প্রতিদিনের নাস্তায় কেন ডিম খাবে

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

ব্যস্ত নগরী, ব্যস্তময় জীবন। ঘড়ির দোলায় ছুটছে জীবন। কি শিক্ষার্থী আর কর্মজীবী অথবা  গৃহকর্ত্রী সবারই কাজের ফাঁকে নিজেকে দুদন্ড সময় দেয়ার অবকাশ নেই। তাই শরীর ভালো রাখতে নিজেকে ফিট রাখতে সকালে দরকার স্বাস্থ্যকর খাবার ,যা তোমাকে সারাদিনের জন্য করে রাখবে সতেজ।

সময় বাঁচাতে অনেকেই সকালের নাস্তায় মাখনযুক্ত টোস্ট বা ওটমিল গ্রহন করে থাকে। কিন্তু তোমার সাধারন টোস্ট এবং কফির পরিবর্তে ডিম হতে পারে আদর্শ একটি খাবার। এটি অনেক বেশি প্রোটিনযুক্ত এবং অন্যান্য খাবারের তুলনায় ওজন বৃদ্ধির হার কমাতে সাহায্য করে। কেন প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় ডিম রাখা উচিৎ এই নিয়ে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বেশকিছু কারন দেখিয়েছেন-

 

ডিম অধিকক্ষন পেট ভরিয়ে রাখেঃ

ডিমের প্রোটিন এবং ফ্যাট শরীরের শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘসময় পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে যার ফলে মধ্য-সকালের নাস্তার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ

যেহেতু ডিম অধিকক্ষন পেট ভরিয়ে রাখে তাই এই ওজন কমানোটা হল এর ফলো-আপ সুবিধা। গবেষণায় দেখা গেছে যারা সকালের নাস্তায় ডিম খায় তাদের ওজন কমানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ব্যালেন্সড ডায়েট মেইনটেইন করতে সকালে ব্রেড বা রুটির পরিবর্তে ডিম খাওয়া ভালো।

প্রোটিনের বড় উৎসঃ

একটি আস্ত ডিম প্রোটিনের সেরা উৎসগুলোর  মধ্যে অন্যতম। মাংস পেশি গঠন ও শরীরে কোষ গঠনে প্রোটিন সহায়তা করে। সকালের নাস্তায় একটি সেদ্ধ ডিম খেলে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।

ডিম সহজলভ্যঃ

রেড মিটের মত অন্যান্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারের তুলনায় ডিম বাজেট-ফ্রেন্ডলি এবং সহজেই তা হাতের কাছেই পাওয়া যায়।

কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করবেনাঃ

যদিও এটা সত্য যে ডিমে উল্লেখযোগ্য পরিমানে কোলেস্টেরল থাকে । কিন্তু এটি রক্তের কোলেস্টেরলকে প্রভাবিত করে তা ভুল প্রমানিত হয়েছে। তাই ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে তা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিঃ

ডিমে রয়েছে কোলিন, এটি এমন একটি অপরিহার্য পুষ্টি যা মস্তিষ্কের বিকাশ ও কার্যকারিতাকে উদ্দীপিত করে। এটি স্মৃতিশক্তি ধারন ও স্মরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি তা উন্নত করতে সাহায্য করে।

চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ

দুই ধরনের অ্যান্টিঅ্যাক্সিডেন্ট , লুটেইন এবং জেক্সানথিন ডিমে উপস্থিত থাকে। এবং এটি ইউভি এক্সপোজারের ক্ষতি থেকে চোখকে রক্ষা করে। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন এ। নারীদের প্রতিদিন ৭০০ মাইক্রোগ্রাম ও পুরুষদের ৯০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ প্রয়োজন। ডিম খেলে ৭৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ যুক্ত হয়।

হাড় ক্ষয় রোধ করেঃ

সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন ডি ,যা হাড় ও দাঁত মজবুত করে। খাবার থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহন করতে ও রক্তের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে ভিটামিন ডি সহায়তা করে। মানব দেহে প্রতিদিন ৬০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট ভিটামিন ডি প্রয়োজন যার মধ্যে প্রায় ৪৫ আন্তর্জাতিক ইউনিট আমরা ডিম থেকে পেতে পারি।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

five × 4 =