প্রাণবন্ত হাসির উপকারিতা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

হাসি নিয়ে মাদার তেরেসার একটি বিখ্যাত উক্তি আছে, ‘আসুন আমরা সবসময় হাসির সাথে একে অপরের সাথে দেখা করি, কারণ হাসি ভালবাসার সূচনা করে’। হাসিকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, হতে পারে তা মুচকি হাসি কিংবা অট্টহাসি অথবা প্রাণখোলা হাসি; এই সুখী মুখের অভিব্যক্তির অনুভূতি শক্তিকে অস্বীকার করার কিছুই নেই। আমরা হাসির ক্ষমতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করি, তবুও বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের হাসির ভাণ্ডারও যেন ফুরিয়ে আসে। গবেষণা দেখায় যে, শিশুরা দিনে ৪০০ বার হাসে। সুখী প্রাপ্তবয়স্করা যারা দিনে ৪০-৫০ বার হাসে তাদের তুলনায় সাধারণ প্রাপ্তবয়স্করা যারা প্রতিদিন মাত্র ২০ বার হাসে।

হাসির প্রকারভেদ

গবেষণা মতে, তিনটি প্রাথমিক ধরণের হাসি রয়েছে। যেমন-

-রিওয়ার্ড বা পুরষ্কারমূলক হাসি যা অনুমোদন, সুখ, তৃপ্তি এবং অন্যান্য ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করে।

-এফিলিয়েশন বা অধিভুক্তি হাসি যা ইতিবাচক অভিপ্রায়, বিশ্বস্ততা, স্বকীয়তা, সমবেদনা এবং সামাজিক সংযোগের সাথে যোগাযোগ করে।

-ডোমিনেন্স বা আধিপত্য; অবজ্ঞা, ঘৃণা বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে হাসি। এই ধরনের হাসি তাদের প্রতি নির্দেশিত ব্যক্তিদের মধ্যে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) মাত্রা বাড়াতে দেখানো হয়েছে।

কেন হাসি গুরুত্বপূর্ণ?

মনোবিজ্ঞান হাসি সম্পর্কে কি বলে? হাসি আসল হোক বা না হোক, এটি শরীর এবং মনের উপর বিভিন্ন ইতিবাচক উপায়ে কাজ করতে পারে, যা তোমার স্বাস্থ্য, মেজাজ সব উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারে।

হাসি দীর্ঘজীবী করতে সহায়তা করে

হাসির উপকারিতার সবচেয়ে বড় অংশ হলো এটি তোমার সামগ্রিক জীবনকালকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রকৃত ও তীব্র হাসি দীর্ঘ জীবনের সাথে জড়িত। সুখী লোকেরা আরও ভাল স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু উপভোগ করে বলে মনে হয়। গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, সুখের আয়ু বছর বাড়াতে পারে- একটি সুখী, ইতিবাচক মেজাজ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া স্বাস্থ্যকর জীবনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয়

স্ট্রেস মুখ এবং অভিব্যক্তি সহ আমাদের সমগ্র সত্তায় ছড়িয়ে যেতে পারে। হাসি শুধুমাত্র আমাদের ক্লান্ত, জীর্ণ এবং অভিভূত দেখাতে বাধা দেয় না, এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। যখন মনের উপর চাপ সৃষ্টি হবে,তখন মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করতে হবে। এটি মেজাজ এবং সম্ভাব্য চাপের পরিচালনা করার ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

মেজাজ উন্নত করে

হাসি তোমাকে খুশি করতেও সাহায্য করতে পারে। পরের বার যখন হতাশ বোধ হবে, তখন একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করো; মেজাজ পরিবর্তিত হওয়ার একটি ভাল সম্ভাবনা রয়েছে। হাসির শারীরিক ক্রিয়া মস্তিষ্কের পথগুলোকে সক্রিয় করে যা মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। একটি সাধারণ হাসি নিউরোপেপটাইডের মুক্তিকে ট্রিগার করতে পারে যা স্নায়ু যোগাযোগ উন্নত করে। এটি ডোপামিন এবং সেরোটোনিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণও ঘটায়, যা মেজাজকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

হাসি ইমিউন সিস্টেমকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে তোমার সামগ্রিক স্বাস্থ্যকেও প্রাভাবিত করতে পারে। এটা মনে করা হয় যে তুমি যখন হাসো, কিছু নিউরোট্রান্সমিটারের মুক্তির জন্য আরও শিথিলতা আসে এবং এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি হয়।

হাসি সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়

গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত হাসেন তারা বেশি আত্মবিশ্বাসী হন, কর্মক্ষেত্রে তাদের পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

হাসি ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে

একটি পরীক্ষা করোঃ হাসো। এখন হাসি থাকা অবস্থায় কোন নেতিবাচক কিছু ভাবার চেষ্টা করো। এটা একটু কঠিন, তাই না? হাসি তোমার ইতিবাচক অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি এটা যদি অপ্রাকৃতিক বা জোরপূর্বক মনে হয়। হাসি সত্যি হোক বা না হোক, এটা তখনও মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় যে, জীবন সুন্দর।

এই সুবিধাগুলো নিতে প্রতিদিনের হাসির গড় বাড়াতে চাও? স্টেপটি সহজ। একটি হাসি দিয়ে দিন শুরু করো। হাসি সংক্রমক, এটা নিজের পাশাপাশি আশেপাশের পরিবেশও সুন্দর ও সহজতর করে তুলবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four − three =