বলিউডে নেপোটিজম

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

সময়ের সাথে সাথে বিষয়টি থিতিয়ে গেলেও বলিউড ও নেপটিজম যেন একই সুতোয় গাঁথা। তারকা নির্বাচন, ছবি নির্বাচন থেকে শুরু করে বড় বড় পরিচালকদের সংস্পর্শে আসা সবকিছুতেই কথিত ‘স্টার কিডস’দের রয়েছে একটু বিশেষ সুবিধা। বহু বছর ধরে চলে আসা এই প্রথার শিকড় সমাজের প্রায় সকল স্তরে গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এই বলিউড ইন্ড্রাস্ট্রিতে নেপোটিজমের প্রভাব অনেকটা নেতিবাচক ভাবেই পড়েছে।

বেশ কিছু বছর ধরে ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে বলিউড নিজেকে এক অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে। পুরো বিশ্বে বি-টাউনের মুভিগুলো একাই রাজত্ব করছে। কিন্তু গত প্রায় ২০ বছর ধরে নেপোটিজমের বিষবাষ্প এই ইন্ড্রাস্ট্রির রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত “কফি উইথ কর্ন” অনুষ্ঠানে পরিচালক কর্ন জোহারকে স্বজনপোষণের পতাকা বহনকারী বলে মন্তব্য করার পর থেকেই মূলত এই বিষয়টি লাইমলাইটে আসে। প্রতিযোগিতাপূর্ন বলি ইন্ড্রাস্ট্রিতে একজন স্টার কিডস যে ধরনের সুবিধাগুলো পেয়ে থাকে বহিরাগতদের ক্ষেত্রে তা পাড়ি দিতে অনেক পথ যেতে হয়। আলিয়া ভাট, বরুন ধাওয়ান, সোনাক্ষী সিংহ, অর্জুন কাপুরদের মত তারকার সন্তানদের ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় বড় পরিসরে, বড় প্রোজেক্টের মাধ্যমে। আবার এই বড় বাজেটের ছবি ফ্লপ করার পরেও শুধুমাত্র পরিবারের পরিচয়ের কারনে সোনম কাপুর, হর্ষবর্ধন কাপুর বা আথিয়া শেঠির বারবার ছবির প্রস্তাব পাওয়া নেপোটিজমের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুর যার শুরুটাই হয় ফ্লপ ছবি দিয়ে। পরপর ছবিগুলো ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও কর্ণ জোহার, অয়ন মুখোপাধ্যায় মত নামী পরিচালকদের ঠিক ডাক পান। অভিষেক বচ্চন, উদয় চোপড়ার মত তারকাদের ঝুলিতেও  হিট পাওয়া মুভির সংখ্যা একেবারেই নগন্য।

তারকা পরিবার থেকে না এসেও নিজ কর্মদক্ষতার মাধ্যমে সফলতা পাওয়া যায়। তার বড় উদাহরন হলো কঙ্গনা রানাওয়াত। মিডিয়াতে সৎ মতামত প্রকাশের জন্য সুপরিচিত এই অভিনেত্রী তার কাজের জন্য মোট ৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ করেছেন। মিস ওয়ার্ল্ড খেতাবপ্রাপ্ত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলিউডের পাশাপাশি হলিউড মুভিতেও সমানভাবে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। শিল্পকলায় অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

শুধু তারকাখ্যাতি নয় ভালো কনটেন্ট দিয়েও ছবি হিট করা যায়, যার বাস্তব নিদর্শন অক্ষয় কুমার। অক্ষয় মানে বক্স অফিস হিট। খানদেরকেও পিছনে ফেলে পরপর ছবি শতকোটির ক্লাবে ঢুকার ইতিহাস আছে তার। এছাড়াও আয়ুষ্মান খুরানা, রাজকুমার রাও এদেরও ঝুলিতে আছে অনেক হিট করা মুভি। প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত, ফিল্মি ৭ বছর ক্যারিয়ারে হিট-সেমি হিট মিলে ১১টি ছবি উপহার দিয়েছেন। তারকা পরিবারের বাহিরে থাকা আসা এই অভিনেতাদের সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। প্রতিবাদে কেউ কিছু বলে থাকলে তাকে ব্ল্যাক লিস্টেড হতে হয়। নামী পরিচালক, বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের তাদের প্রতি এক ধরনের উন্নাসিকতা মনোভাব থাকে। সুশান্তের আকস্মিক  মৃত্যু এই নেপোটিজম ব্যবস্থাকে বারবার দাঁড় করিয়ে দেয় কাঠগোড়ায়।

তারকার সন্তান তারকা- এই তত্ত্বে খারাপ কিছু নেই। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে সঠিক প্রতিভাকে দমিয়ে রাখলে তখনই দেখা দেবে বিপর্যয়। যার ফলশ্রুতিতে আমরা হারিয়ে ফেলব এক একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

fourteen + eleven =