ফ্রিজে রাখবেনা যেসব খাবার

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

খাবার ফ্রেশ রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে রেফ্রিজারেটরের কোন বিকল্প নেই। আমরা প্রায়শই মনে করি এটি আমাদের সমস্ত পচনশীল জিনিসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। কিন্তু তুমি জানো কি এমন কিছু খাবার আছে যা কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিৎ নয়?

কর্মব্যস্তময় জীবনে একটা ভালো রেফ্রিজারেটরের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এটি খাবার সংরক্ষণের পাশাপাশি আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দেয়। কিন্তু অনেক সময় এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো ঠান্ডা তাপমাত্রায় রাখলে কেবল খারাপই হয়ে যায়না বরং তাদের পুষ্টির মান ও স্বাদ হ্রাস করে। এতে সংরক্ষণের পুরো উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে দেয়। বাস্তবে এই খাবারগুলো ৬৪-৭১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি ঘরের তাপমাত্রায় রাখলেই ভালো থাকে। ফ্রিজে সংরক্ষণের থেকে বিরত থাকতে হবে যেসব খাবারের-

ব্রেডঃ

এই বিষয় নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও ব্রেড বা রুটি ফ্রিজে রাখা উচিৎ নয়। রুটির স্টার্চের অণুগুলো শীতল তাপমাত্রায় খুব দ্রুত ক্রিস্টালাইজ হয়ে যায়, যার দরুন এটি রুটিকে শক্ত ও বাসি স্বাদযুক্ত করে তোলে।

আলুঃ

আলু বা মিষ্টি আলু সরাসরি সুর্যালোক থেকে দূরে আলো-বাতাসবাহী জায়গায় রাখতে হবে। ব্যাগে রাখতে চাইলে প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে কাগজের ব্যাগে রাখতে হবে। ফ্রিজে রাখলে ঠান্ডা তাপমাত্রার কারনে তাদের স্টার্চ দ্রুত চিনিতে পরিনত হতে পারে।

টমেটোঃ

তরকারীর স্বাদকে বাড়িয়ে তুলতে টমেটোর কোন বিকল্প নেই। নিজের লাগানো হোক অথবা বাজার থেকে কেনা হোক টমেটো কম বেশি আমরা সবাই সংরক্ষণ করে রাখতে চাই। কিন্তু জানো কি, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় টমেটো যেভাবে পাকতে থাকে, ঠান্ডা করা মূলত সেই পাকা প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয় এবং স্বাদকে নিস্তেজ করে দেয়। এছাড়াও, ফ্রিজের তাপমাত্রা টমেটোর ত্বকের ক্ষতি করে, যার ফলে একধরনের জলীয় টেক্সচার চলে আসে। তুমি যদি রসালো, সুস্বাদু টমেটো বজায় রাখতে চাও তবে তা ফ্রিজ থেকে দূরে রাখো।

মধুঃ

মধু একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণকারী, তাই এটি ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। উপরন্তু, ঠান্ডা তাপমাত্রায় এটি স্ফটিক হয়ে যাবে।

অ্যাভোকাডোঃ

স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই স্ম্যাশড বা সালাদে অ্যাাভোকাডো পছন্দ করে। এই অ্যাভোকাডো ফ্রিজে সংরক্ষণ থেকে বিরত থাকবে। কেনার সময় যদি এটি শক্ত থাকে তবে তা ঘরের তাপমত্রায় পাকতে দাও। একমাত্র ব্যতিক্রম হল যখন অ্যাভোকাডো সম্পুর্ন পাকা হয় এবং এটি এখনি যদি না খেতে চাও। তবে তা সংরক্ষণ করলেও দুই বা তিন দিনের মধ্যে তা খেয়ে ফেলতে হবে।

স্ট্রবেরিঃ

তুমি যদি রসালো স্ট্রবেরি পছন্দ করো তবে তা ফ্রিজে রাখা থেকে বিরত থাকো। ঠান্ডা তাপমাত্রার জন্য এটি পানি বা আর্দ্রতায় ভিজে থাকবে যা তাদের নষ্ট করবে বা মিষ্টতা হারাবে। সরাসরি সুর্যালোক থেকে দূরে খোলা জায়গায় এগুলো সরংরক্ষন করতে হবে। আর স্ট্রবেরি কেনার পর এক বা দুই দিনের মধ্যে তা খেয়ে ফেলাই ভালো।

পেঁয়াজঃ

অন্ধকার ও ঠান্ডা স্থানে রাখাই ভালো। ফ্রিজে রাখলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একান্তই রাখার প্রয়োজন হলে কেটে বায়ুরোধক পাত্রে রাখতে হবে যাতে গন্ধ না ছড়ায়।

কফিঃ

সকালের ঘুমভাব অথবা ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ কফির কোন তুলনা নেই। তুমি যদি সুগন্ধযুক্ত কফির স্বাদ আস্বাদন করতে চাও তবে ফ্রিজে কফি বিন সংরক্ষণ করা বন্ধ করো। এতে শুধুমাত্র তোমার কফির স্বাদ এবং গন্ধ উভয়ই নষ্ট করে দিবে। এর পরিবর্তে ঘরোয়া তাপমাত্রায় অন্ধকার জায়গায় তা রাখা যেতে পারে। কফির গন্ধ ঠিক রাখতে বায়ুরোধী পাত্রে তা রাখা যায়।

ফ্রেশ হার্বঃ

সুগন্ধযুক্ত কফির মত তাজা ভেষজগুলো ফ্রিজে রাখলে দ্রুত তাদের গন্ধ হারায়। এছাড়াও শীতল তাপমাত্রা কম শক্ত গুল্ম যেমন ধনিয়াপাতা, পুদিনা, তুলসী ইত্যাদি গুলোতে আর্দ্রতা যোগ করবে, যার ফলে এগুলো শুকিয়ে যাবে এবং স্বাদ হারাবে। অল্প সময়ের জন্য রাখতে হলে প্লাস্টিকের ব্যাগে বা মোড়কে রাখতে হবে।

-ছবি সংগৃহীত।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one × 3 =