প্রাণশক্তি বাড়বে যে ওয়ার্কআউটে

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

শরীর ঠিক রাখার জন্য নিয়ম করে ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট করা একটি ভালো অভ্যেস। এতে  শরীর তরতাজা ও ফিট তো থাকে বটেই, সারাদিনের বিস্তর দৌড়ঝাঁপ সামলাতে এনার্জির জোগানও দেয়। সুস্থ থাকতে এবং দীর্ঘ জীবন পেতে কিছু কমন কিন্তু অনেক উপকারী এমন কিছু ব্যায়ামের কথা জানবো।

দীর্ঘ জীবন পেতে কে না চায়। ফিটনেস হচ্ছে এর মূল প্রাণশক্তি। সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। তুমি যদি একটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপন করতে চাও তবে তোমাকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অভ্যাসগুলো অনুসরণ করতে হবে। যার মধ্যে প্রধানত স্বাস্থ্যকর খাওয়া এবং ব্যায়াম করা জড়িত। বর্তমানে বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়েছে। তার উপর ব্যস্ত সময়সূচীর কারনে আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাসকে উপেক্ষা করার প্রবণতা চলে এসেছে। বিশিষ্ট ফিটনেস বিশেষজ্ঞ কমল কৌরের মতে, ‘’ব্যায়াম সবসময় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যদি একটি স্বাস্থ্যকর জীবন চাও তবে কিছু ব্যায়াম করতে হবে। এমনকি এটা তোমাকে আরও বেশিদিন বাঁচতে সাহায্য করতে পারে’’। কৌর এমন কিছু সাধারন কিন্তু অধিক কার্যকরী কিছু ওয়ার্কআউটের কথা বলেছেন।

হাঁটা

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এপিডেমিওলজি, প্রিভেনশন, লাইফস্টাইল এবং কার্ডিওমেটাবলিক হেলথ কনফারেন্স ২০২১- এ উপস্থাপিত গবেষনার ফলাফল অনুসারে হার্টের স্বাস্থ্যসহ ফিটনেস এবং স্বাস্থ্য বাড়ানোর জন্য হাঁটা সবচেয়ে নিরাপদ এবং সহজ কৌশলগুলোর মধ্যে একটি। ফলস্বরুপ, এটি অবশ্যই তোমাকে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ হাঁটার সময় না থাকলে, বাসায় দৈনন্দিন কাজ করার সময় হাঁটতে পারো। হাঁটা হার্টের উপকার করে, অন্যান্য অসুখের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

 

সাঁতার

দীর্ঘজীবী হতে চাইলে সাঁতার কাটা আবশ্যক। এতে পুরো শরীর সক্রিয় হয়, যা একে আরও নমনীয় এবং শক্তিশালী করে তোলে। এটি তোমার পেশী শক্তি এবং কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস বাড়ায়। আসলে, যদি তুমি তোমার ওজন কমাতে চাও তবে সাঁতার ওজন কমানোর লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। সামগ্রিকভাবে, সাঁতার একটি সমগ্র শরীরের ওয়ার্কআউট। এটি বার্ধক্য কমিয়ে দেয়, ফুসফুস এবং হার্টকে শক্তিশালী করে এবং আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিতে পারে।

অ্যারোবিক্স

তুমি কি জানো অ্যারোবিক ওজন কমানোর চেয়ে বেশি সুবিধা দেয়? এই ধরনের শারীরিক কার্যকলাপ শক্তি প্রশিক্ষনের সাথে স্ট্রেচিং কে একত্রিত করে। এটির সুবিধার একটি বড় পরিসর রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হল জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করা এবং হার্টের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করা। নিউরোলজির একটি সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে  জীবনযাত্রার মান বাড়াতে পারে।

দৌড়ানো

ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে কোন পরিমান দৌড়ানো হৃদরোগ এবং সমস্ত ক্যান্সার থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। কৌরের মতে, দৌড়ানো রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে পারে, শক্তিশালী হাড় তৈরি করতে সাহায্য করে, পেশীমজবুত করে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে, দীর্ঘায়ু বাড়ায়।

সাইকেল চালানো

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাইকেলে করে কাজ বা স্কুলে যায় তারা দীর্ঘ, স্বাস্থ্যকর জীবন উপভোগ করেন। তুমি যদি দীর্ঘ জীবন উপভোগ করতে চাও তবে কেবল সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারো। এটি শরীরের চর্বি কমাতে, ওজন কমাতে, এবং সামগ্রিকভাবে ফিটনেসের স্তর বাড়াতে একটি দূর্দান্ত উপায়। সাইকেল চালানো কোভিড-১৯ এর মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের বিরুদ্ধে ইমিউন সিস্টেমের প্রতিরক্ষাকে সমর্থন করতে পারে।

জীবনের মান উন্নত করা ছাড়াও, এই ব্যায়ামগুলো মানসিক চাপ এবং ক্লান্তি কমাতে সর্বোত্তম। তাই আজই এগুলোকে তোমার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হিসেবে যোগ করে নাও।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

seven − 4 =