প্রেম কি কেবলি শরীরের চাহিদা?

করেছে Wazedur Rahman

পড়াশোনা, তারপর চাকরি নামক সোনার হরিণের পিছু পিছু দৌড়। কেউ নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। শেষে বিয়েটাই পিছিয়ে যায়। কেউ বিয়ে করেন ২০ থেকে ৩০-এর কোঠায় আবার কেউ দ্বিধায় পড়েন। কিন্তু মন, দিন শেষে নির্ভরতা খোঁজে, ভালোবাসা খোঁজে। প্রেমের সম্পর্ককে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রেম কখনো কখনো গড়ায় লিভ টুগেদার পর্যন্ত। কথায় আছে, একটা মিথ্যা কথা ঢাকতে হাজারটা মিথ্যা বলতে হয়। লিভ টুগেদার এমন একটা বিষয়, দুজন মানুষকে ঠেলে দেয় অনিশ্চয়তা আর ভীত অবস্থার দিকে। তবু তো থেমে থাকছে না এই মোহময় হাতছানি, এই রক্তরাগ এই সর্বনাশ!

সায়েম (ছদ্মনাম) বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পড়ার পাশাপাশি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে পার্টটাইম চাকরি করছে। ক্লাসফ্রেন্ড রত্নার সঙ্গে তিন বছর প্রেম করার পর তারা রাজধানীতে একটি ছোট্ট বাসায় বসবাস শুরু করে। এরপর সন্তান ধারণ করে রত্না। তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। শেষে অ্যাবরশন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বন্যা (ছদ্মনাম) একটি প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতা করে। প্রেম হয় স্কুলের সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্গে। বিয়ে করার কথা ছিল দুজনের। সেই আশ্বাস থেকে বন্যা রনকের সঙ্গে ট্যুরে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসার কিছুদিন পরে রনকের আচরণ পুরোপুরি পাল্টে যায়। এরপর বন্যার মনে বাসা বাঁধে অন্য আতঙ্ক। নিজ থেকে চাকরিটা ছেড়ে দেয় বন্যা।

মিলনের নিকটাত্মীয় সামিয়া (ছদ্মনাম)। সামিয়া মফস্বল ছেড়ে রাজধানীতে আসে কোচিং করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। শহরে আসার পর নিয়মিত যোগাযোগ হয় মিলনের সঙ্গে। তারপর প্রেম। মিলন একদিন বলে একটি অ্যাডাল্ট সম্পর্কে যা যা হয়, এই সম্পর্কেও তাই তাই হবে। পরিণতি কত ভয়ংকর হবে বুঝতে পারে সামিয়া। কিন্তু মিলনকে এড়িয়ে যাওয়ার পথ সে খুঁজে পায় না। ধ্যানে-জ্ঞানে মিলন। মিলনের উপস্থিতি মানে সামিয়ার ভালো লাগা। ছাত্রী হোস্টেলে থাকত সামিয়া। সন্ধ্যার পর হোস্টেল থেকে বের হওয়া নিষেধ। বাইরে থাকলে রাত আটটার পর হোস্টেলে প্রবেশ করার নিষেধ।

কোচিং শেষ করে মিলনের সঙ্গে দেখা করত সামিয়া। ফিরে আসত রাত আটটার আগেই। এক রাতে ফেরা হলো না তার। হোস্টেলে ফোন করে জানিয়ে দিল জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি গেছে। এই কথার সত্যতা প্রমাণ দেওয়ার জন্য টানা তিন দিন হোস্টেলে ফেরেনি সামিয়া। মিলনের সঙ্গে তার বাসায় ছিল। তিন দিন পর হোস্টেলে ফেরে সামিয়া। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পড়ালেখায় আগ্রহ হারায়। বিষণ্নতা-হতাশা গ্রাস করতে থাকে সামিয়াকে।

বিয়ে করতে আগ্রহী ছিল না মিথিলা (ছদ্মনাম)। বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। বিয়েভীতি ছিল। ভয় ছিল চাকরি হারানোরও। যদি চাকরিটা ছেড়ে দিতে হয়। যদি পরিবারের দায়িত্ব নিতে না পারে; সে ভয়ও ছিল মিথিলার। বাবা-মাকে রাখতে চেয়েছিল নিজের কাছে। কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একসময় বিয়ে করতে রাজি হয় মিথিলা। কিন্তু বয়সের দোহাই দিয়ে বিয়ে ভেঙে যেতে থাকে। দিন শেষে সে যে ঘরে ফিরে যায়, সে ঘরে একা।

একাকিত্ব গ্রাস করছিল মিথিলাকে। নিজের ভালো থাকা-মন্দ থাকার গল্প যার সঙ্গে শেয়ার করত, একদিন তার সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে মিথিলার। কিন্তু সে বিবাহিত। ঘর বাঁধতে হলে আরেকজনের ঘর ভাঙতে হবে। নীরব স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে মিথিলার সঙ্গে ঘর বাঁধতে রাজিও হয়। কিন্তু নীরবের স্ত্রী একদিন হাজির হয় মিথিলার অফিসে। মিথিলার বসের কাছে বিচার দেয়। ক্ষমা চাইতে হয় মিথিলাকে।

সমাজ বিশ্লেষকেরা মনে করেন, লিভ টুগেদার সম্পর্কে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই সম্পর্কের জের ধরে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এই প্রযুক্তি প্রসারের যুগে আমাদের হাতের মুঠোই ফোন। হাই রেজল্যুশন ক্যামেরাযুক্ত ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কম নয়। অনেক সময় হাতে থাকা এই ক্যামেরাটি রোমান্টিক মুহূর্তবন্দী করার কাজেও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গোপনীয়তার সীমা অতিক্রম করে সেই রোমান্টিক মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও যখন ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়, তখন সামাজিকভাবে হেয় হয় ভিকটিম ও তার পরিবার।

একটি প্রশ্ন

আমরা কি শুধু নিজের জন্য নিজে? তা তো নয়। আমাদের সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মিশে থাকে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা। তাই বিয়ের সম্পর্ক যে মানুষটির সঙ্গে নেই, যে মানুষটি সামাজিক ও আইনিভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দায়বদ্ধ নয়; তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার আগে যেন প্রিয় মানুষগুলোর মর্যাদার কথা ভুলে না যাই।

কী হচ্ছে

  • বিয়েবহির্ভূত লিভ টুগেদার
  • দূরে ট্যুর
  • ভ্রণ হত্যা
  • হত্যাকাণ্ড
  • সাইবার ক্রাইম
  • নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

কেন হচ্ছে এমন

  • পরিবার থেকে দূরে থাকা
  • অর্থনৈতিক মুক্তি
  • দেরিতে বিয়ে

লেখা: রোদসী ডেস্ক 
ছবি: সংগ্রহীত 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four × one =