প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতাই আমাদের মূলমন্ত্র: ইনা

করেছে Suraiya Naznin

নতুন উদ্যোক্তা গঠন, সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের কল্যাণসহ সমাজের উন্নয়নমূলক সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাব । এই গ্রুপের ট্যাগ লাইন হলো, ‘প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা আমাদের মূলমন্ত্র।’ ঘরে বসে ফেসবুক প্লাটফর্মে কিভাবে ব্যবসা করছে এবং নারীরা নিজেদের কিভাবে গড়ে তুলছে সেসব বিষয় নিয়ে কথা হলো ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত জাহান ইনার সঙ্গে, কথা বলে লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন

স্বনির্ভরতার প্রত্যয়ে গঠিত হয়েছে ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাব। নারীদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উপজেলা পর্যায় থেকে। নতুন উদ্যোক্তা গঠন, সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের কল্যাণসহ সমাজের উন্নয়নমূলক সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এই গ্রুপ। এই গ্রুপের ট্যাগ লাইন হলো, ‘প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা আমাদের মূলমন্ত্র।’

ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত জাহান ইনা বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রযুক্তির উন্নয়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট জগৎটাও পৌঁছে গেছে অনেক শীর্ষে। কেনাকাটা, বিভিন্ন সেবা থেকে শুরু করে অনলাইনে ব্যবসা করা যাচ্ছে বিভিন্ন সেক্টরে। বর্তমানে অনলাইনে ব্যবসা করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন খুব অল্প সময়েই। আবার অনেকেই অনলাইন ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছেন শুধু প্রতিযোগিতার জন্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এমন কিছু নেই যা অনলাইনে পাওয়া যায় না। ঘরে বসে অর্ডার করে ঘরে বসেই ডেলিভারি সেবা পাচ্ছে। লাইভের মাধ্যমে প্রতিটি পণ্য দেখেশুনে বুঝে নেওয়ার সুবিধাসহ এখন অনেকেই পছন্দ না হলে রিটার্ন কিংবা এক্সচেঞ্জ সেবাটিও।’

 

ইসরাত জাহান ইনা

 

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৩ সালে অনলাইন বিজনেসে আমার যাত্রা শুরু, তখন ঢাকায় থাকতাম বাবার বাড়ি। বাবা মারা যাওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে স্থায়ীভাবে যশোরের ঝিকরগাছায় থাকা শুরু করি। তেমন কোনো পরিচিতি ছিল না এলাকায়। ছেলে স্কুলে ভর্তি করানোর পর অনেক জায়গায় আসা-যাওয়া শুরু হয়। অনেকের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয়। আবার ব্যবসা শুরুর চিন্তা করি। কিন্তু বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো লোকবল না থাকা। কে কিনবে, কেমন পণ্য চলবে ঢাকার সঙ্গে মিল পাচ্ছিলাম না। তখন দেখি ঝিকরগাছায় বেশ কিছু মেয়ে আছে খুব ট্যালেন্টেড। এরা নিজেরা ঘরে বসে ইউটিউব দেখে কাজ শিখছে। এদের মধ্য অনেকের পেজ ছিল কিন্তু পরিচিতি ছিল না। হঠাৎ একদিন মনে হলো দেখি একটা গ্রুপ খুলে, যে ঝিকরগাছায় কয়জন মেয়ে আছে যারা অনলাইনে বিজনেস করে, অনেকে আবার অনলাইনে কিনতে আগ্রহী। মাত্র ১৯ জন সদস্য নিয়ে শুরু করলাম ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাব। মাত্র এক মাসেই ৫০০ জন সদস্য হয়ে গেলাম। মাত্র এক মাসেই ব্যাপক সাড়া পেলাম সমগ্র ঝিকরগাছা থেকে। দুই মাসের মাথায় আমাদের সেল হওয়া শুরু করল। আর সেই থেকে এখন অব্দি আলহামদুলিল্লাহ ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাব থেকে সাতজন লাখপতির খাতায় নাম লিখিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম বেশ কিছু মেয়ে মিলে একত্র হয়ে কিছু করতে। এ অঞ্চলের মেয়েরা উড়তে চায়। উড়াল দেওয়ার জন্য তারা ডানা মেলে প্র¯‘তও ছিল। শুধু ছিল না একটা মুক্ত স্বাধীন আকাশ।

অনেক অনেক মেয়ে দূরদূরান্ত থেকে এসে শুধু একটি কথা বলে আপু আপনি আমাদের একটা প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন, যা আজ আমাদের একটা পরিচয় দিয়েছে। যশোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে সারা বাংলাদেশের কোনায় কোনায় পৌঁছে দিচ্ছে আমাদের ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাবের রেজিস্ট্রার সেলাররা। সহযোগিতা আমাদের গ্রুপের মূলমন্ত্র। তাই আমরা শুধু সেল করি না, সেলার ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তুলি নতুন বিজনেস ওমেন। তাদের শুধু বিজনেস শেখানো নয়, আত্মবিশ্বাসী করে তুলছি আমরা।’

 

ঝিকরগাছা লেডিস ক্লাবের পক্ষ থেকে বাচ্চাদের মধ্য ঈদ সামগ্রী বিতরনের সময়

‘আমি মনে করি, এই পরিচিতি আমাদের সাফল্যের প্রথম প্রাপ্তি। ঝিকরগাছা ছোট্ট একটা উপজেলা হলেও এখানকার জনগণ খুব আধুনিক আর স্বাধীনচেতা। ঘরে ঘরে ডিশলাইন আর ওয়াইফাই লাইনের ব্যবস্থা থাকায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এরা এদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত করে ফেলেছে। চিন্তাধারায় পরিবর্তন এনেছে। কিছু কিছু মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন না হলেও চিন্তার জায়গাটা অনেক বিস্তার পেয়েছে। মেয়েদের ঘর থেকে বের হওয়া একদিন যেখানে নিষিদ্ধ ছিল, আজ সেখানকার মেয়েরা ব্যবসা করছে, চাকরি করছে, বেকিং করছে, এমনকি ডেলিভারি ম্যানের কাজও করছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ দেশ যখন এগিয়ে, আমরা উপজেলার মেয়েরাও থেমে নেই। সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছি যাব। আমরা সব সময়ই একটা কথা বলি। আমরা নারী, আমরা সব পারি, আমরা পারব।’

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three × two =