পেতে চাইলে সুন্দর পৃথিবী

করেছে Wazedur Rahman

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশদূষণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কথা কমবেশি আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর প্রতিকার বা প্রতিরোধ নিয়ে ভাবি কজন? বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কিংবা জলবায়ুদূষণের মতো খটোমটো বিষয় নিয়ে কাজ করা বুঝি শুধুই উন্নয়নকর্মীদের কাজ! কিন্তু আমরা কি জানি আমাদের প্রত্যেকের হাতেই আছে প্রিয় পৃথিবীকে এর ভয়াবহ হুমকি থেকে রক্ষা করার হাতিয়ার? কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপই পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। চলো একবার চোখ বুলিয়ে নিই কী কী করা যেতে পারে-

গাছ লাগানো

গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা কমবেশি আমরা সবাই জানি, একটা সুস্থ-সবল বৃক্ষ বছরে ৪৮ পাউন্ডের মতো কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে, যেখানে ৪০ বছর বয়সে এটি শোষণ করে ফেলে প্রায় ১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা কিনা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। তবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানেই যে আয়োজন করে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে নেমে পড়তে হবে মাটির খোঁজে, তা কিন্তু নয়! আর যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায়, শহুরে দালানকোঠার ভিড়ে তার সুযোগই বা কোথায়! তাই বলে কি থেমে থাকবে গাছ লাগানো? একদমই না! পৃথিবীর পরিচর্যায় একটু হাত লাগাতে আর চোখটাকে একটু প্রশান্তি দিতে বাড়ির বারান্দায় কিংবা ছাদের কোণেই তৈরি করে ফেলতে পারো এক টুকরো সবুজের বাগান।

ঘরের কোণে লাগানোর এই গাছগুলোর জন্য সূর্যালোক প্রয়োজন হয় না, শুধু নিয়মিত পানি দিলেই চলে। ঘরে লাগানোর জন্য লতাঝাউ, বাঁশপাতা, চায়নিজ বট, স্পটেড পাতাবাহার, স্প্রিং পাতাবাহার, চায়নিজ পাম, পিনাচ, শেওড়া, সাফেলেরা, ওয়াটার বনসাই, টাইমফুল, ক্যাকটাস ইত্যাদি বেছে নিতে পারো। বারান্দায় ঝুলিয়ে দিতে পারো মানিপ্ল্যান্ট, অপরাজিতা বা কুঞ্জলতা। এই গাছগুলোর দাম পড়বে ৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ছাদে লাগাতে পারো বিভিন্ন ফল বা লেবু কিংবা মরিচগাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ, যেমন হাসনাহেনা, চন্দ্রমল্লিকা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, কামিনী ইত্যাদি লাগাতে পারো। এগুলো যেমন তোমার ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে, তেমনি পরিবেশ রক্ষা করতেও সাহায্য করবে।

বর্জ্য পদার্থ সঠিকভাবে অপসারণ করা

পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্যগুলো অপসারণ করা। প্রতিদিন হরহামেশাই চিপসের প্যাকেট, কলার খোসা, কাগজ, প্লাস্টিকের বোতল, উচ্ছিষ্ট খাবার কিংবা নিজের অজান্তেই থুতু কিংবা পানের পিক রাস্তায় আমরা ফেলে থাকি। বিষয়গুলো খুব ছোট হলেও তারা পরিবেশের ক্ষতি করে আসছে। একটি প্লাস্টিকের বোতল পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এরা জমির উর্বরতা নষ্ট করে দেয়, নগরজীবনে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায়, শেষ পর্যন্ত জমা হতে পারে সাগরে যেখানে তারা সামুদ্রিক পানির জীবন হুমকির মুখে ফেলে। এ তো গেল কেবল একটি উদাহরণ। এমন হাজারো সমস্যা তৈরি হয় যেখানে সেখানে বর্জ্য পদার্থ ফেললে। তা ছাড়া একটি সুন্দর মনের জন্য চাই সুন্দর পরিবেশ। আর সেই পরিবেশ যদি হয় অপরিষ্কার, তাহলে তোমার দিনটি মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

শক্তির অপচয় কমানো

ঘরকন্নার একটা বিশেষ গুণ হলো সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করা। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং তা থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ কিন্তু আজীবনের জন্য নয়! একসময় জীবাশ্ম জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে আর সেই সঙ্গে মানবসমাজ পড়বে হুমকির মুখে। শুধু তাই কি? জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড আর সালফার ডাই অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে পরিবেশের তাপমাত্রা। তাই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় রোধ করাটা জরুরি। অযথা লাইট-ফ্যান চালানো থেকে বিরত থাকতে পারো। গ্যাসের চুলাটা অকারণেই জ্বলছে? নিভিয়ে ফেলো। ভালো একটা কাজের জন্য দু-একটা ম্যাচের কাঠি বেশি খরচ হলে ক্ষতি কী! ঘরের গিন্নি হিসেবে যেমন বাসার খরচটা সামলে চলো, তেমনি অযথা বিদ্যুৎ আর গ্যাস বিলের হিসাব থেকে বেঁচে যাক খরচের খাতাটাও!

খাবারের বেলায়ও যত্নশীল

শুনতে অদ্ভুত শোনালেও আমাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসও কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ! কখনো চিন্তা করেছ, যে খাবারটা খাচ্ছো তা কোথা থেকে, কীভাবে আসে? আমাদের এক বেলার খাবার আমাদের ডাইনিংয়ে এসে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল যাত্রা করতে হয়! এ ছাড়া এর উৎপাদন, প্রস্তুতকরণ, শিপিং, প্যাকেজিং তো আছেই! প্রতিটি ধাপেই রয়েছে কার্বনের চোখ রাঙানি। তাই খাবারটা নষ্ট করো না! খাবারের তালিকা থেকে পারলে আজই বাদ দাও মাংসজাতীয় আইটেমগুলো। কারণ, বৈশ্বিক কার্বন উৎপাদনের ১৪ থেকে ৫০ ভাগই আসে পশুপালন থেকে। এতে সুস্থ থাকবে তুমি, তোমার পরিবার আর সুস্থ থাকবে তোমার চারপাশের পরিবেশটাও!

 

মোটরচালিত গাড়ির জায়গায় সাইকেল

যাত্রাপথে অনেক নারীই আজকাল বেছে নিচ্ছে সাইকেল। মোটরগাড়ি বা কারের কালো ধোঁয়ায় মিশে থাকে বিষাক্ত সব অক্সাইডস যা ওজোনস্তরের ক্ষতির জন্য দায়ী। তাই শেখা না থাকলে শিখে নিতে পারো সাইকেল চালানোটা। আজকাল প্রচুর সংগঠন মেয়েদের সাইকেল চালানো শিখিয়ে থাকে। একদম পারতপক্ষে বেছে নিতে পারো পাবলিক বাস কিংবা রাইড শেয়ারিংয়ের অপশনগুলো। এতে রাস্তার ট্রাফিক জ্যামটাকে যেমন হালকা করে দিতে পারছ, তেমনি পরিবেশটাকেও দিতে পারছ স্বস্তি!

 

লেখা: লেনা আলফি

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 − 5 =