বিশ্বের সেরা পাঁচটি দামি খাবার

করেছে Sabiha Zaman

ভ্রমণের একটি বড় অংশজুড়েই আছে খাবার। বিশ্বে বাহারি পদের বিচিত্র সব খাবার রয়েছে, যেগুলোর স্বাদ নিতে অনেকেই বেরিয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। বিচিত্র আর দামি খাবারগুলো নিয়েই আজকের আয়োজন। বিশ্বের দামি পাঁচটি খাবার নিয়ে লিখেছেন  সাবিহা জামান।

ক্যাভিয়ার
মাছের ডিম খেতে ভালোবাসো কি? বিশ্বের দামি খাবারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ক্যাভিয়ার। বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু মাছের ডিম হচ্ছে ক্যাভিয়ার। এটি সামুদ্রিক মাছের ডিম। ১০ হাজার ডলার খরচ করেই স্বাদ নিতে পারবে ক্যাভিয়ারের। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেওয়া অ্যালবিনো ক্যাভিয়ারের দাম ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার। পাউরুটি বা টোস্টের সঙ্গে খাওয়া হয় এই সুস্বাদু দামি খাবার।

বেলুজা স্টার্জেন মাছ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু ও দামি ক্যাভিয়ার সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। শুধু কাস্পিয়ান সাগর ও কৃষ্ণসাগরেই মিলবে এই মাছ। তবে মাছটির পূর্ণবয়স্ক হতে সময় লেগে যায় প্রায় ২০ বছর আর এরপরই মাছের ডিম সংরক্ষণ করতে পারবে। তবে বেলুজা স্টার্জেন মাছ থেকে ডিম সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া একটু আলাদা। কারণ, মাছটি না মেরে ডিম সংগ্রহ করা যায় না। এ কারণেই বিলুপ্তপ্রায় এই মাছ থেকে ডিম সংরক্ষণ করা বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।


বিভিন্ন ধরনের মাছ থেকেই ক্যাভিয়ার পাওয়া যায়, যেগুলোর মধ্যে আলমাস ক্যাভিয়ার, স্যামন ক্যাভিয়ার, বাইকা ক্যাভিয়ার অন্যতম। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ক্যাভিয়ার পাবে। তবে যেতে হবে বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে।

সাদা ট্রাফল
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ ছত্রাকগুলোর একটি সাদা ট্রাফল। কেবল মাটির নিচে জন্মায় এটি। তা-ও শুধু উত্তর ইতালির পাইডমন্ট অঞ্চলের কিছু গাছের শিকড়ের মধ্যে। ইতালির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মতো উন্নত দেশগুলোয় এ খাবারের চাহিদা থাকায় এখানকার সব থ্রি আর ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টেই পাবে সাদা ট্রাফল।

সাদা ট্রাফলের স্বাদ খুব তীব্র আর এর দারুণ সুগন্ধি তো আছেই। সুস্বাদু সাদা ট্রাফলের চাষ করা যায় না। এটি নিজে জন্ম নেয়। অনেকেই ট্রাফলের চাষ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

দুর্লভ হওয়ার জন্যই সাদা ট্রাফলের দাম এত বেশি। ম্যাকাওয়ের এক ক্যাসিনো মালিক স্ট্যানলি হো একটি মাত্র সাদা ট্রাফলের জন্য ২০০৭ সালে ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন। সেই ট্রাফলটির ওজন ছিল দেড় কেজি।

লুয়াক কফি
খুব জনপ্রিয় আর বহুল আলোচিত হচ্ছে লুয়াক কফি। অনেক কফিপ্রেমীর স্বপ্ন, একবার হলেও এ কফি পান করার। আর অনেকেই কিন্তু এটি নিয়ে নাক সিটকায়। বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি লুয়াক আর তাই তো দামি খাবারের তালিকায় নিজের স্থান ধরে রেখেছে এটি। তবে কেন অনেকেই এটার নামে নাক সিটকায়, সেটা লুকিয়ে আছে এই কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের মধ্যেই। পাম সিফেভ নামক এক প্রজাতির বিড়ালকে এই কফি বিন খাওয়ানো হয়।

বিড়ালের পরিপাকতন্ত্রের অ্যাসিডে জারিত হয়ে আস্ত কফি বিন বের হয়ে আসে বিড়ালটির মলের মাধ্যমে। আসলে এই প্রক্রিয়া অবাক করার মতো হলেও এর মাধ্যমেই সবচেয়ে সুস্বাদু কফি পাওয়া যাবে। ইন্দোনেশিয়া লুয়াক কফির জন্য সেরা স্থান। এক কেজি লুয়াক কফির জন্য তোমাকে ব্যয় করতে হবে প্রায় এক হাজার ডলার।

ওয়েগু বিফ
গরুর মাংসপ্রেমীদের একবার হলেও ওয়েগু বিফ খাওয়া উচিত। সেরা গরুর মাংসের স্বাদ পেতে চাইলে ওয়েগু বিফ রাখো তোমার উইস বক্সে। এটা জাপানের একধরনের গরুর মাংস। এই গরুর মাংসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতি স্তরে চর্বি। রান্নার সময় চর্বি গলে মাংস খুব নরম হয়ে যায়। মুখে দিলে মনে হবে নরম মাংস যেন গলে যাচ্ছে।
প্রতি কেজি ওয়েগু বিফের দাম প্রায় ৭০০ ডলার। তবে রেস্টুরেন্টগুলোয় এর দাম আরও অনেক বেশি। শুধু বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টেই পাওয়া যায় ওয়েগু বিফ।

জাপানি এই গরু পালন প্রক্রিয়া বেশ ব্যয়বহুল। গরু পালতে অনেক খরচ হয়, অনেক যত্ন নিয়ে বিশেষ নিয়ম মেনে এই গরু পালেন খামারিরা। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্যই এত দামি এ মাংস।

দ্য ফ্রোজেন হাউট চকলেট
দামি খাবারের তালিকায় চকলেট থাকবে না, তা কি হয়? একদমই না, প্রায় সব বয়সের মানুষ চকলেট খেতে ভালোবাসে। চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। তুমি যদি চকলেট খেতে ভালোবাসো, তবে বিশ্বের দামি চকলেট খেতে ভুলবে না। বিশ্বের অন্যতম দামি চকলেট হচ্ছে ফ্রোজেন হাউট চকলেট। দুবাই, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতেই গেলে স্বাদ নিতে পারবে এটির।

একসঙ্গে প্রায় ২৫টি দামি চকলেট আর ভোজ্য স্বর্ণ দিয়ে বানানো হয় এই ডেজার্ট আইটেমটি। পরিবেশন করা হয় স্বর্ণের পাত্রে। ১১ হাজার ডলার ব্যয় করলেই দেখা মিলবে এই অপূর্ব স্বাদ আর রূপের চকলেটটির।

ছবি : সংগৃহীত
তথ্য সুত্র: বিবিসি, টাইমস ইন্ডিয়া

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 + 20 =