প্রকৃতির টানেই ট্রাভেল ট্র্যাকারের জন্ম

করেছে Sabiha Zaman

আলো-আঁধারের সময় পার করছে পর্যটনশিল্প। কিন্তু মানুষের স্বপ্নের তো শেষ নেই। যারা পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত, তারা আশাবাদী এই শিল্প নিয়ে। তারা মনে করে, সময়ের সঙ্গে আবার ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প। এমনই একজন আশাবাদী মানুষ এমদাদুল্লাহ সৈকত। তার ট্রাভেল এজেন্সি ট্রাভেল ট্র্যাকার আর পর্যটনশিল্প নিয়ে কথা বলেন রোদসীর সঙ্গে। লিখেছেন সাবিহা জামান

ট্রাভেলিংয়ের প্রতি আমার বাড়তি আকর্ষণ কাজ করে সব সময়। ২০০৬ সালের দিকে আমি একাই দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতে শুরু করি। একটা পর্যায়ে বুঝতে পারি, ভ্রমণ আমার কাছে নেশার মতো। এর মাঝে জীবনের নানা পরিবর্তন। কিন্তু কাজ আমার আইটি সেক্টরে। পাঁচ বছর চাকরি করেছি আর ঘুরে বেড়িয়েছি দেশ-বিদেশ। একটা সময়ে আমি বুঝতে পারি, এই দালানকোঠা, কম্পিউটার ডেস্ক কিছুই আমার পছন্দ নয়। আমাকে টানে পাহাড়-সমুদ্র এককথায় বলতে গেলে প্রকৃতি আমাকে মুগ্ধ করে রাখে। সিদ্ধান্ত নিলাম পর্যটনশিল্প নিয়ে কাজ শুরু করব। এ ভাবনা থেকেই নিজের প্যাশন আর প্রকৃতি নিয়ে কাজ করতে উদ্যোগ নিলাম ২০১৭ সালের দিকে। যাত্রা শুরু করল আমার ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রাভেল ট্র্যাকার’ এভাবেই বললেন সৈকত।

‘আমরা সব মানুষের কথা ভেবেই কাজ করি, যাতে করে সবাই নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ব্যাপারে আমরা বেশি সচেতন। বলা যেতে পারে আমাদের ট্রাভেল এজেন্সি যথেষ্টই নারীবান্ধব। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুরুষদের চেয়ে নারী ট্রাভেলারদের আগ্রহ বেশি আমাদের ট্যুর নিয়ে। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে, আমরা যেকোনো নারী ট্রাভেলারের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকি। নারীদের জন্য আমাদের নারী গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি শুধু নারীদের জন্য আলাদা ট্যুরের আয়োজনও আমরা করে থাকি।’

করোনা পরিস্থিতি ট্যুরিজমে কেমন প্রভাব ফেলেছে, এ নিয়েও কথা বলেন এমদাদুল্লাহ সৈকত। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ট্যুরিজম ব্যবসার ওপর বড় প্রভাব পড়েছে। ২০২০ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০ লাখ জনবল বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের ওপর নির্ভরশীল কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময় চলেছে লকডাউন। বন্ধ ছিল পর্যটন কেন্দ্রগুলোও। যার ফলে দেড় বছরে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পড়েছে বিপাকে। অনেকেই পর্যটন ব্যবসা থেকে সরে এসেছে। ট্যুরিজম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

করোনার প্রভাবে সামগ্রিকভাবে আমাদের ট্রাভেল ট্র্যাকারেও প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ সময় পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আমাদের কোনো কাজ ছিল না। আমরা না চাইলেও আমাদের টিম ছোট করে আনতে হয়েছে। বলতে গেলে আমি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করেছি এই সময়ে। টিকে থাকার জন্য ব্যবসার পাশাপাশি আবার চাকরি আর আইটি সেক্টরের কাজ শুরু করি। আমার কাছে ট্রাভেল ট্র্যাকার স্বপ্ন, তাই পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দেশের ভেতর কয়েকটি ট্যুরে গিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব দ্রুত দেশের বাইরে ট্যুর শুরু করব।’

লকডাউন-পরবর্তী পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে সৈকত আরও জানান, লকডাউনের দরুন ঘরবন্দি অবস্থায় অনেকে হাঁপিয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যারা ভ্রমণ করতে ভালোবাসে তারা। লকডাউন-পরবর্তী সময়ে ভ্রমণপ্রেমিকদের জন্য আমরা রাখছি দেশ ও দেশের বাইরের জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর আকর্ষণীয় কিছু প্যাকেজ। সব ধরনের মানুষের কথা ভেবে আমরা প্যাকেজগুলো সাজিয়েছি। স্বল্প খরচে ডে ট্যুর থেকে শুরু করে প্রাইভেট বিলাসবহুল ট্যুরের ব্যবস্থা রেখেছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বর্তমানে গণটিকা প্রদান করছে, যেটি নিঃসন্দেহে সময় উপযোগী উদ্যোগ। পর্যটনশিল্প চরম দুঃসময় পার করছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’

https://www.facebook.com/travel7trackers/
পর্যটনশিল্প নিয়ে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে সৈকত বলেন, ‘আমাদের দেশে পর্যটনশিল্প নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। সঠিকভাবে কাজ করা গেলে আগামী দিনে পর্যটন খাত বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারের বিশেষ উদ্যোগ আর সহযোগিতা। এর পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তার বিষয়টিতেও জোর দিতে হবে। আমাদের পর্যটনশিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প, শুধু পরিস্থিতির শিকার হয়ে বর্তমানে একটু ক্ষতির দিকে আছে এই শিল্পটি, কিন্তু আমি আশাবাদী করোনার প্রকোপ কমলে আর সরকারের সহযোগিতা পেলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে এ শিল্প। এ বিপর্যয়কর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ নজর আর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন যারা এ পেশায় আসতে চান, তাদের উদ্দেশে সৈকত বলেন, পর্যটনশিল্পে কাজ করতে চাইলে এ পেশাকে ভালোবেসে আসতে হবে, শুধু অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে এলে চলবে না। ভালোবেসে কাজ করলেই সফলতা সম্ভব। সঙ্গে থাকতে হবে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আর দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা।

ছবি: ট্রাভেল ট্র্যাকার

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twelve + 10 =