বিরক্তিকর সহকর্মী?

করেছে Sabiha Zaman

অফিসে কাজের সময় মাথা ও মেজাজ দুই-ই যদি নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারো, তাহলে তা যেমন কাজের ক্ষতি ডেকে আনবে, তেমনই প্রভাব ফেলবে তোমার মানসিকতার ওপরেও। তাই অফিসে কাজের জায়গাটি হওয়া উচিত সবচেয়ে মনের মতো। এই জায়গাটিতেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে। তাই এখানে স্বস্তি বা শান্তির পরিবেশ না থাকলে চাপের মুখে কাজ করাও যেমন অসম্ভব, তেমনই পেশার প্রতিও আসতে পারে বিরক্তি।
অফিসের নানা রাজনীতি, ওঠা-পড়া ও কাজের দায়িত্বের সঙ্গে যুঝতে গেলে কাজের জায়গায় সুপরিবেশ থাকা জরুরি। কিন্তু অনেককেই অফিসে নানা রকম সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তার মধ্যে অন্যতম কোনো সহকর্মীর বিরক্তিকর আচরণ। এমনিতেই অফিসে বিভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা নানা মনের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়। তাই সবার সঙ্গে মনের মিল হওয়া সম্ভবও নয়।

তাই অল্পবিস্তর মানিয়ে গুছিয়ে নিতে হয় সবার সঙ্গেই। তার মধ্যে কেউ যদি একটু বেশিই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান, তাহলে তার সঙ্গে কিছু কৌশল অবলম্বন করে চলো। এতে তিনিও বিরক্ত করার সুযোগ পাবেন না এবং তুমিও বারবার বাগ্বিতণ্ডায় না জড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে পারবে।
মনে রাখবে, অফিসটা কাজের জায়গা। তোমার কোনো বিরক্তিকর সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা নিয়ে অন্য সহকর্মীরা তোমার পক্ষ নিলেও বা তা নিয়ে সেই সহকর্মীর সমালোচনা করলেও এই অশান্তি বারবার হতে দেবে না। এতে কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে তুমিও হাস্যাস্পদ হয়ে ওঠো। তাই প্রথম থেকেই এমন সহকর্মীর সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করো, যাতে সহজে তোমার সঙ্গে কোনো বিতর্ক বা অকারণ ঝঞ্ঝাটে তিনি না জড়াতে পারেন।কাজের প্রয়োজন বা দরকারি কথা ছাড়া এমন মানুষের সঙ্গে খুব একটা অন্য কথায় যাবে না। তার বলা কোনো কথাতেও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকো।

সাধারণত এরা এক কথার অন্য মানে করে তা নিয়ে সমস্যা তৈরি করে। তার বলা কথা বা মন্তব্য নিয়ে অকারণে মাথা গরম করবে না। বরং সেসব কথাকে মজার ছলে নিয়ে বুঝিয়ে দাও তুমি সে সব কথাকে কোনো গুরুত্বই দাওনি। উপেক্ষাই এ ধরনের মানুষকে জব্দ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
এই ব্যক্তি যদি তোমার চেয়ে বড় পদমর্যাদার হন, তাহলেও তাকে রেয়াত করা ঠিক হবে না। বরং এসব ক্ষেত্রে বুদ্ধি খাটিয়ে সম্পর্ক ভালো রাখো। যেসব বিষয়ে তিনি আলোচনা করতে পছন্দ করেন বা যেসব বিষয়ে তিনি বিরক্ত হন না, পারলে সেগুলোই আলোচনা করো। নিজের কাজে এমন কোনো ফাঁকও রাখবে না, যা থেকে তিনি বিরক্ত করার সুযোগ পান। যদি এঁর সঙ্গে কোনো বিষয়ে সমস্যা তৈরিও হয়, তাহলে মন-মেজাজ ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত কোনো উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে অংশ নেবে না। বরং সংযত হয়ে তাঁকে জানাও, এ বিষয়ে কিছু পরে তুমি তার সঙ্গে আলোচনা করবে।

তবু এমন মানুষের কোনো রকম সমস্যার জন্য যদি নিজের কাজের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তাকে সে বিষয়ে অবগত করো। তারপরও অভ্যাস না বদলালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলো।

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eight − five =