বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের মানসিক যত্ন

করেছে Suraiya Naznin

রোদসী ডেস্ক:

কেন যেন আর দুটো মন মিলতে চাচ্ছে না। সব কাজেই মনের সঙ্গে দ্বীধা চলছে। এক ছাদের নিচে দম বন্ধ অবস্থা। দুজনের সম্পর্ক ঠিক আগের মতো যাচ্ছে না, রাখতে চাইলেও দিনশেষে দ্বন্দ আছেই। এই সময় দুজনের সম্মতিতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। এতে দুজনের মানসিক অবস্থা হয়তো কয়েকদিন পরে ঠিক হবে কিন্তু সন্তান থাকলে? এসব ক্ষেত্রে সন্তানের উপর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বিচ্ছেদ হলেও সন্তানের ভালোর জন্য তার সঙ্গে দুজনকেই সময় দিতে হবে একইরকম।

সম্পর্কে একবার ভাঙন ধরলে মন থেকে তা আটকানো খুবই মুশকিলের। যে কোনও বিচ্ছেদই পীড়াদায়ক। আর ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদের মতো বিষয়টি তো কেবল মানসিক বিচ্ছেদ ঘটায় না, এর সঙ্গে সংসার ও সন্তানরা জড়িত থাকে। এই বিচ্ছেদের রেশ কাটতে কখনো মাস বা বছর লেগে যায়।

তবে ডিভোর্স মানেই যে সন্তানের সামনে একে অপরের নিন্দা করবে না নয়। সন্তানের সামনে ঝগড়াও নয়। কারণ একজন শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে দুজনকেই সমান ভাবে প্রয়োজন। আর সেক্ষেত্রে বাচ্চার মনে যাতে কোনও রকম আঘাত না লাগে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবে। কারণ আইন আদালতে বাচ্চাকে নিয়েও অনেক টানাহ্যাঁচড়া হয়, একে অপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুড়ি , তিক্ততা এসব থাকেই। তবে সন্তানের দায়িত্ব যদি মা পান তাহলে অবশ্যই বাবার সঙ্গে সপ্তাহে একদিন দেখা করার জন্য রাখতে হবে।

*ডিভোর্সের পর সুসম্পর্ক বজায় রাখা খুবই কঠিন। এমনকী অনেকে বন্ধুর মতো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান। রাখেনও। কিন্তু সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও অতটা সহজ নয়। তবে একে অপরের নামে কুৎসা রটিয়ে বেড়াবে না। খারাপ কথাও বলবে না। কারণ পৃথিবীটা গোল। যে কোনও দিন এক্সের সঙ্গে দেখা হয়েই যেতে পারে।

 

 

*সন্তানকে বলবে না যে তোমার বাবা খুব খারাপ বরং বুঝিয়ে বলো কিছু সমস্যার জন্য আপনারা আলাদা থাকতে হচ্ছে। কিন্তু বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক আছে ঠিক আগের মতই। সন্তানকে একই রকম ভালোবাসতে হবে। এটা দুজনকেই উদ্যোগ নিয়ে বোঝাতে হবে।

*সন্তানদের জন্যই মাঝেমধ্যে একসঙ্গে দেখা করতে হবে। ডিনার কিংবা লাঞ্চে চলে যাও। এছাড়াও সন্তানের জন্মদিনে মা-বাবা দুজনেই উপস্থিত থাকতে পারো। প্রয়োজনে তাদের মন ভালো রাখতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া যায়। খেয়াল রাখতে হবে মানসিক ভাবে যাতে সন্তান একা না হয়ে পড়ে।

*মা-বাবার ডিভোর্স হলে তার একটা প্রভাব সন্তানের উপর পড়েই। সম্পর্ক নিয়ে সন্তান ভাবতে ভয় পায়। মন খুলে কথা বলতে পারে না। অহেতুক রাগ, অ্যাংসাইটি এসব আসেই। আর তাই যদি এরক কোনও লক্ষণ দেখেন তাহলে সন্তানের নিয়মিত কাউন্সেলিং করাতে হবে। এছাড়াও কখনও তাকে একা ছেড়ে দেবে না। বাড়িতে রেখে এদিক ওদিক ঘুরতে যাওয়ার পরিবর্তে তাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাও। ঘরে থাকলে একসঙ্গে সময় কাটাতে হবে। এতে সন্তান বুঝবে পাশে কেউ আছে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one × 3 =