প্রিয় মানুষটির হাতটি শক্ত করে ধরো! উপভোগ করো শরতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

করেছে Rodoshee

প্রকৃতি যখন নতুনরূপে প্রসন্ন, ঠিক তখন আমাদের যেতে হচ্ছে এক সংকটের মধ্য দিয়ে। রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে আমরা এখন এক মানবিক পরীক্ষার সামনে। ইতিমধ্যে প্রায় নয় লাখ শরণার্থী এ দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারপরও থেমে নেই মানুষের ঢল। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে থামে, বলা মুশকিল। তবু বলব, প্রথম যাত্রায় আমরা সে পরীক্ষায় খুব ভালোভাবেই উতরে গেছি। বর্তমান বাস্তবতায় মনে হচ্ছে সমস্যাটা দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল হবে। সবচেয়ে বড় বিপদ এই শিবিরে আশ্রয় নেওয়া নারী এবং শিশুদের নিয়ে। এ শিবিরের অনেক নারীই ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অনেক শিশু মা-বাবা হারিয়েছে কিংবা চোখের সামনে খুন হতে দেখেছে প্রিয় স্বজনকে। এসব নানাবিধ দুঃখজনক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন তাদের মনোজগতে আলোড়ন তুলবে। এ মুহূর্তে নারী এবং শিশুদের মানসিক সুস্থতার জন্য মনোচিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

সত্যিকার অর্থে শরতের মনমাতানো প্রকৃতিতে মন কী যে খুঁজে ফেরে, তা বোঝা বড়ই মুশকিল! প্রকৃতির মতো রোদ-বৃষ্টির দোদুল্যমানতায় মনের মধ্যেও যেন অভিমানের মেঘ জমে। আবার কখনো হয়ে ওঠে রৌদ্রকরোজ্জ্বল। নারী মন আরও সংবেদনশীল, শরতের মতোই। এই মন কখন কী চায় তা নাকি কেউই কখনো বুঝে উঠতে পারেনি! আমি বলব, নারীর মন বোঝো আর না-ই বোঝো, নারীর হৃদয়টা বোঝা খুব জরুরি। জানলে অবাক হবে, বিশ্বে নারীমৃত্যুর অন্যতম কারণ হৃদরোগ। উন্নত বিশ্বে প্রতি চারজন নারীর একজন হৃদরোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে নারীমৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হৃদরোগ! প্রথমটি ক্যানসার। সবচেয়ে আশঙ্কার কারণ লোকের ধারণা, নারীদের হৃদরোগ বা হার্টের সমস্যা হয় না। তাই যেসব নারী হার্টের কোনো অসুখে মারা যায়, তাদের মধ্যে শতকরা ৬৪ জনই পূর্বে হার্টের রোগী হিসেবে চিহ্নিত ছিল না। সুতরাং ‘নারী হৃদয়’ নিয়ে আর অবহেলা নয়। গেল ২৯ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব হার্ট দিবস। এবারের সংখ্যায় তাই ‘নারী হৃদয়ে’র কুশল সংবাদ নিয়ে আমাদের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয়েছে। আরও গুরুত্ব পেয়েছে সেই ‘মনে’র কথা যা কিনা কেউ কখনো বুঝে ওঠেনি আগে!
এই শরতে, কৈলাস ছেড়ে দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা এসেছিলেন আমাদের গৃহে। আবার চলেও গেছেন। সুন্দর একটি পূজা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’-এই দর্শনে বিশ্বাসী আমরা আবারও প্রমাণ করেছি বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে কখনো মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনো কিছুর জায়গা হতে পারে না।
ঋতুচক্র নানা বর্ণে-গন্ধের সমারোহে বরাবরই আবর্তিত হয়ে চলে। কিন্তু ‘ইটের পরে ইট, তার মাঝে মানুষ কীট’-এর এই অর্থদাস শহরবাসীর অন্তর আজ আর শরতের নিমন্ত্রণ তেমনভাবে অনুভব করে না। প্রতিবারই শরৎ আসে। সাজে অপরূপ সাজে। কিন্তু শহরের যান্ত্রিক জীবনে এর রূপ দেখার সময় নেই অনেকেরই। আমি বলব, একটু হলেও মনোরম এই ঋতুকে অনুভব করার চেষ্টা করো। এই উপলক্ষেই না হয় প্রিয় মানুষটির হাতটি শক্ত করে ধরো! উপভোগ করো শরতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
সবাইকে শরতের শুভ্র শুভেচ্ছা।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twenty − one =