বিশ্বের সেরা কর্মক্ষেত্র

করেছে Wazedur Rahman

প্রতিদিনকার সময়ের বেশির ভাগই যেখানে কর্মক্ষেত্রে কাটে, সেই প্রতিষ্ঠানটি যদি হয় সেরাদের সেরা, তবে তো কথাই নেই। আজকের বিশ্বে কোম্পানিগুলো লাভ-ক্ষতির অঙ্কের সঙ্গে সঙ্গে লড়াই করে শীর্ষস্থানে থাকার প্রতিযোগিতার। কর্মী নিয়োগে বৈচিত্র্য, নারী অধিকার, সমমজুরি, সেরা ইন্টেরিয়র, ভালো বেতন, চমৎকার কর্মপরিবেশের মতো কৌশলগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ফরচুন বাছাই করে বিশ্বের সেরা কর্মক্ষেত্র।

ফরচুনের এই জরিপে গত চার বছরে শীর্ষস্থানে থাকা কোম্পানিগুলোর তালিকার মধ্যে আছে টেক জায়ান্ট গুগল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, প্রযুক্তি কোম্পানি সেলসফোর্স এবং ট্যুরিজম কোম্পানি হিলটন।

সেলসফোর্স

সানফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত এই কোম্পানির কর্মীসংখ্যা বিশ্বজুড়ে ৩২ হাজার। মার্কিন টেক কোম্পানি সেলসফোর্সের সম্পর্কে কর্মীদের ভাষ্য, মূল নেতৃত্ব থেকে আসা উৎসাহ এবং প্রেরণা, সামাজিক ইস্যুগুলোর ওপর জোর নজর, স্বেচ্ছাসেবী মনোভাবসম্পন্ন কাজের পরিবেশ এই কোম্পানির কর্মপরিবেশের অন্যতম সংস্কৃতি।

কর্মীরা বলছেন, শেখা এবং উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেয় সেলসফোর্স, সন্ধান করে নতুনত্ব, সমর্থন করে নতুন ধারণাকে। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী যখন ইচ্ছে তখনই ছুটি নিতে পারেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

হিলটন

ট্যুরিজম খাতের বৈশ্বিক এই কোম্পানি ১০৬টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফরচুনের সেরা কর্মক্ষেত্র ছাড়াও গ্রাহকদের আস্থার জায়গায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে হিলটন। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হিলটনের বিশ্বজুড়ে কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার। ২০১৯ সালে কোম্পানিটি তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের স্বাগত জানাবে তারা।

কর্মীদের মতে, হিলটন সেরাদের সেরা কেননা এখানে কাজের সময়কে উপভোগ এবং নিজের মতো করে নিজের কাজ করা যায়। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতেও কর্মীদের কাছে হিলটনের জুড়ি নেই। এ ছাড়া নানা দেশ, বর্ণ এবং ধর্ম থেকে আসা কর্মী বৈচিত্র্যের জন্য ফরচুনের সেরা বৈচিত্র্যময় প্রতিষ্ঠানের তালিকায়ও স্থান করে নিয়েছে হিলটন।

ফেসবুক

কর্মীদের সন্তুষ্টি, সুযোগ-সুবিধা, নেতৃত্ব, ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ, সবকিছু মিলিয়ে একেবারেই পিছিয়ে নেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকের কর্মীরা মনে করেন, প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজ যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হয়। এ ছাড়াও কাজের ক্ষেত্রে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সব সময় তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেয়। নেতৃত্ব নিয়ে ফেসবুকের কর্মীরা দারুণ খুশি। কারণ, প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ তাদের সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ রাখেন।

ফলে কর্মীদের কাছে প্রতিষ্ঠানের সব বিষয় থাকে স্বচ্ছ। আকর্ষণীয় বেতন-ভাতার পাশাপাশি ফেসবুকে রয়েছে পয়সা ছাড়া মেলা লোভনীয় খাবার, অফিসের চমৎকার পরিবেশ, যাতায়াত সেবা সুবিধা এবং পিতৃত্ব ও মাতৃত্বকালীন সেবা।

গুগল

কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে টানা ছয়বার ফরচুন ম্যাগাজিনের শীর্ষস্থানে ছিল টেক জায়ান্ট গুগল। কর্মীদের বিনা মূল্যে খাবার, সেলুন, লন্ড্রি সুবিধার মতো সুষ্ঠু কাজের পরিবেশের ক্ষেত্রে অভিনব পদক্ষেপের জন্য বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে তারা। পিতৃত্বকালীন ছুটি, নতুন বাবাদের ৫০০ ডলার প্রদান, রাতে থাকার সুব্যবস্থা, ফ্রি মেডিকেল সুবিধাসহ মানসিক প্রশান্তির জন্য বিশ্রামাগার, ব্যায়ামাগার, লাইব্রেরি ও খেলার ব্যবস্থা সেসব পদক্ষেপেরই অংশ।

শুধু কাজেই নয়, কর্মীদের উন্নয়নেও বিশ্বাস করে গুগল। তাই কর্মীদের পছন্দ অনুযায়ী প্রকল্পে কাজ করতে দেওয়া, অন্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করাসহ নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

লেখা : লিহান লিমা
ছবি: ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

five × 5 =