ফ্যাশনে অনলাইন বনাম অফলাইন

করেছে Sabiha Zaman

সাবিহা জামান: প্রতিদিন পরিবর্তন আসে আমাদের জীবনযাত্রার। করোনাকালে বদলেছে অনেক কিছু। দুটি পহেলা বৈশাখ, তিনটি ঈদ আমরা এই করোনাতেই পার করেছি। নিজের আর পরিবার নিরাপদ রাখতে শপিংমল ছেড়ে আমরা অনেকেই এখন অভ্যস্ত অনলাইন শপিংয়ে। প্রযুক্তির কল্যাণে সময়ের সঙ্গে স্মার্টফোন, কম্পিউটার আমাদের শপিংমল হয়ে উঠেছে ঘরবন্দী জীবনে। কী নেই এই ভার্চ্যুয়াল শপিংমলে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে বিলাসবহুল পণ্য, এমনকি কোরবানির গরু কিনতে চাইলেও অনলাইন নিরাশ করবে না। তবে অনলাইনের পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি এসেছে ফ্যাশন শিল্পে।

ফ্যাশনে অনলাইন যাত্রা
ডিজিটাল যুগে অনলাইন শপিং সাইট আর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক ক্রেতাদের জন্য যেন ভার্চ্যুয়াল শপিং মল। বর্তমান সময়ে অনেকেই ঝামেলাবিহীন শপিংয়ের জন্য অনলাইন মাধ্যম পছন্দ করে। করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন শপিং অনেক বেড়ে গেছে। ঘরে বসেই নিরাপদে শপিং করতে অনলাইন সেরা উপায়। তোমার স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনে প্রয়োজনীয় পণ্য দেখে অর্ডার দিলেই চলে আসবে তোমার হাতের নাগালে।
অনলাইন শপিংয়ের কল্যাণে গ্রাম-শহরের সীমাবদ্ধতা নেই। এমনকি কিছু অনলাইন শপ দেশের বাইরে থাকা ক্রেতাদের কাছে তার পছন্দের পণ্য পাঠাচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক এখন যেন আরও সহজ আর ঝামেলাহীন হয়ে গেছে এই ডিজিটাল যুগে।
অনেকেই এখন পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে আগ্রহী হচ্ছে অনলাইন বিজনেসে। অনেকেই সফল হচ্ছে। অনলাইন বিজনেস সুযোগ করে দিচ্ছে একজন গৃহিণীকেও। ফ্যাশনজগতে এখন অনলাইন বিজনেস ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ফ্যাশন ডিজাইনার আর সৃজনশীল মানুষের মুখরতায় এখন অনলাইন ফ্যাশন অঙ্গন জমজমাট।

জনপ্রিয় অনলাইন শপ ‘ট্রেন্ড মার্টের’ স্বত্বাধিকারী নাহরিন আফরিন খান ও আবদুল্লাহ আল আদনান দুজনে মিলে অনলাইন যাত্রা শুরু করেছিলেন। নান্দনিক ডিজাইন আর ক্রেতার সন্তুষ্টিতে সফলতা আর জনপ্রিয়তা দুই-ই পেয়েছেন খুব দ্রুত। নাহরিন আফরিন খান অনলাইন বিজনেস বিষয়ে বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অনলাইন হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ফ্যাশন জগৎকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। আমরা তাই আমাদের ট্রেন্ড মার্টের মাধ্যমে ইউনিক ডিজাইন তুলে ধরতে অনলাইনেই যাত্রা শুরু করেছিলাম। শুরুর সময় আর বর্তমানের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

শুরুতে আমাদের অনেক কিছু নিয়েই অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছিল। অডিয়েন্সের বিশ্বাসের বিষয়টা ছিল অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে যখন আপনি অনলাইনে কাজ করবেন। দেড় লাখ ফলোয়ার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কাস্টমারের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে এটা নিশ্চিত বলতে পারি, করোনা মহামারিতে ফ্যাশন সেক্টরে অনলাইন বিজনেস ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনলাইন যাত্রা এক ধাপ এগিয়ে গেছে এ সময়ে। ফ্যাশন আউটলেটগুলো বন্ধ থাকায় সবাই শপিং করার জন্য অনলাইন সেক্টর বেছে নিয়েছে। আমরা এখন অনলাইনে কাজ করছি। কিন্তু ভবিষ্যতে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।’

নাহরিন আফরিন খান আরও বলেন, ‘অনেকেই অনলাইন বিজনেসের সাথে যুক্ত হচ্ছেন। তবে ফ্যাশন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে অবশ্যই ফ্যাশন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। অনলাইন হোক বা অফলাইন, ফ্যাশন নিয়ে কাজ করতে হলে অবশ্যই ফ্যাশন সার্কেলটা বুঝতে হবে। যেহেতু আমি একজন প্রফেশনাল ফ্যাশন ডিজাইনার, সেহেতু আমি চেষ্টা করি আমার ডিজাইনগুলো সব সময় ইউনিক রাখতে, কারণ ফ্যাশনজগতে একটা কোম্পানিকে রিপ্রেজেন্ট করতে অবশ্যই সব কটি ডিজাইন ইউনিক রাখতে হবে। অনলাইন জগতে প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করা জরুরি আর এ জন্য ক্রিয়েটিভ মাইন্ডেড হতে হবে। আমরা আমাদের প্রতিটি আউটফিট এমনভাবে ডিজাইন করে থাকি যাতে ইউনিক, ডিফারেন্ট হয়। শুধু তাই নয়, অনলাইন হোক বা অফলাইন, পণ্যের মান খুব গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকার জন্য। আপনাকে সব সময় ক্রেতাকে সেরা পণ্যই দিতে হবে। তাই আমরা সব সময় নতুন নান্দনিক ডিজাইনের পাশাপাশি পণ্যের মান ধরে রাখতে কাজ করি। প্রতিটি ড্রেস রেডি হয়ে আসার পর একজন কোয়ালিটি চেকার দ্বারা চেক করে মান নিশ্চিত করার করার পর ড্রেসগুলো প্যাকিং করে গ্রাহকদের কাছে পাঠাই।’

পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজে সময় পার না করে অনলাইনে কাজ করছেন এমন দুই উদ্যোক্তা তাজিয়া তন্বী ও জান্নাত পিয়া। দুই বন্ধু জয়েন্ট ওনারশিপে শুরু করেন ‘লং’। অনলাইন যাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই দুই উদ্যোক্তা বলেন, ‘বর্তমান যুগ ই-কমার্সের যুগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ এ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনলাইন সবচেয়ে সম্ভাব্য একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে। আর আমরা যখন একদম নতুন উদ্যোক্তা এবং খুব স্বল্প পরিমাণের মূলধন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করি, তাই অনলাইন আমাদের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম। যার কারণে অনলাইন দিয়েই ফ্যাশনজগতে যাত্রা শুরু করা আমাদের। আমাদের ইচ্ছা রয়েছে অনলাইন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শিগগিরই অফলাইনে কাজ করার। ব্যবসা করতে গেলে উদ্দেশ্য সামনে নিয়েই করতে হয়। আমাদের এ অনলাইন উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে ধরে রেখে দেশীয় পোশাককে নতুনভাবে উপস্থাপন করা এবং সেই সঙ্গে আমাদের গ্রামের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা গ্রামের নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।

সেই উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রত্যক্ষভাবে এবং পরোক্ষভাবে ২৫-৩০ জন কর্মী কাজ করছেন। অনেক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই করোনাকালে আমরাও সেই দলভুক্ত। যার কারণ ছিল করোনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করা এবং বেকারত্ব বুঝতে পারা। এ ছাড়া ছাত্রজীবনের ব্যস্ততা থেকে করোনাকালে দীর্ঘ সময় অবসর থেকে আমাদের উপলব্ধি হয় নিজের ও মানুষের জন্য কিছু করার। সেই চিন্তাধারা থেকেই করোনাকালে আমাদের এ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

তবে শুরু করলেই হয় না, থাকতে হয় আইডিয়াও। উৎসবভেদে অনলাইন ব্যবসায় আপডেট থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি উৎসবেই আমরা চাই নিজেকে নতুনভাবে সাজাতে, নতুনভাবে উপস্থাপন করতে। আর ফ্যাশনে নতুনত্ব খুব দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনলাইন এখন সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। তাই ব্যবসায়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অবশ্যই উৎসবভেদে আপডেট থাকা জরুরি।
অনলাইনে একজন ক্রেতা সরাসরি পণ্য দেখতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবসায় পণ্যের ছবি বা লাইভের গুরুত্ব অনেক। অনলাইন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ছবি বা লাইভের মাধ্যমেই ক্রেতা তার প্রয়োজনীয় পণ্যটি সম্পর্কে জানতে পারে। যথাযথ তথ্য, ছবি বা লাইভের মাধ্যমেই ক্রেতা একটা পণ্যের মান সম্পর্কে অবহিত হয় বলে পণ্যের ছবি বা লাইভের গুরুত্ব অনেক।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়, যার মধ্যে বিক্রেতার আচরণ অন্যতম। অনলাইন বা অফলাইন হোক না কেন, একজন উদ্যোক্তার জন্য আচরণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিনয়ী আচরণ ক্রেতার মনে বিক্রেতা সম্পর্কে পজিটিভ ধারণা তৈরি করতে সক্ষম হয়। গ্রাহক ধরে রাখার জন্য একজন উদ্যোক্তার গুণাবলির মধ্যে অবশ্যই বিনয়ী আচরণ, সুন্দরভাবে কথা বলতে পারা, সততা, ইত্যাদি গুণ থাকা জরুরি।
বর্তমানে অনেক ক্রেতাই অনলাইনে কেনাকাটা করতে ভয় পায়। যার কারণ বা অনলাইনে পণ্যের মান সম্পর্কে নিশ্চয়তা পায় না বিধায় অনলাইনে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তাই অনলাইনে পণ্যের নিশ্চয়তার জন্য পণ্যের সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত। পণ্যের সঠিক বিবরণ, সঠিক ছবি প্রকাশ, পণ্যের উন্নত মান নিশ্চিত করা, গ্রাহকের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ, পণ্যের বিক্রয় পরবর্তী সময়ে ক্রেতার মতামত গ্রহণ, ইত্যাদির মাধ্যমে অনলাইনে পণ্যের নিশ্চয়তার জন্য কাজ করা সম্ভব। এতে করে অনলাইনে কেনাকাটা সম্পর্কে সাধারণ ক্রেতাদের ভুল ধারণা দূর হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আমি মনে করি অনলাইন ফ্যাশন পণ্য দিয়ে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে যে কেউ চাইলেই খুব দ্রুত তার টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে তার পণ্যটি তুলে ধরতে পারে। নিত্যনতুন ফ্যাশন চাহিদা পূরণ করতে উদ্যোক্তারা খুব সহজে নতুনত্ব তুলে ধরতে পারে। নিজেকে আলাদা প্রমাণ করার জন্য বর্তমানে অনলাইন সবচেয়ে উত্তম প্ল্যাটফর্ম বলে আমি মনে করি।’

অফলাইনের হালচাল
হালফ্যাশনের পণ্য কেনাকাটায় একটা সময়ে আমাদের একমাত্র স্থান ছিল শপিংমল। জামার সঙ্গে মিল রেখে ওড়না, চুড়ি, কানের দুল খুঁজতে এই মার্কেট থেকে ওই মার্কেটে ছোটাছুটি ছিল ঈদের মজার একটি অংশ। অফলাইনে কেনাকাটার এই ধকল আমরা নিতাম খুব আনন্দ নিয়েই ঈদ বা কোনো উৎসব এলেই। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। অফলাইনের পাশে স্থান করে নিয়েছে অনলাইন শপিং।
অনলাইন ও অফলাইন ফ্যাশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন, রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস। তিনি বলেন, এই করোনাকালে অফলাইন ব্যবসা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মূলত বড় উৎসব যেমন পহেলা বৈশাখ, ঈদ এগুলোকে কেন্দ্র করেই ফ্যাশনবাজার জমে ওঠে। নান্দনিক হালফ্যাশনের পসরা নিয়ে বসে ব্র্যান্ড শপগুলো। ক্রেতারা ভিড় করতে থাকেন পছন্দের পণ্য কেনাকাটায়। কিন্তু করোনায় এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অনেকটাই ভেঙে পড়েছে অফলাইন ব্যবসা। কিন্তু এ বছরের শুরু থেকে শক্তভাবে অফলাইন ব্যবসা সামলে কাজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে রঙ বাংলাদেশ। তবে আমরা অনেক শঙ্কায় আছি।

‘রঙ বাংলাদেশ’ অনলাইনেও কাজ করছে। করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে আমাদের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা আগের থেকে অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরাসরি শপের তুলনায় সেটা হচ্ছে না। কারণ, কিছুসংখ্যক মানুষ অনলাইনে অভ্যস্ত হলেও বেশির ভাগ মানুষ বিপরীতে। হ্যাঁ, অনলাইনে সাড়া বাড়লেও যতটুকু দরকার সেই তুলনায় কম, তবে ভালো দিক এটাই অনলাইনের চাহিদা বাড়ছে।
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা অনলাইনকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে অনলাইন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তবে সবাই অনলাইনে অভ্যস্ত হয়নি, এতে সময় লাগবে। ভবিষ্যতের কথা বলতে গেলে অনলাইনের বিকল্প নেই। কিন্তু সরাসরি শপে গিয়ে কেনাকাটাই বেশি জনপ্রিয়, সে ক্ষেত্রে অনলাইন বিকল্প হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করছে।

ক্রেতা সন্তুষ্টির বিষয়ে বলতে গিয়ে সৌমিক দাস বলেন, ‘আমার মনে হয় গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য বেশি প্রভাব ফেলছে অফলাইন। কারণ, ক্রেতা সরাসরি পণ্য দেখে বুঝে পণ্য কিনতে পারেন। কিন্তু অনলাইনে ক্রেতা সরাসরি পণ্য দেখতে পারছে না। পণ্যের ছবি বা ভিডিও দেখে তারপর ক্রেতাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। গ্রাহক অনেক সময় পণ্যের মান নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন না, আমরা বিক্রেতারা অনেক সময় পণ্যের পরিপূর্ণ তথ্য দিতে পারছি না। আর অনলাইনে ক্রেতারাও বেশি অভ্যস্ত হননি এখনো। তাই সন্তুষ্টির কথা বলতে গেলে অফলাইন এগিয়ে এখনো। ভবিষ্যতের কথা আর বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে বলা যায় অফলাইন থেকে পুরোপুরি অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু ভালো দিক রয়েছে। অফলাইনে স্টোর ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে অনলাইনে স্টোর ব্যয় নেই। যদি অনলাইনে কাজ করি, সে ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব। ক্রেতার কাছে যাওয়াই আসল। আমরা যদি অনলাইনে লজিস্টিক সাপোর্ট পাই, তবে আমরা ধীরে ধীরে অনলাইনেই কাজ করব।’


অনলাইনে পণ্যের মান নিয়ে অনেকেই কমপ্লেইন করেন, সে ক্ষেত্রে কি অফলাইন ভালো, এ নিয়ে কথা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন সৌমিক। তিনি বলেন, এটা নির্ভর করে ক্রেতা কার থেকে পণ্য কিনছেন তার ওপরে। আমরা যেমন ব্র্যান্ড ভ্যালুর গুরুত্ব দিই, আমরা তো চাইলেই পণ্য এনে বিক্রি করতে পারি না। অনলাইন হচ্ছে আমাদের অফলাইনের বিকল্প স্টোর। এটা হচ্ছে ভবিষ্যতের মূল বিকল্প। আমরা সব সময় চেষ্টা করি যেন কোনোভাবেই পণ্যের মান খারাপ না থাকে। এটা তো সবাই দেখে না। তাই ক্রেতাকেও ভালো মানের পণ্য নিতে কোথা থেকে কেনাকাটা করছ এটা বুঝতে হবে।

অনলাইনের পণ্যের মান আর সঠিক খুব জরুরি। সরাসরি পণ্য কিনতে গেলে ক্রেতা পণ্য দেখে বুঝে কিনতে পারে। কিন্তু অনলাইনে সেটা সম্ভব নয়। তবে বিক্রেতার উচিত সঠিক তথ্য দিকে ক্রেতাকে সাহায্য করতে পারবে। পণ্যের খুঁটিনাটি সব তথ্য তুলে ধরলে ক্রেতা বুঝে পণ্য কিনতে পারে। রাখার জন্য ক্রেতাদের বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বিক্রেতার সচেতনতা খুব জরুরি অনলাইনে শপিং করার ক্ষেত্রে।
অফলাইন হোক কিংবা অনলাইন, ক্রেতাকে সন্তুষ্ট রাখা আর ভালো মানের পণ্য দেওয়াই ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য। টিকে থাকতে গেলে তোমাকে এ দুই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

7 + 16 =