বাচ্চার ব্রেন বিকাশে সহায়ক খাদ্য

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

বাচ্চাদের খাওয়ানোর সময় আমরা এমনভাবে খাবার নির্বাচন করে থাকি যাতে সকল পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ থাকে। যা বাচ্চার শরীর বিকাশে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি ছোট থেকেই শিশুদের খাবারের তালিকায় এমন কিছু খাবার রাখা দরকার যা তার ব্রেন-বুস্টার রূপে কাজ করবে। এমন কিছু খাবার নিয়েই আজকের আয়োজন। 

বাচ্চারা অনুকরণ প্রিয়। দেখা যায় যে একটি ছোট বাচ্চা ভালোভাবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারার আগেই যে কোন কিছুই আগে শিখে এবং যেকোন নতুন নতুন তথ্য স্পঞ্জের মত শোষণ করে নেয়। এই থেকেই বুঝা যায় যে তার অন্যান্য একটিভিটিসের তুলনায় মস্তিষ্কের বিকাশ আগেই শুরু হয়ে যায়। গর্ভে শিশুর বিকাশের সাথে সাথে মস্তিষ্কের কোষগুলো আশ্চর্যজনক হারে বৃদ্ধি পায়। ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের মতো মোটর ফাংশন বিকাশের ফলে মস্তিষ্ক শৈশবকালে বৃদ্ধি পেতে থাকে। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বিভিন্ন মস্তিষ্কের খাবার দ্বারা ত্বরান্বিত হতে পারে, যা জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও ফোকাসকেও উন্নত করতে পারে। মস্তিষ্ক একটি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অঙ্গ এবং আমরা যে খাবার খাই তা থেকে পুষ্টি শোষণ করে। তার জন্য বাচ্চাদের জন্য, সঠিক পুষ্টি না পাওয়া তার জ্ঞানীয় বিকাশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যা পরবর্তী জীবনে স্মৃতি, মনোযোগ এবং একাডেমিক ক্ষমতাকে প্রভাবিতে করে।

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য মূল পুষ্টি

যদিও সমস্ত পুষ্টি মস্তিষ্কের বৃদ্ধি এবং কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ন, কিছু কিছু অন্যদের তুলনায় প্রাথমিক মস্তিষ্কের বিকাশে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স কমিটি অন নিউট্রিশন বাচ্চাদের সুস্থ মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য কিছু পুষ্টির সুপারিশ করে-

-কোলিন

-ফলেট

-আয়োডিন

-আয়রন

-ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

-প্রোটিন

-ভিটামিন এ, ডি,বি৬ এবং বি১২

-জিঙ্ক

ব্রেন উন্নতিতে সহায়ক খাদ্য

কোন একটী নির্দিষ্ট খাবার বা সুপারফুড বাচ্চাদের জন্য সর্বোত্তম মস্তিষ্কের বিকাশ নিশ্চিত করতে পারেনা। কিন্তু কিছু খাবার আছে যা বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুনে ভরপুর থাকে। যেমন-

ডিম

ডিম প্রোটিনের একটি বিস্ময়কর উৎস হওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ডিমে মস্তিষ্ক বৃদ্ধিকারী পুষ্টি উপাদানের মধ্যে রয়েছে কোলিন, ভিটামিন বি১২। কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য গুরুত্বপুর্ন এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। দিনে দুটি সম্পুর্ন ডিম কোলিন সরবরাহ করে যা ৮ বছর এবং তার চেয়ে কম বয়সী শিশুদের প্রয়োজন।

তৈলাক্ত মাছ

তৈলাক্ত মাছ এবং অন্যান্য সি-ফুডও অনেক উপকারী যাতে আছে প্রোটিন, জিঙ্ক, আয়রন, কোলিন, আয়োডিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাট। তবে সি-ফুডের ক্ষেত্রে সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ যেগুলোতে পারদ বেশি থাকে। যেমন টুনা ও সোর্ডফিশ। অত্যধিক পারদ বাচ্চার উন্নয়নশীল স্নায়ুতন্ত্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তার পরিবর্তে চিংড়ি, সালমন, তেলাপিয়া বা কডের মতো কম পারদের বিকল্পগুলো বেছে নেয়া যায়। ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ১-আউন্স পরিবেশন করা যেতে পারে।

সবুজ শাকসব্জী

আমরা জানি ব্রেইনের জন্য আয়রন খুবই দরকারি। লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক, থানকুনি পাতা এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন, আঁশ আর নানারকমের ঔষধি গুন। বাচ্চাদের যখন থেকে সলিড খাবার দেয়া শুরু করা হয় তখন থেকেই খিচুড়ির সাথে এই ধরনের শাকসবজি দেয়া যায়।

মাংশ

চর্বিহীন গরুর মাংশ মস্তিষ্কের খাদ্য হিসেবে চমৎকার কাজ করে কারন এটি জিঙ্ক এবং আয়রনের ভালো উৎস। আয়রন বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য অত্যাবশ্যক কারন তাদের রক্তশূন্যতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

দুগ্ধজাত দ্রব্য

ডেইরি প্রোডাক্টস প্রোটিন এবং বি ভিটামিন সমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কের কোষ, নিউরোট্রান্সমিটার এবং এনজাইমের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। উপরন্তু দুধ এবং দই প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট উভয়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পুষ্টিকর প্যাক, যা মস্তিষ্কের পছন্দের জ্বালানীর উৎস।

পিনাট বাটার

থায়ামিন ছাড়াও ,যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তির জন্য গ্লুকোজ বযভাড় কোড়োটে সাহায্য করে, চিনাবাদাম এবং চিনাবাদাম মাখন বা পিনাট বাটার ভিতামিন ই এর একটি ভালো উৎস। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা নিউরোনাল মেমব্রেন সংরক্ষণ করে।

ওটস

বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিয়ালগুলোর মধ্যে একটি হল ওটস, যা একটি পুষ্টিকর মস্তিষ্কের জন্য শস্য। বাচ্চাদের সকালে শক্তির প্রয়োজন হয় যা ওটস প্রচুর পরিমানে সরবরাহ করে। ওটসের উচ্চ ফাইবার উপাদান একটি শিশুর মস্তিষ্ককে পুরো দিনের জন্য জ্বালানী দিয়ে রাখে। এতে আছে পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ভিতামিন ই,বি এবং অন্যান্য পুষ্টি যা শরীর ও মনকে সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

বীনস

এটি অনন্য কারন এতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার থেকে শক্তির সাথে প্রচুর ভিটামিন একং খনিজ রয়েছে। এটি যদি দুপুরের খাবারের সাথে খাওয়া হয় তবে তা সারা বিকাল জুড়ে একটি শিশুর শক্তি ও মানসিক ক্ষমতা বজায় রাখে।

সন্তানের পুষ্টির গুনমান এবং ভারসাম্য তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্ধারন করে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য। গবেষণায় দেখা গেছে এই তালিকায় থাকা খাবারগুলো মস্তিষ্কের বিকাশ ও কার্যাকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। তাই চেষ্টা করতে হবে বাচ্চার খাদ্যতালিকা তৈরি করতে এমনভাবে করতে যাতে এই সব খাবারের সমারোহ থাকে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eighteen − fourteen =