পূজোর আগে নিজের যত্ন

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

হাঁটি হাঁটি পা পা করে পূজা প্রায় চলেই আসলো। ঢাক-ঢোলের তালে আনন্দময়ীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত সবাই। ষষ্ঠী থেকে দশমী এই পাঁচদিন উৎসবমুখর পরিবেশে চলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এই বিশেষ দিনে বিশেষ আয়োজনে নিজেকে একটু পরিপাটি ও সুন্দর করে তোলার জন্য প্রয়োজন আগাম কিছু যত্ন।

‘আসছে বছর আবার হবে’- এই প্রতীক্ষায় থেকে অবশেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এসে পড়লো। গতকাল (২৫ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে যায়। ষষ্ঠীতে দুর্গার বোধন থেকেই শুরু হয়ে যায় পূজার আচার-ব্যবস্থা। মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে দর্শন, অঞ্জলি দেয়া , সাথে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া করা সবকিছুই পারফেক্টলি হয় যদি  নতুন জামা, শাড়ি, গহনার সাথে নিজেকে ভালোভাবে প্রেজেন্ট করা যায়। আর তার জন্য  নিতে হবে নিজের যত্ন।

ত্বকের যত্ন

-ত্বকের যত্নের প্রথম শর্তই হলো ত্বক ক্লিন রাখা। স্কিন কেয়ার রুটিনে ক্লিঞ্জিং> টোনিং> ময়েশ্চারাইজিং এই ধারাবাহিক ক্রমটি অনুসরন করতে হবে

-টোনার ত্বকের পিএইচ-র লেবেল ঠিক রাখে। তাই ক্লিঞ্জিং এর পর টোনার এবং ময়েশ্চাইজারের পূর্বে সিরাম ব্যবহার করতে হবে

-পার্লার থেকে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল করিয়ে  নিলে ভালো হয় অথবা ফেসিয়াল কিট কিনে বাসায় বসেও করে নেয়া যায়।

-ঘরোয়া কিছু ফেসপ্যাক বানিয়েও ত্বক উজ্জ্বল রাখা যায়। চালের গুঁড়ার সাথে পরিমান মত টমেটো পেস্ট এবং সামান্য দুধ দিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে ব্যবহার করা যায়। এই মাস্ক মুখের কোলেজেনকে ইম্প্রুভ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও টক দই ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে মুখ ও গলায় ব্যবহার করলে উজ্জ্বল ও কোমল ত্বক পাওয়া যায়।

– চিয়া সিডে আছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। ইনস্ট্যান্ট জেল্লা পেতে চাইলে কাঁচা দুধের সাথে এটা ভিজিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে ব্যবহার করা যাবে। তবে বেশি সময় পর্যন্ত এটা মুখে লাগিয়ে রাখা যাবেনা।

চুলের যত্নঃ

-ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে যেমন স্কিন ক্লিন রাখা প্রয়োজন তেমনি চুলের ক্ষেত্রেও স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলেই চুল ভালো থাকবে। চুলের জন্য যেটা বেশি প্রয়োজন তা হল তেল। নারকেল তেলের সাথে পছন্দের যে কোন এসেনশিয়াল অয়েল মিক্স করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে হাল্কা হাতে ম্যাসেজ করে নিতে হবে। এছাড়া ক্যাস্টর অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে। নারকেল তেলের সাথে এটা মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হবে।

-মোটা দাঁতের চিরুনী দিয়ে প্রতিদিনই চুল আঁচড়াতে হবে। এতে মাথার রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে।

-পার্লারে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে বাসায় বসে প্রোটিন হেয়ার প্যাক বানিয়ে চুলে লাগানো যাবে। কলা, ডিম,টকদই, মধু মিশিয়ে এই প্যাক চুলে ১-২ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

-এই প্যাচপ্যাচে আবহাওয়ায় রোদ-বৃষ্টির খেলায় চুলের বারোটা বাজতে সময় লাগবে না। তার জন্য জরুরি প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করা। তাহলে চুলের গোড়ায় ঘাম জমতে পারবেনা। আর এর জন্য ভালো কোন মাইল্ড বা হার্বাল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার হিসেবে হাল্কা চায়ের লিকার অথবা সামান্য ভিনেগার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চুলে শাইনিং ভাবটা আসবে।

হাত-পায়ের যত্ন

-ত্বক ও চুলের যত্নের পাশাপাশি হাত-পায়ের যত্নের কথা ভুললে চলবেনা। এটাই সবচেয়ে বেশি জরুরী। বেসন, কাঁচা হলুদ, লেবুর রস এবং সামান্য দুধ দিয়ে মিশ্রন বানিয়ে তা হাত ও পায়ে ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

-এলোভেরার থকথকে জেলের প্রলেপ লাগিয়ে রাখতে হবে। প্রাকৃতিক এই জাদুকরী উপাদানে হাত পায়ের স্কিন ভালো থাকে।

-ঈষদুষ্ণ পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখা যায়। সাথে একটু লবন এড করা যেতে পারে। এতে পায়ের অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।

-টকদই সানট্যান কমাতে বেশ কার্যকরী। টকদইয়ের প্রলেপ ও লাগিয়ে রাখা যেতে পারে।

সর্বোপরি নিজেকে সুস্থ রাখতে তাজা শাকসবজি, ফল ও প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার ও প্রর্যাপ্ত বিশ্রাম দেহ ও মন উভয়েই ভালো রাখে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 + seven =