ফেসবুক ব্ল্যাকআউট

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

ফেসবুক ব্ল্যাকআউট এই টার্মটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত আবার অনেকের কাছেই বিষয়টি অজানা। এটি মূলত এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা। সকল ধরনের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নিরব এক আন্দোলন।

রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি  কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের এক বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ডাকাতির পর পরিবারের প্রতিবন্ধী তরুনীকে ধর্ষণ। স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যেয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে এক তরুনীর দলবদ্ধ ধর্ষণ। বখাটে যুবকদের অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতন। না এটাই শেষ নয়। এখানে সংঘটিত হওয়া বিগত বছরগুলোতে নারী নির্যাতনের অল্প কিছু দৃশ্যপটের  আলোকপাত  করা হয়েছে মাত্র। দেশজুড়ে চলমান এই ধর্ষণকান্ডের বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ হলেও সিলেট ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নিপীড়নের ঘটনায় রাজপথে নেমে পড়েছিল দেশের সচেতন মানুষ। চলেছিল ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন। আর তারই পথ ধরে প্রতীকী প্রতিবাদ  হিসেবে ফেসবুকে ফিরে এসেছিল কালো প্রোফাইলের ছবিটি।

প্রোফাইল পিকচার এবং কাভার পিকচার কালো করে দেয়াটা সহিংসতার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্রচারনার অংশ বলা হয়েছে। থাকেন। নারী ছাড়া বিশ্ব কেমন তা বোঝাতেই ফেসবুকে এই ব্ল্যাকআউট আন্দোলন। মূলত এটা পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ। যদিও ফেসবুকের এই ব্ল্যাকআউট বিষয়টি একেবারেই নতুন কিছু নয়।এর নির্দিষ্ট উৎস অজানা, তবে অনেকেই ২০১৭ সালে জুলাইয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া  একটি চেইন লেটারের  মাধ্যমে একে সনাক্ত করেছে। যেখানে নারীদের “প্রোফাইলহীন পৃথিবী” প্রতীক হিসেবে তাদের প্রোফাইল ছবিগুলো কালো স্কয়ারে পরিবর্তিত করতে উৎসাহিত করে। পরবর্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের মনোনীত প্রার্থী ব্রেট কাভনোউকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই প্রচারটি পুনরায় উত্থিত হয়েছিল।

প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রবণতাটি খুব দ্রুতই সবাই গ্রহন করেছে। কিন্তু এই ব্যাপারে অনেক মতভেদও  রয়েছে। কারো মতে এই কালো নীরব ছবি একটি তীক্ষ্ণ বার্তা বহন করে। যা কোন কিছু না বলেই অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়ার একটি উপায়। আবার অনেকেই  প্রোফাইলে এই কালো ছবি দেয়ার মাধ্যমে নিজেকে কম দৃশ্যমান, নীরব বা ছোট করে তুলতে চাইছিল না। তাদের মতে, ছবি কালো করে নিজেদের আড়াল করার পরিবর্তে নারীদের উচিৎ নিজেকে শক্তিশালী করা, নিজেদের ব্যাপারে আওয়াজ তোলা।

সামাজিক মিডিয়ার এই ব্ল্যাকআউট ধারনাটি শুধুমাত্র নারীদের সহিংসতার ক্ষেত্রে নয় বরং যে কোনও সমস্যা  সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে , যা পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায়। ২০১৬ সালে  যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারী ক্লিনটনকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে ডোনাল্ড   ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তাদের প্রোফাইল ও কাভার ছবি সরিয়ে কালো করেছিলেন। পাশের দেশ ভারতে মোদী সরকার কর্তৃক ৫০০ ও ১০০০ টাকা নোট বাতিলের প্রতিবাদে তৃনমূল নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকল সামাজিক সাইটে নিজেদের প্রোফাইল পিকচার কালো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সবশেষে, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের জড়িত থাকার প্রতিবাদে সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্ল্যাকআউটে পরিনত হয়েছিল।

ফেসবুক ব্ল্যাকআউট বা নারী ব্ল্যাকআউটের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মত থাকলেও সবারই প্রতিবাদের লক্ষ্য এক। নচিকেতার মত বলতে হয় ” প্রতিবাদ প্রতিরোধে নামাই জীবন, লক্ষ্যে  পৌঁছে তবে থামাই জীবন।”

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × one =