বর-কনের মানসিক প্রস্তুতি

করেছে Sabiha Zaman

সায়মা রহমান তুলি: বিয়ে এমন এক বন্ধন, যা চিরস্থায়ী করতে চায় সবাই। দুজন মানুষের আত্মিক সম্পর্ক জুড়ে দিতে আয়োজনের কোনো কমতি থাকে না। কিন্তু এত সব হই-হুল্লোড়ে অবহেলায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে বর-কনের মানসিক স্বাস্থ্য। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিয়ে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ভুল হলে বিশাল মাশুল গুনতে হয় পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে। বর্তমানে নারী-পুরুষ সবাই খুব সচেতন। তারপরও ভুল হচ্ছে এবং বিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঠিক কোন বয়সে বিয়ে করতে চাও, তা পরিকল্পনা করা জরুরি। বিয়ের ব্যাপারেও অদৃষ্টবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনেকের জীবনকে কঠিন করে তোলে। ক্যারিয়ার ও নিজে জীবনে কী চাচ্ছ যে মানুষটা থেকে তুমি কি প্রত্যাশা করে সেই সব বিষয় খেয়াল রেখে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের পছন্দ বিয়ের সুবিধা পাত্র-পাত্রী আগে থেকে নিজেদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব থাকার কারণে বোঝাপড়াটা সহজ। অন্যদিকে পারিবারিক বিয়েতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কম সময় পাওয়া যায়। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই সহজ হতে সময় লাগে। বিয়ের পাকা কথা হয়ে যাওয়ার পর হবু বর-কনের বেশ কয়েকবার কথা বলা, দেখাশোনা, একসঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটা, কোথাও খেতে যাওয়া একে অপরের ভালো লাগা-মন্দ লাগা জানাটা খুব জরুরি। দুজনকেই মনে রাখতে হবে টিভি সিরিয়াল, সিনেমা ও বাস্তবতার মধ্যে অনেক পার্থক্য। সবকিছু কল্পনা বা নিজের মতো করে হবে না সব সময়।

স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা থাকতে হবে দুজনের। শেয়ার করতে হবে একে অপরের সঙ্গে। যথাসম্ভব নেগেটিভ শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে অপরের প্রশংসা দিয়ে শুরু করলে ভালো। যে বিষয়গুলো ভালো লাগছে না, তা বদলাতে অনুরোধ করা যেতে পারে। যেমন স্ত্রীর যদি মনে হয় স্বামীর ধূমপান করা ভালো লাগছে না, তাহলে রিঅ্যাক্ট না করে জানাতে হবে যেহেতু বিষয়টি সবার জন্যই ক্ষতিকর তাই চেষ্টা করতে হবে বাদ দিতে। বিয়ের আগে দুজনকে সব বিষয়েই পরিষ্কার থাকা জরুরি।

বিয়ের পর
একে অপরের স্বাধীনতায় যেন বাধা না হয়। কোনো শর্ত থাকলে তা আগেই জানাতে হবে। কোনো মিথ্যার আশ্রয় কিংবা ভুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে করা অপরাধ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মেয়েরা বিয়ের আগে প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকে, যা কারও চোখেই পড়ে না। নতুন সংসার নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা সব মিলিয়ে একটা ভীতি কাজ করে। অনেক মেয়ের বারবার মুড সুইং করে। ছেলেরা যে দুশ্চিন্তা করে না তা কিন্তু নয়। দায়িত্ববোধ কিংবা স্ত্রীর আগমনে সংসারের অন্যদের আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে ছেলেরাও ভাবে। সম্পর্কেও আগে যতটুকু প্রয়োজন জেনে নিলে আস্থা তৈরি হয়। কখনো আবেগের বশে বা কোনো রকম চাপে বিয়ে না করাই ভালো। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করা নিজেরই ক্ষতি। বিয়ে মানে একে অপরকে দয়া করে সম্পর্ক করাও নয়। উভয়ই একে অপরের পরিপূরক। যখন তুমি বুঝবে তুমি বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নও, তখন পাত্র-পাত্রী দেখে সময় নষ্ট করবে না। অনেকের বিয়েভীতি আছে। নতুন জেনারেশনের অনেকে বিয়েতে বিশ্বাসী  নয়, এটা তাদের চয়েস। এসব ক্ষেত্রে পরিবারকে জানাতে হবে তুমি কি চাইছ। স্বাভাবিক ভীতি হলে কাউন্সিলরের পরামর্শ নিতে পারো। যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হলো তার সঙ্গে আলাপ করে দুজনই কাউসেলিংয়ের সেবা নিতে পারো।

বিগ বাজেটে রাজকীয় আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে উভয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া সময়ের দাবি। বিয়ের আগে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। পেইন্টিং, ভালোবাসা বা সম্পর্ক নিয়ে লেখা বই, ফুল, ক্যান্ডেল, মনের ভাব প্রকাশ করে চিরকুট ছোট উপহারে সম্পর্ক বেড়ে ওঠে। জীবনসঙ্গীকে আশ^স্ত করা জরুরি সারা জীবন সঙ্গে থাকতে চায় বলেই বিয়ে করছ। একে অপরের শক্তি সুখের কারণ হবে। বিশেষ রূপচর্চা করো। নিয়মিত ঘুমাও, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করো, প্রচুর পানি খাও, মেডিটেশন করো, ভালোবাসার গান শোনো। হাসিখুশি থাকো আর উত্তেজিত হওয়া থেকে বিরত থাকো। পজিটিভ থাকতে হবে সব সময়। সম্পর্কটা শারীরিক, মানসিক, সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নতুন প্রাণের আবির্ভাবের আকাক্সক্ষা পৃথিবীকে সুন্দর করার মতো দারুণ দারুণ সব অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর।

লেখক: গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী

ছবি: ছায়াছবি

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × one =