ফেটে যাওয়া চুল

করেছে Sabiha Zaman

বড় হোক বা ছোট, চুল থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর। সুন্দর চুল মানে কেবল বড় চুল নয়, ছোট স্বাস্থ্যকর চুলও কিন্তু সৌন্দর্য বহন করে। কিন্তু আমাদের চুলের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে চুলের আগা ফেটে যাওয়া। চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোগটির নাম ট্রাইকোসিজিয়া। রোদসীর এবারের আয়োজনে থাকছে ফেটে যাওয়া চুল নিয়ে। লিখেছেন সাবিহা জামান-

চুলের আগা ফাটার কারণ
চুলের আগা ফাটার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে এর প্রধান কারণ হলো অযত্ন। সঠিক যত্নের অভাবেই চুল নষ্ট হয়ে যায়। ফলাফল হিসেবে চুলের বিভিন্ন অংশ ও আগার অংশ ফেটে যেতে শুরু হয়। চুলে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার, তাপ প্রয়োগ (রিবন্ডিং, কার্লিং) চুলের আগা ফাটার জন্য দায়ী। শুধু তাই নয়, আমাদের শারীরিক অপুষ্টির কারণেও চুলের আগা ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।

ফাটা রোধে করণীয়
চুলের আগা ফাটার উপদ্রবে খুব অল্প সময়েই চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আগা ফাটার কারণে চুলের বৃদ্ধি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেকের ধারণা, চুলের আগা ফাটা রোধে ট্রিম করাই যথেষ্ট। যেটি একেবারেই ভুল ধারণা। চুলের আগা একবার ফেটে গেলে তা স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই চুলের যে অংশটুকু ফেটে গেছে, সেই অংশ কেটে ফেলতে হয়। তারপর নিতে হয় প্রতিরোধব্যবস্থা। এ অংশ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনায় যাব এখন।

নিয়মিত তেল
প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা নিয়মিত চুলে তেল লাগাতে সময় পাই না। যার ফলস্বরূপ দেখা দেয় চুলের আগা ফাটা। আর এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর সমাধান তেল। আমাদের চুলে পুষ্টির জোগান দেয় তেল। তাই নিয়মিত চুলে তেল দিতে হবে। খুব ভালোভাবে মাথার ত্বকে মালিশ করে চুলে তেল দেবে। সপ্তাহে তিন দিন তেল লাগানো উচিত। এতে চুল পুষ্টি পায়।
আমরা সাধারণত নারকেল তেল ব্যবহার করে থাকলেও জলপাই তেল, বাদাম তেল বা তিলের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে তেলই ব্যবহার করো না কেন, তা যেন ভালো মানের হয় সেদিকে নজর দেবে।

ক্যাস্টর অয়েল
চুলের যত্নে খুব উপকারী ক্যাস্টর অয়েল। এই তেল চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জোগায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকের চুলকানি, চুলের শুষ্কভাব ও চুলের আগা ফাটা রোধ করে থাকে এটি।
ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের জন্য প্রথমেই ২ চা-চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ২-৩ চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে নাও। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ম্যাসাজ করে তেল লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে রাখো। ১-২ ঘণ্টা এভাবে রেখে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে নাও। এভাবে সপ্তাহে দুবার ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে পার্থক্য নিজেই দেখবে।

হানি হেয়ার মাস্ক
মধু চুলের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে রাখতে সাহায্য করে। হানি হেয়ার মাস্ক ব্যবহারে চুলে আর্দ্রতা ও পুষ্টি ফিরে আসে। সঙ্গে চুলের আগা ফাটা বন্ধ হয়ে যায়।
হানি হেয়ার মাস্ক তৈরির জন্য ২-৩ চা চামচ মধু, এক চা-চামচ নারকেল তেল ও ৩ চা-চামচ দুধ নিতে হবে। এরপর সব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে চুলের আগায় ভালোভাবে লাগিয়ে নাও। চুলের গোড়াতেও এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে ১-২ ঘণ্টা রাখার পরপর ভালো ব্র্যান্ডের হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নাও। সপ্তাহে এক থেকে দুবার ব্যবহার করতে পারো হানি হেয়ার মাস্ক।


ডিম ও মধু
চুলের যত্নে ডিম ও মধু ব্যবহার নতুন নয়। এ উপাদানগুলো চুলের আগা ফাটায় খুব ভালো উপকারে আসে। ব্যবহার পদ্ধতিও অনেক সহজ। এর জন্য ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে ১ টেবিল চামচ মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করে নাও। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর খুব ভালোভাবে শাম্পু করে চুল ধুয়ে নাও। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে হবে এই হেয়ার ট্রিটমেন্ট।
জবা ফুল
চুল ফাটা প্রতিরোধ করতে অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখে জবা ফুল। এই ফুলের রস চুল নরম ও মসৃণ রাখে। ব্যবহারের জন্য প্রথমে বাটিতে তেল নিয়ে চার থেকে পাঁচটি জবা ফুল গরম করো। ঠান্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে সংরক্ষণ করতে হবে। তেল ম্যাসাজ করে খুব ভালোভাবে লাগিয়ে নাও। সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করতে পারো এটি। প্রথমবার ব্যবহার থেকেই চুল হবে সিল্কি। জবা ফুলের রসে রয়েছে পুষ্টিকর উপাদান, যা চুলের আগা ফাটা দূর করে। এ ছাড়াও খুশকি ও চুল পড়া রোধ করতেও বেশ উপকারে আসে জবা ফুল।

টক দই
চুল ফেটে যাওয়া রোধ করতে চমৎকার উপকরণ হচ্ছে টক দই। এটি ব্যবহার করলেও চুল ফেটে যাওয়াসহ চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। এ জন্য চুল অনুযায়ী পরিমাণমতো টক দই নিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে ম্যাসাজ করো। সঙ্গে সামান্য তেল মিশিয়ে নিতে পারো, যা চুল ময়েশ্চারাইজ করবে।

অ্যালোভেরা
মূলত রুক্ষ শুষ্ক হলেই ফাটতে শুরু করে চুল। অ্যালোভেরা চুলের রুক্ষতা দূর করে ময়েশ্চারাইজ করে ফলে চুলের আগা ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে। প্রথমে একটি অ্যালোভেরার শাঁস ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নাও। ভালোভাবে মিশে ফেলে চুলে লাগিয়ে ম্যাসাজ করে নাও। ১ ঘণ্টা পর খুব ভালোভাবে শাম্পু করে নাও।

যেসব থেকে বিরত থাকবে

  • আমরা অনেকেই একটু পরপরই চুল আঁচড়াই। কিন্তু এটি চুলের জন্য ভালো নয়। তাই ঘন ঘন আঁচড়াবে না।
  •  গোসল করে চুল শুকানোর জন্য গামছা বা তোয়ালে দিয়ে চুলে বাড়ি দেওয়ার অভ্যাস থাকলে এটা বাদ দাও।
  • চুলে ঘন ঘন হেয়ার ড্রায়ার ও অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করবে না।
  •  রাতে খোলা চুলে ঘুমাবে না। বরং হালকা বেণি বা হাতখোঁপা করে ঘুমাবে।

ছবি : সংগৃহীত

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

4 + 10 =