বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, তারপর?

করেছে Wazedur Rahman

মানুষের একটি বিশ্বাস রয়েছে যে সবচেয়ে কাছের বন্ধুরা একে অপরের প্রেমে পড়লে তারা সেরা জুটি হয়, আবার অনেকেই পরামর্শ দেন যে সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক না জড়ানোই ভালো। কী যে ভালো আর কী মন্দ সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবু বলার চেষ্টা।

একবার যদি ভালোবাসা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে ভালোবাসার পাশাপাশি বন্ধুত্বটাও নষ্ট হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলেছেন, প্রেমের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পরিচিতজনকে (বন্ধু) অন্যের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। এই পরিচিতজনকে প্রেমের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলে সম্পর্ক ভালো হয়।

নিরাপত্তাবোধ থেকে কাছে আসা

যে কোনো সমর্থন, সমর্পণে যার কাছে যাওয়া যায়, সেই তো বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই যদি একসঙ্গে বড় হয় দুজন, তাহলে বোঝাপড়াটা অনেক মজবুত থাকে। সে ক্ষেত্রে নতুন একটা সম্পর্কের শুরুতে দুজনেই মানসিকভাবে যথেষ্ট নিরাপদ বোধ করে।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম না হলে যার কাছে গেলেই সব শান্তি হতো তখন তার কাছে গেলেই কষ্ট পাওয়ার ভয়ে সম্পর্ক পরিণত হয় এড়িয়ে যাওয়ার। অনেক ক্ষেত্রেই অনেক বন্ধু তার সেরা বন্ধুর কাছে প্রেমের আহ্বান আশা করে না সে ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের মতো ব্যাপার ঘটে থাকে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হলে পুরো প্রেম পর্বটাই থাকে জমজমাট। সাধারণত পড়াশোনা চলাকালীন সময়টার অনিশ্চয়তা, চতুর্মুখী চাপের সময়টায় বন্ধুত্বের পাশাপাশি প্রেমের এই অনুভূতিটুকু পারস্পরিক প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

আর যদি প্রেমটাই না হয়

সহজ, স্বাভাবিক বন্ধুত্বে নেমে আসা কঠিন হয়ে যায়। বন্ধুত্বে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায়। এটুকু মনে রাখা যায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যাখ্যা গভীরভাবে চমৎকার,

বন্ধুত্ব ক্রমশ পরিবর্তিত হইয়া ভালোবাসায় উপনীত হইতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা নামিয়া অবশেষে বন্ধুত্বে আসিয়া ঠেকিতে পারে না। একবার যাহাকে ভালোবাসিয়াছি, হয় তাহাকে ভালোবাসিব নয় ভালোবাসিব না; কিন্তু একবার যাহার সঙ্গে বন্ধুত্ব হইয়াছে, ক্রমে তাহার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপিত হইতে আটক নাই।

সুতরাং একজন আরেকজনকে প্রপোজ করার আগে, আকার-ইঙ্গিত সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়ে প্রপোজ করা উচিত। যদি পজিটিভ মনে না হয়, তবে বন্ধু হয়েই থাক না।

ভালো-মন্দে

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম অতঃপর বিয়েতে গড়ালে নতুন করে নিজেকে চেনানোর ব্যাপারগুলো থাকে না। একজন আরেক জনের পছন্দ, অভ্যাস, অন্যভস্ততা, রুচির ব্যাপারগুলো পরিচিত থাকায় নতুন করে আর মানিয়ে নিতে কষ্ট হয় না।

কতটুকু সফল

টানাপোড়েন এ সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই ক্লাসে একই বিষয়ে পড়াশোনা করে একই পেশায় ক্যারিয়ার গঠন বা একই সঙ্গে উচ্চতর পড়াশোনায় যারা আছে তাদের জীবন সম্পর্কে জানা যায় বিয়ের আগে বেশির ভাগেরই বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের পর সম্পর্ক বিয়েতে গড়িয়েছে।

স্বস্তিদায়ক হয় এই সম্পর্কগুলো? যদিও ‘The secret of a happy marriage remains secret’। তারপরও বিপরীত গল্প তৈরি হয়। খুব আবেগপ্রবণ ভালোবাসাই যে সফল দাম্পত্য জীবন নিশ্চিত করে, ব্যাপারটি তা হয়ে ওঠে না।

শুধু ভালোবাসার অভাব নয় বিয়ের পর বন্ধুত্বের অভাবই অসুখী দাম্পত্য জীবনের একটি কারণ হতে পারে। তাই বিবাহিত জীবন স্বস্তিদায়ক ভালোবাসার চেয়েও অন্যান্য যে কটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ‘বন্ধুত্ব’ তার মাঝে একটি।

এমনটিও ঘটে থাকে, এমন জুটি রয়েছে কখনোই বন্ধু ছিল না বা দীর্ঘদিনের পরিচিতও নয়, তারা একে অপরের প্রতি দুর্বল হয়েছে স্বল্প সাক্ষাতেই, প্রথমেই বন্ধুত্বে পরিণত হয় না এই সম্পর্ক। জানাশোনা বাড়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে এই আকর্ষণ বাড়তে থাকে, ভালোবাসার বন্ধনটাও মজবুত হয়, তারপর তারা আবিষ্কার করে যে তারা একে অপরের ভালো বন্ধুও। এই আবিষ্কার একসঙ্গে চলার জীবনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সহজতর করে তোলে।

আসলেই কি রোমান্স কমে যায়?

অনেকেই ভাবে, বন্ধু যদি জীবনসঙ্গী হয় তাহলে রোমান্স একটু কমে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এটাও বলা যায় যে একটা সম্পর্কের সফলতা কেবল রোমান্সের ওপরই নির্ভর করে না। একটি সফল সম্পর্কের আরও অনেক উপাদান রয়েছে, যেগুলো সম্পর্ককে সুন্দর ও আনন্দের করে তুলতে সর্বোপরি এ কথাই সবচেয়ে বড় সত্য যে সঙ্গী একই সঙ্গে কখনো বন্ধু, কখনো জীবনসঙ্গী, কখনো ভালোবাসার মানুষ। সবচেয়ে বেশি মনোযোগ, সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পাওয়ার আশা সে-ই করতে পারে।

আরবি ভাষার বিশ্বখ্যাত কবি, দার্শনিক, চিত্রশিল্পী কাহলিল জিবরান ‘যা তোমার সর্বোৎকৃষ্ট’ তাই বন্ধুকে দিতে বলেছেন। আর জীবনসঙ্গী যদি হয় বন্ধু তবে তুমিই তার জন্য বড় উপহার। আর সেও তোমার জীবনে সর্বোৎকৃষ্ট কেউ।

 

লেখা: তাসনুভা রাইসা 
ছবি: সংগ্রহীত 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 × 1 =