প্রেম তুমি কী বলো তো…

করেছে Wazedur Rahman

প্রেম যে ঠিক কী বস্তু, এই রহস্য কে বের করতে পেরেছে? বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, এই মহাবিশ্বের রহস্য বের করা সম্ভব, কিন্তু প্রেমের নয়!

রহস্য হলেও প্রেম কালে কালে যুগে যুগে মহামনীষী, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, কবি-সাহিত্যিকদের ভাবিয়েছে, এই যে ভয়ংকর অসম্ভব সুন্দর একটা অনুভূতি হয় মনে, কখনো সুখের, কখনো বেদনার, জিনিসটা আসলে কী? কেন হয়! কেন কারও জন্য হৃদয় এমন করে পোড়ে? কেন, কিসের জন্য মন হায় হায় করে? কার জন্য ইচ্ছে করে সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে ছুটে যেতে? কার জন্য ইচ্ছে করে আগুনে ঝাঁপ দিতে?

প্রেমের জন্য। হায় প্রেম! প্রেমের জন্য সমাজ-সংসার মিছে সব, মিছে এই জীবনের কলরব। প্রেমের জন্য রাজ্য গেছে, জীবন গেছে, কেউ কেউ পাগল হয়ে গেছে, সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়ে গেছে, তবু প্রেমের গান চিরকাল সুমহান।

মীর তকি মীর স্রেফ পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হায় আমার উপদেষ্টা বন্ধু, তুমি কী করে বুঝবে আমার হৃদয়ের ব্যথা? তুমি তো এখনো কারও চুলের বেণিতে আটকা পড়োনি।

মির্জা গালিব বলছেন, মাত্র তো প্রেমের শুরু, কালে কালে আরও কত কিছু হবে। তুমি কি দেখোনি প্রেমে পড়ে মীরের কী দশাটা হলো!  বৃদ্ধ সফোক্লিসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বার্ধক্য আপনাকে কী দিয়েছে? বৃদ্ধ কবি হেসে উত্তর দিলেন, প্রেমের দেবতাদের হাত থেকে মুক্তি।

সত্যিই কি প্রেম এক অসহ্য দেবতা! যার আক্রমণে জীবন নাস্তানাবুদ হয়ে যায়? বার্ধক্য কি সত্যিই প্রেমের জ্বালাযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়? ফ্রয়েড বলেছেন, দেয়। প্রেম তো আসলে যৌনতারই এক প্রতিচ্ছবি। যৌনস্পৃহা চলে গেলে প্রেমও এক সময় মরে যায়। যৌবনের সেই কাতরতা বৃদ্ধকালে অতটা থাকে না। সত্যিই কি তাই? প্রেম কি শুধুই শারীরিক, মানসিক একটা ব্যাপার, আধ্যাত্মিক কোনো ব্যাপার নেই এর সঙ্গে? এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক লোকই পাওয়া যাবে। সুফি কবির তো বলেছেন, সব প্রেমই খোদার রাস্তা। সব প্রেমই খোদার কাছ থেকে আসে, আর খোদার কাছে চলে যায়।

বৈষ্ণব পদাবলি তো মূলত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা। রাধাকৃষ্ণ মানে দেবতা আর মানবেরই প্রেম। কৃষ্ণ তো দেবতা, তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, তিনি থাকেন দ্বারকায়, আর মাটির মানবী রাধা থাকেন মথুরায়, বৃন্দাবনে বসে কৃষ্ণের ধ্যান করেন। পুরাণে এর মানে যা-ই মানে থাক, এর যে একটা আধ্যাত্মিক রূপ আছে, তা বোঝা যায় হাজার বছর ধরে এ প্রেমলীলা ভারতবাসীর ধর্ম-সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

প্রেম নিয়ে প্রথম ব্যাপক বিস্তৃত আলাপ করেন গ্রিক মহামনীষী প্লেটো। তার সিম্পোজিয়াম মূলত রাতভর প্রণয়-প্রশস্তি। অনিবার্যভাবে এ গল্পের নায়ক প্লেটোর গুরু সক্রেটিস। আগাথনের গৃহে বসেছে রাতভর পানোৎসব। সঙ্গে জমে উঠেছে প্রেমের আলাপ। সক্রেটিসকে প্রেম সম্পর্কে একেকটি প্রশ্ন করা হয়, আর তিনি প্রশ্নটিকে নানাভাবে কাটাছেঁড়া করেন, অন্যদের মতামত নেন, বিশ্লেষণ করেন, তারপর নিজেই একটি উত্তর দেন। সক্রেটিস বলছেন, মানুষের মধ্যে যত প্রকার ক্ষমতা আছে, তার মধ্যে প্রেমের ক্ষমতাই সবচেয়ে শ্রেয়। প্রেমই আমাদের সৃজনীকর্মে চালিত করে। প্রেম আমাদের সুন্দর করে।

এ ক্ষেত্রে সক্রেটিস একটা মজার কথা বলেছেন, প্রেম সব সময়ই সুন্দরকে কামনা করে, তার মানে সে নিজে সুন্দর নয়! প্রেম মানেই হচ্ছে আরও সুন্দর হয়ে ওঠার বাসনা। তাই যা আছে তাকে আমরা খুব বেশি ভালোবাসি না, ভালোবাসি আরও কিছু হয়ে ওঠার কামনাকে। প্রেম তাই অনন্ত কামনা। যে ব্যক্তি আত্মাকে না ভালোবেসে দেহটাকেই ভালোবাসে, এমন ব্যক্তির ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী। কারণ সে যা ভালোবাসে, তার স্থায়িত্ব নেই। কিন্তু মহৎ লোকের প্রেম আজীবন অক্ষুণ্ন থাকে, কারণ সে যাতে আসক্ত হয় সে জিনিসটি নিত্য।

এখানে এসেই প্রেম একটি আধ্যাত্মিক রূপ নেয়, দেহ-মন আর আত্মা যখন আলাদা হয়। আমরা আসলে কী দেখে কারও প্রেমে পড়ি? এ প্রশ্ন অনেককেই শুনতে হয়, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী-আত্মীয়স্বজন এবং পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে, ছেলেটি বা মেয়েটিকে পছন্দ না হলে মুখের ওপরই অনেকে বলে বস, এত সুন্দর মেয়েটা এ রকম একটা ছেলেকে কী দেখে পছন্দ করল? কিংবা, এ রকম একটা ছেলের সঙ্গে এ রকম একটা মেয়ে যায়! ছেলেটা কি পাগল নাকি? এই মেয়ের প্রেমে পড়ার কী আছে!

কী দেখে যে কে কার প্রেমে পড়ে এটা সাধারণ চোখে অবশ্য অনেকে বুঝবে না। লাইলির জন্য মজনুকে পাগল হয়ে যেতে দেখে রাজা খবর দিয়ে নিয়ে এলেন লাইলিকে। লাইলিকে দেখে তিনি বিরক্ত হয়ে মজনুকে বললেন, তুমি কী দেখে এর প্রেমে পড়লে? এ মেয়ে তো আমার বাঁদীদের চেয়েও দেখতে খারাপ। এর জন্য তুমি এমন পাগল হয়ে গেলে! মজনু হেসে বলল, আপনি তো আপনার চোখ দিয়ে লাইলিকে দেখেননি জাঁহাপনা!

প্রেমের ইতিহাসের লাইলি-মজনুর গল্প সর্বজনবিদিত। তাদের প্রেম জগতে অমর হয়ে আছে। প্রেমের জন্য এমন কান্না জগতে বিরল। লাইলি লাইলি বলে কাঁদতে কাঁদতে মজনুর যখন পাগলদশা তখন এক দুষ্ট লোক একটা কুকুর এনে দিয়ে বলল, এটা হচ্ছে লাইলির বাড়ির কুকুর। মজনুর মনে হলো আহা, তার লাইলির বাড়ির কুকুর, লাইলি এ কুকুরটাকে দেখেছে, আদর করেছে, এ কুকুরে লাইলির দৃষ্টি পড়েছে, স্পর্শ পড়েছে, এ তো স্বয়ং লাইলি! মজনু কুকুরটাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো চুমু খেতে লাগল।

প্রেম মানে শুধু লাইলির বাড়ির কুকুরকে চুমু খাওয়া নয়, প্রেম মানে লাইলির পোষা কুকুর হয়ে যাওয়া। প্রেম মানে ইগোর বিসর্জন দেওয়া। প্রেম এ জন্যই আরাধ্য যে এর মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে ভুলে যাওয়া যায়। মানুষমাত্রই তার অস্তিত্বকে নিয়ে খুব বিপন্ন ও অস্বস্তি বোধ করে। কী করবে সে এ জীবন নিয়ে! এ জগতে তার কী করার আছে? নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে কোনো তল পায় না। তখন সে নিজের জীবন অন্যের হাতে তুলে দিতে চায়। অন্যই হয়ে ওঠে তার সারাক্ষণের ভাবনা। সে যে রকম অন্য কাউকে নিয়ে ভাবে, অবচেতন মনে সেও চায় তাকে নিয়ে অন্য কেউ ভাবুক। এই যে ভাবনার রূপান্তর, এর নামই হচ্ছে প্রেম। প্রেম মানে ওই ভাবনাটাই। ভাবনা ছাড়া প্রেম নেই।

রোমিও-জুলিয়েটের গল্প আমরা জানি। সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত প্রেমের গল্প। শুধু এ গল্পকে কেন্দ্র করে কত হাজার প্রেমের গল্প তৈরি হয়েছে বিশ্বসাহিত্যে তার কোনো হিসাব আছে? একদিক দিয়ে ধরতে গেলে শরৎচন্দ্রের দেবদাসকেও কিছুটা হলেও শেক্্সপিয়ারের রোমিও-জুলিয়েটের সঙ্গে মেলানো সম্ভব। প্রেমের গল্প মানেই যেন দুটো শ্রেণি, ধনি-গরিব, বর্ণবৈষম্য। প্রেমের গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশ-জাতি-ধর্ম-ভাষা সংস্কৃতির বিরোধ। প্রেম কোনো বাধা মানে না, ভাষা মানে না। প্রেমের বিচরণ সীমাহীন অনন্ত অসীমের দিকে।

সেই রকম প্রেম অবশ্য আজকাল আর হয় না। সর্বোচ্চ নির্বোধও এখন ফ্রয়েডের যৌন থিওরি জানে। অনেকেই মনে করে প্রেম শুধুমাত্র একটা যৌনতার ব্যাপার, কাউকে ভালো লাগতেই পারে, সেটা ক্ষণিকের মোহ, একসময় সেই মোহ কেটেও যায়। প্রেমের নানা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। এটা শুধু একটা কেমিক্যাল ব্যাপার। ডোপামিন নামক একধরনের তরল পদার্থের নিঃসরণেই নাকি এটা হয়!

ঘটনা হয়তো সত্য, কিন্তু প্রেম শুধু শুধু বায়োলজিক্যাল ব্যাপার নয়, এর সঙ্গে অনেক সাংস্কৃতিক ব্যাপারও আছে। আমাদের দেশে প্রেম এসেছে মূলত মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে। অনেকেই বলবে, এর আগে কি প্রেম ছিল না? ছিল। সেটা অন্য আকারে, অন্যভাবে।

প্রেম বলতে একসময় এ অঞ্চলে বোঝানো হতো ব্যভিচার। ব্যভিচার কারণ প্রেম ছিল অবৈধ, অসামাজিক। অসামাজিক কারণ প্রেম বলতে তখনো বোঝানো হতো শুধু পরকীয়া। পরকীয়ার কারণ তখন মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেত খুব অল্প বয়সে, মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার আগেই সে মা হয়ে যেত, আর স্বামীগুলো হয়ে যেত বুড়ো, অনেকের স্বামী মরে যেত অকালে, তখন বিধবা নারীদের বিয়ে হওয়ার রেওয়াজও ছিল না। বিশেষত হিন্দু নারীদের। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এসে প্রথম বিধবা নারীর বিয়ের আইন পাসের উদ্যোগ নেন। তো তখন ওই বিধবা বা অবলা নারীরা পাড়া-প্রতিবেশী বড় ভাই, দাদা বা নিকটাত্মীয় কারও সঙ্গে প্রণয়াস্ত হতেন। এতে সমাজে ছিঃ ছিঃ পড়ে যেত। এই জন্যই প্রেম আমাদের সমাজে এখনো কিছুটা লোকচক্ষু-অন্তরালের ব্যাপার।

মধুসূদন নীল নয়না এক বিদেশি নারীকে বিয়ে করে ধর্মচ্যুত হয়েছিলেন, তাতে তার পিতাও তাকে সমাজচ্যুত করেছিলেন। বঙ্গসমাজে এই হচ্ছে আধুনিক প্রেমের প্রথম নজির। তারপর রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে আধুনিক প্রেমে বিকাশ হয় নতুন আলোকে। রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য গান-কবিতা-গল্প-উপন্যাস মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালির প্রেমের প্রেরণা জোগায়। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে যোগ দেন ত্রিশের দশকের কবি-সাহিত্যিকেরা। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালি প্রবেশ করে একটা নতুন যুগে, সম্পর্কের নেয় একটা নতুন রূপ। এখনকার শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা আর শুধু বাবা-মা, পরিবারের সিদ্ধান্তেই বিয়ে করতে রাজি নয়, তারা নিজেদের পছন্দ নিজেরই করে নিতে চায়।

এভাবে সময় যেমন পাল্টেছে, পাল্টেছে প্রেমের ধরনধারনও। চিঠির যুগ শেষ হয়ে এখন এসেছে ফেসবুক যুগ। তিন দশক আগেও প্রেম বলতে যেখানে ছিল শুধু একটু চাহনি, একটু হাত ধরাধরি, এখন সেটা দিনদুপুরেই গলা জড়াজড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। আজকাল একজীবনে অসংখ্য প্রেমের উদাহরণ সৃষ্টি করেন অনেকে। সতেরোতম প্রেমটাকেও বলে, এটাই নাকি জীবনের আসল প্রেম!

এসব কথা থাক। বরং প্রেমের আরেকটু গভীরে যাওয়া যাক। যদি আজকাল মানুষ গভীর কথা শুনতে পছন্দ করে না। প্রেম নিয়ে তো আরও না। বলে, ধুর, প্রেম করার করব, এ নিয়ে এত ভাবনাচিন্তার কী আছে! প্রেম করার জন্য কি এখন দর্শন-ইতিহাস-বিজ্ঞানমনস্তত্ত্ব পড়তে হবে নাকি!

আসলে প্রেম চর্চা করার বিষয়। এটা ঠিক আকাশ থেকে পড়ে না, এটাকে নিজের ভেতর থেকে হয়ে উঠতে দিতে হয়। প্রেম শুধু একটা শখের ব্যাপার নয় যে এটা শুধু আমার একটা নির্দিষ্ট সময়ের মুডের ওপর নির্ভর করে বা শুধু বই পড়ে, সিনেমা দেখে এর সম্পর্কে আমরা তাত্ত্বিক জ্ঞান লাভ করতে পারি। বাস্তবজীবনের প্রতি মুহূর্তে এটা চর্চা করতে হয়। এবং তার জন্য প্রয়োজন : পরিপূর্ণ নিমামানুবর্তিতা, মনোযোগ, ধৈর্য এবং বিশ্বাস। প্রেমের মধ্যেই নিহিত সর্বোচ্চ নৈতিকতা। পরস্পরের বিশ্বাস ভঙ্গ করলে সেটা আর কোনোভাবেই প্রেম থাকে না। এটা দুজনের একটা অলিখিত চুক্তি, একটা বিশ্বাস, একটা আস্থা। সেখানে বিন্দুপরিমাণ সন্দেহ ঢুকলেই সব শেষ।

ভালোবাসা ও প্রেমের মধ্যে অবশ্য একটা পার্থক্য আছে। ভালো তো আমরা বাসি সবাইকেই, সবকিছুকেই, কিন্তু, প্রেম করি নির্দিষ্ট একটা মানুষের সঙ্গে। সেই মানুষটাই হয় জীবন-মরণ। প্রেমের মধ্যে কিছুটা দখলদারিবোধও থাকে। কিছু ঈর্ষা, লোভ-আকাক্সক্ষা-ঘৃণাও থাকে। প্রেমের উল্টো পিঠেই থাকে প্রবল ঘৃণা। এ জন্য দেখা যায় প্রেমের সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়ার পর একজন আরেকজনের নামও শুনতে পারে না।

কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের জীবনে আসলে প্রেমের কী দরকার? প্রেম ছাড়া কি আমরা বাঁচতে পারি না। এমনও তো দেখা যায় সন্তান-সংসার নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দিব্যি আছে, কিন্তু প্রেম নেই, প্রেমের অভাবও আর অনুভব করে না। তাহলে প্রেম নিয়ে এত মাতামাতির দরকার কী?

উত্তরটা দিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত কথাসাহিত্যিক তলস্তয়, তার আন্না কারেনিনা উপন্যাসে। আন্নার সবই ছিল, স্বামী-পুত্র, সম্মান, সমাজে উচ্চ অবস্থান। ছিল না শুধু প্রেম। ভ্রেুানস্কিকে দেখার পর আন্না হঠাৎ করে অনুভব করে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কটা যেন নিতান্তই পানসে, সামাজিক কারণেই ওটা আছে, ওখানে নেই কোনো উত্তেজনা, জীবনের প্রণোদনা, কোথায় যেন সম্পর্কটা তলে তলে মরে গেছে। একমাত্র ভ্রোনস্কিকে দেখলেই সে প্রবলভাবে বেঁচে ওঠে। জীবনে যদি ওই প্রাণটুকুই না থাকল তাহলে আর বেঁচে থাকার মানে কী! বাঁচার আশায় স্বামীর ঘর ছেড়ে ভ্রোনস্কির হাত ধরে পালাল আন্না। কিন্তু বাঁচতে তো পারল না। শেষ পর্যন্ত রেলগাড়ির নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে প্রাণ দিতে হয়।

এই কি প্রেমের পরিণতি! প্রেমের জন্য অনেকেই এমন ঘর ছেড়েছে, প্রাণ দিয়েছে। সম্মুখে মরণ জেনেও আগুনে ঝাঁপ দিয়েছে। প্রেমকে তাই ব্যাখ্যা করা কঠিন। এ ব্যাখ্যা করতে যাওয়াটাই হাস্যকর। তবু মানুষ যুক্তি দিয়ে সব বিচার করতে চায়। প্রেম মানেই যেমন পাগলামি, সেখানে যৌক্তিকতাও যে নেই তাও তো নয়। প্রেমে শেষ কথা বলে কিছু নেই।

তাই আইয়ুব বাচ্চু গেয়েছেন, প্রেম তুমি কী বলো তো…কখনো আমার, কখনো আবার অপরিচিত কেউ…

 

লেখা: কামরুল আহসান

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × three =