে নিয়মিত ব্যায়াম করার এই সমস্ত আলোচনা অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হতে পারে। তাই ডায়েটের পাশাপাশি যেকোন ধরনের ব্যায়াম শুরু করতে হবে, এমনকি দ্রুত দশ মিনিটের হাঁটাও সামগ্রিক সুস্থতার অনুভূতি উন্নত করতে পারে। এছাড়াও যোগব্যায়াম পিসিওএস এ আক্রান্ত মহিলাদের প্রচুর সুবিধা প্রদান করে। যোগব্যায়াম উদ্বেগ, ডিম্বস্ফোটন, হরমোন এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়াগুলোকে উন্নত করতে পারে।

তবে সব কিছুর সাথে সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, পিসিওএস এ ওজন কমানো অনেক সময়ের ব্যাপার।এর অগ্রগতি অনেক ধীর গতিতে ঘটে বলে ধৈর্যহারা হলে চলবেনা। প্রত্যেকের শরীরের ধরন আলাদা তাই অন্য কারো ওজন কমানোর যাত্রার সাথে নিজের তুলনা করা এড়িয়ে চলতে হবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

12 + thirteen =