বিশ্বজুড়ে বিয়ের ইউনিক খাবারের ঐতিহ্য

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

বিয়ে যে কোন মানুষের জীবনেই এক পবিত্র বাঁধন। নানান দেশের নানান জাতির, এই বিয়ে ঘিরেই রয়েছে নানান ঐতিহ্য ও আচার অনুষ্ঠান। আর এই আয়োজনের মধ্যে অন্যতম হল বিয়ের খাবারের আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বিয়ের খাবারের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে কিছু অনন্য ঐতিহ্য। আর এসব কিছু নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

-বুলগেরিয়া

একটি ঐতিহ্যবাহী বুলগেরিয়ান বিয়েতে সবসময়ই রুটি ভাঙ্গার কাজ থাকে। কনের মা অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগেই রুটি বানিয়ে রাখেন। ডি-ডে, রিসেপশনের সময় তিনি নবদম্পতির হাতে তা তুলে দেন এবং তাদের তা আলাদা করতে বলেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল,যে রুটির সবচেয়ে বড় টুকরা টেনে আলাদা করতে পারবে বৈবাহিক জীবনে তার প্রভাব ও আধিপত্য বজায় থাকবে।

-আর্মেনিয়া

আর্মেনিয়ায়,ঘাপামা একটি ঐতিহ্যবাহী কুমড়ো খাবার যা সাধারনত বিয়ে সহ প্রধান অনুষ্ঠানের সময় পরিবেশন করা হয়। এটি একটি সুস্বাদু খাবার এবং আর্মেনিয়াম সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন যে একটি ছোট গান স্থানীয়রা এটি খাওয়ার সময় গায়। যে গানটিতে ঘাপামার অনন্য স্বাদ এবং গন্ধের প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘাপামা তৈরি করা কম ঝক্কির ব্যাপার নয়। কুমড়ো কাটা থেকে শুরু করে এর ভেতরে ফিলিং ঢোকানো পর্যন্ত অনেকগুলো স্টেপ পার করতে হয়।

-বারমুডা

বারমুডা বিয়ের ঐতিহ্যে, বর-কনে উভয়ের জন্য পৃথক কেক ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটিকে আলাদাভাবে সজ্জিত করা হয়। সাধারনত নববধূর কেকটি ৩টি স্তর ফ্রুটকেক দিয়ে তৈরি এবং সিলভার আইসিং দিয়ে আবৃত করা হয়, যা তাদের ফলপ্রসূ বিয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। বরের একক স্তরের কেকটি সমৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করায় তা সোনার আইসিংয়ে আচ্ছাদিত। কেক দুটির উপরে সিডারের চারা রাখা হয়, যা পরবর্তিতে দম্পতি তাদের ক্রমবর্ধমান ভালোবাসাকে বোঝাতে তাদের বাগানে রোপন করে।

-মেক্সিকো

মেক্সিকোতে পোলভোরোন বিয়ের একটি প্রধান খাবার। এগুলো হল ছোট চিনির কুকি। এগুলো স্থানীয়দের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।

-নাইজেরিয়া

নাইজেরিয়ায় কোলা নাটস খাওয়া একটি প্রতীকী কার্যকলাপ যা ঐতিহ্যগত বিয়ের সময় কখনোই ভুলে যাওয়া হয়না। উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন সমৃদ্ধ এ বাদামটিকে তারা ক্ষুধা দূর করা ও শক্তি পাওয়ার জন্য খেয়ে থাকে। বিয়ের সময় দম্পতি তাদের এবং তাদের পিতামাতার মধ্যে একটি কোলা নাটস ভাগ করে যা পরিবারের একটি মিলনকে চিত্রিত করে।

-থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ বিয়েতে ফোই থং কেক একটি আকর্ষনীয় কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ এই কেকটি নবদম্পতির জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও এর টপারটি ঐতিহ্যগতভাবে ফোই থং নুডুলস দিয়ে তৈরি ,যা ডিমের কুসুম ও চিনির সিরা দিয়ে তৈরি করে শুকানো হয়। তবে কেকের ফ্লেভার কি হবে তা নির্ধারন করে দেয় নবদম্পতি।

-গ্রীস

গ্রীস ঐতিহ্যবাহী বিয়ের জন্য পরিচিত। বিয়ের অভ্যর্থনাকালে অন্যান্য সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি একটি বিশাল রুটির সালাদ পরিবেশন করা হয়। রুটি সালাদ হল এমন একটি খাবার যাতে তাজা সামুদ্রিক স্ক্যালপস, গলদা কাঁকড়া, ক্যালামারি এবং ঝিনুকের মত উপাদেয় উপাদান রয়েছে ।

চীন

চীনের বিয়েতে জমকালো ধুমধাম করে অতিথিদের জন্য একটি ৪-কোর্স ভোজের সাথে সম্পুর্ন হয় যার মধ্যে পেকিং ডাক অন্যতম। লাল হাঁসের খাবার অত্যন্ত প্রতীকী কারন লাল নতুন দম্পতির জন্য সুখের প্রতিনিধিত্ব করে।

-ফ্রান্স

ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের কেক যা ক্রোকামবুস নামে পরিচিত। প্রকৃতপক্ষে এটি কোন কেক নয়। এটি আসলে অনেকগুলো ক্রিমপাফ যা টাওয়ারের ন্যায় সাজানো হয়। অতিথি প্রতি সাধারনত ৩-৪টি পাফ বরাদ্দ থাকে।

-দক্ষিন কোরিয়া

দক্ষিন কোরিয়ার বিয়েগুলো সাধারনত পাইবায়েক দ্বারা অনুসরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের পরে অনুষ্ঠিত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে নববধূ  তার শশুরকে কিছু জুজুবে ও চেস্টনাট অফার করে যা উর্বরতার প্রতিনিধিত্ব করে। অনুষ্ঠান শেষ হলে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা সেগুলো ছুঁড়ে মারেন আর কনে তার গাউন দিয়ে তা লুফে নেয়ার চেষ্টা করে। যতবেশি সে নিবে ততসংখ্যক সন্তানের জননী হবে বলে ধরে নেয়া হয়।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × 5 =