বাংলার বাঘিনী’দের জয়

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপালে ইতিহাস গড়েছেন বাংলার নারী ফুটবলাররা। সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ৩-১ গোলে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ দল।

নেপালের কাঠমুন্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়াম, রণক্ষেত্র তৈরি।  বৃষ্টিস্নাত কর্দমাক্ত মাঠে একপাশে রয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল অন্যদিকে রয়েছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বি স্বাগতিক নেপাল দল। বাংলাদেশের সময় বিকেল সোয়া ৫টায় শুরু হয়ে যায় সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের শিরোপা লড়াই। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ও স্টেডিয়াম থেকে ধেয়ে আসা নেপালের সমর্থকদের হর্ষধনি কে উপেক্ষা করে ১৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার করেন প্রথম গোল। পরবর্তীতে ৪১ মিনিটে নেপালি দর্শকদের আবার স্তব্ধ করে দেন কৃষ্ণা। তাঁর দুর্দান্ত শটে গোলকিপার আনজিলার মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যায় সোজা নেটের জালে। ফলাফল ২-০। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যান সাবিনা খাতুনরা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন আনতে মরিয়া হয়ে উঠে নেপাল দল। যার ধারাবাহিকতায় ৭০ মিনিটের মাথায় আনিতা বাসনেতের এক শটে বল উড়ে যায় বাংলাদেশের জালে। ম্যাচ পরিনত হয় ২-১ এ। এরপর চলতে থাকে আক্রমন-পাল্টা আক্রমন। তবে খুব বেশি আর অপেক্ষা করতে হয়নি। ৭৭ মিনিটেই কৃষ্ণা রানী সরকারের সেই কাঙ্ক্ষিত গোল দিয়ে জয়ের ট্রফি ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

                                                                   

 

 

 

সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা অতটা সহজ ছিলোনা বাংলাদেশ দলের জন্য। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই চ্যাম্পিয়নশিপে ৬ বারের মধ্যে ৫বার শিরোপা জিতেছে ভারত। ২০১৬ সালে শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সাফের আয়োজনে ৬-০ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়ে প্রথমবারের মত ফাইনাল খেলার স্বাদ নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শিরোপা জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সাল। ফাইনালে উঠার পথে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ হারায় মালদ্বীপ ও পাকিস্তানকে। সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ভুটানের সাথে। ৮-০ এক বিশাল ব্যবধানে ভুটানকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে পৌঁছায় বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টানা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারানো নেপালের বিপক্ষে জয়ী হওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো বটে, কিন্তু বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ দল দক্ষতা ও গোল কিপার রুপনা চাকমা’র সুনিপুণ রিসিভিং, টাইমিং  তাদের জয় আনতে সক্ষম হয়েছে। টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও।

                                                               

২০০৩ সালে ছেলেদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর এটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্জন। আজ বুধবার (সেপ্টেম্বর, ২১)  দেশের আপামর ক্রীড়াপ্রেমীরা এই বীর ফুটবলারদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নিয়েছেন।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

16 − three =