বিশ্বের সেরা কিছু দর্শনীয় স্থান

করেছে Sabiha Zaman

ভ্রমণ করতে ভালো লাগে না, এমন মানুষ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কমবেশি সবাই ভ্রমণ করতে ভালোবাসে। আমাদের প্রায় সবার ইচ্ছা থাকে একবারের জন্য হলেও দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে। সারা বিশ্বে রয়েছে হাজারো পর্যটন স্পট। বিশ্বের সেরা কিছু স্থান নিয়েই আজকের আয়োজন। লিখেছেন সাবিহা জামান

বুর্জ খলিফা, দুবাই
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং বুর্জ খলিফা। যেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত। ৮২৮ মিটার উচ্চতার এ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে আর শেষ হয় ২০০৯ সালের দিকে। বছরজুড়ে সারা বিশ্ব থেকে মানুষ ভিড় করে দুবাইয়ে। অভিজাত হোটেল, শপিং সেন্টার এবং অফিস, পাঁচ তারা রেস্টুরেন্ট সব সুবিধা পাবে এখানে। দুবাই ভ্রমণে এসে যদি কেউ বুর্জ খলিফা না দেখে, তাহলে তার দুবাই ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যাবে। শুধু বুর্জ খলিফা টাওয়ার দেখার জন্য আসা মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
বুর্জ খলিফার স্কাই লবির আনন্দ আর কোথাও পাবে না, মনে হবে আকাশের শেষ সীমানায় চলে এসেছ। বুর্জ খলিফায় ২০৬টি তলা রয়েছে, যার মধ্য ১০০ তলায় যাওয়ার টিকিটের মূল্য ১৬০ দিরহাম থেকে ২৫০ দিরহাম পর্যন্ত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ১৬০ তলা পর্যন্ত যেতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে, সঙ্গে যুক্ত হবে আরও বেশি টিকিট মূল্য। বুর্জ খলিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইনে টিকিট কেনার বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবে।

 

 

আইফেল টাওয়ার, ফ্রান্স
বিশ্বের সেরা ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায় ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের স্থান থাকবে না, তা হতেই পারে না। বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক শহর প্যারিসের কেন্দ্রে অবস্থিত আইফেল টাওয়ার ভ্রমণের সর্বজনীন প্রতীক এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ১৮৮৯ সালের পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থাপনাটির নাম ‘আইফেল টাওয়ার’। এটি তিন যুগের বেশি সময় বিশ্বের উচ্চতম টাওয়ারের আসন দখলে রেখেছিল। লৌহনির্মিত এ স্থাপনার উচ্চতা ১ হাজার ২৪ ফুট। ৭৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টাওয়ারটির চূড়া দেখতে পারবে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট হচ্ছে আইফেল টাওয়ার। প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ আসে একটিবারের জন্য হলেও আইফেল টাওয়ার দেখতে, যাদের ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন দেশের ট্যুরিস্ট।
১৬ থেকে ২২ ইউরো ব্যয় করলেই আইফেল টাওয়ারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। তোমার যদি আইফেল টাওয়ারে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় সব তথ্য পেয়ে যাবে তাদের ওয়েবসাইট থেকেই।

নায়াগ্রা ফলস, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে নায়াগ্রা ফলস। উত্তর যুক্তরাষ্ট্রের বিস্ময়কর এই জলপ্রপাত সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য স্থান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমানায় অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত। এ জলপ্রপাত থেকে প্রতি মিনিটে ৬০ লাখ ঘনফুট পানি পতিত হয়। নায়াগ্রায় প্রতিবছর প্রায় তিন কোটি পর্যটক আসে। অনেকের মতে, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ জলপ্রপাতের পুরো অংশ দেখা যায় না। তবে কানাডায় সরাসরি সামনে থেকে দেখা যায় সম্পূর্ণ জলপ্রপাতটি। এখানে তোমাকে রংধনু দেখতে আকাশের দিকে তাকাতে হবে না। কারণ, এ জলপ্রপাতে রংধনু যেন নিজেই এসে ধরা দেয়।


বারোস আইল্যান্ড, মালদ্বীপ
ট্যুরিস্টদের কাছে খুব জনপ্রিয় একটি দেশ হচ্ছে মালদ্বীপ। ছোট-বড় প্রায় আড়াই হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি। বছরজুড়েই মালদ্বীপে ট্যুরিস্টদের ভিড় লেগেই থাকে। মালদ্বীপের হাজারো দ্বীপের মধ্যে বারোস অন্যতম সুন্দর একটি দ্বীপ। প্রাকৃতিক এক অপরূপ রূপের দেখা মিলে এখানে এলে। জনপ্রতি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ২ থেকে ৩ রাত কাটাতে পারো বারোস দ্বীপে।

প্যাংগং লেক, লাদাখ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উপরে অবস্থিত মরুভূমি আর পাহাড়বেষ্টিত এক প্রাকৃতিক নিসর্গের নাম প্যাংগং লেক। ভারত ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল লাদাখের অবস্থান। এটি একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অপূর্ব রূপে দেখা দেয় লাদাখের প্যাংগং লেক, যে একবার এ সময়ে লাদাখে গেছে, সে বারবারই যেতে চাইবে। জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করলেই লাদাখের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে।

উইস্টেরিয়া টানেল, জাপান
উইস্টেরিয়া জাপানের একধরনের বেগুনি ফুল। এই ফুলের গাছ দিয়েই তৈরি উইস্টেরিয়া টানেল। জাপানের টোলিয়ো থেকে ৬ ঘণ্টা দূরে গেলেই দেখা মিলবে এই টানেলের। ব্যক্তিমালিকানাধীন কাওয়াচি ফুজি গার্ডেনে তৈরি করা হয়েছে এই টানেল। এপ্রিল-মে মাসে যখন উইস্টেরিয়া ফুলের মৌসুম, এ সময় এই টানেল সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রায় সারা বিশ্ব থেকেই লোকেরা আসে এখানে। অনেক লম্বা টানেল হওয়ায় মানুষের মেলা বসলেও খুব বেশি ভিড় মনে হয় না।

মহাপ্রাচীর, চীন
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবনির্মিত কাঠামো হিসেবে বিবেচিত চীনের গ্রেট ওয়াল বা মহাপ্রাচীর। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মিং সাম্রাজ্যের সময় চীন এবং দেশের নাগরিকদের বাইরের দেশের আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যেই নির্মাণ করা হয়েছিল চীনের এই মহাপ্রাচীর। এই প্রাচীর নির্মাণের সময় ১০ লাখের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তাই পৃথিবীর দীর্ঘতম কবরস্থানও বলা হয় এই প্রাচীরকে।
মোট ১৩ হাজার মাইলের বেশি প্রসারিত এ প্রাচীর। তাই তো বলা হয় মহাপ্রাচীর। বছরজুড়েই পর্যটকেরা আসে চীনের মহাপ্রাচীর দেখতে। তবে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে বসন্তকাল আর যদি হাইকিং করতে চাও, তবে শরৎকাল আদর্শ সময়। যদিও চীনের মহাপ্রাচীর ও পর্যটন মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের দেখা পায়। একেক মৌসুম প্রকৃতির সঙ্গে মহাপ্রাচীরও একেক রকম সৌন্দর্য ধারণ করে।

নর্দার্ন লাইটস, আইসল্যান্ড
নর্দার্ন লাইটস হলো অরোরা। অর্থাৎ আকাশে প্রাকৃতিকভাবে রঙের ছড়াছড়ি। এই অরোরা বেশ কয়েকটি দেশ থেকে দেখা যায়। তবে আইসল্যান্ডে অবস্থিত পিংভেলা ন্যাশনাল পার্ক অরোরা দেখার সবচেয়ে সুন্দর স্থান। অপার্থিব এই সৌন্দর্য একনজর দেখার জন্য প্রতিবছর সেখানে যায় অসংখ্য পর্যটক।
ছবি : সংগৃহীত

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

8 − eight =