প্রতিদিন বাদাম খাওয়া কি ঠিক?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

বাদাম খেতে সবাই পছন্দ করে। খেতে মজাদার এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বাদামের কোন বিকল্প নেই। এতে উপস্থিত ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রোটিন যা স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু প্রতিদিন কি বাদাম খাওয়া শরীরের জন্য ভালো? আর খেলেই বা কতটুকু? আর কিভাবেই বা খেলে এর বেস্ট রেজাল্ট পাওয়া যায়? এর সব কিছু জানতেই আজকের এই আয়োজন।

কাঠ বাদাম, চীনা বাদাম, কাজু, পেস্তা, ওয়ালনাটের মতো বাদাম হলো সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার যা তুমি বেছে নিতে পারো। এগুলোতে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা প্রদাহ এবং কোষের মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বাদাম ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজগুলোর একটি সমৃদ্ধ উৎস। তারা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করে এবং জয়েন্টগুলোর জন্য উপকার করে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে প্রতিদিন বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য দারুন হতে পারে তবে নিশ্চিত করতে হবে যে তা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়।  এখন প্রশ্ন হলো কাঁচা বাদাম না ভাজা বাদাম কোনটা বেশি ভালো? রোস্টিং বাদামকে আরও সুস্বাদু করে তোলে তবে এটি তাদের মধ্যে থাকা চর্বিগুলোকে অক্সিডাইজ করতে পারে।  পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যেমন ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ হলো সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, একটি বাদাম যত বেশি থাকে তত কম স্থিতিশীল থাকে। ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন ই এই চর্বিগুলোকে অক্সিডেশনের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটা অনেকটা নির্ভর করে রোস্টিং এর তাপমাত্রার উপর। শুকনো রোস্টিং তেলে ভাজার চেয়ে অনেক কম ক্ষতি করে। মাঝে মাঝে খাওয়া হলে তাজা ভাজা বাদাম বড় সমস্যা নয়, শুধু সেগুলো সংরক্ষণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও, লবনবিহীন বাদাম খাওয়া উচিৎ কারন অত্যধিক লবণ উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

পরিমানে কতটুকু খাওয়া ভালো

বাদাম স্বাস্থ্যকর চর্বিতে পূর্ণ হলেও, সেগুলোতে ক্যালোরি বেশি হতে পারে। তাই ওজন না বাড়িয়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাদাম অন্তর্ভূক্ত করার চাবিকাঠি হলো সীমিত পরিমানে গ্রহন করা। গবেষণায় বলা হয় যে, প্রতিদিন সাধারণত ৬০ গ্রাম বা ২ আউন্স এর বেশি নয়, যার অর্থ এক মুঠো খাওয়া, আর নয়।

বাদাম খাওয়ার আদর্শ সময়

বাদামের বহুমুখী উপকারিতা ব্যাপারে তো জানলাম। কিন্তু তুমি জানো কি কোন সময়ে এটি খাওয়া হচ্ছে তাও এই স্বাস্থ্য উপকারিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?

সকাল

গবেষণায় দেখা গেছে যে, সকালে বাদাম খাওয়া সর্বাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা অর্জনে সহায়তা করে। ব্রেকফাস্টের সাথে নিয়মিত এগুলো খাওয়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে করতে, খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে এবং হার্টের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ক্লান্তি দূর করে এনার্জি লেভেল বারাতেও সাহায্য করে।

দুপুর

দুপুরের নাস্তা হিসেবেও বাদাম খাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘ দিনের কাজের জন্য স্ট্যামিনা প্রদান করে। তবে অতিরিক্ত যাতে না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাছাড়া, বিকালের নাস্তার জন্য একটি ফল সহ এক মুঠো বাদাম প্যাক করে নিতে পারো।

রাত

বাদাম রাতের খাবারে একটি পুষ্টিকর সংযোজন হতে পারে। তবে রাত্রি বেলায় কাজু জাতীয় বাদাম এড়িয়ে চলা ভালো কারন সেগুলো বদহজম এবং ঘুমের সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × three =