বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

করেছে Sabiha Zaman

শরীরের অসুখ নিয়ে আমরা বেশ সচেতপন হলেও মনের অসুখ নিয়ে আমরা অনেকেই উদাসীন।  মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছরের ১০ অক্টোবর পালন করা হয় মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস এবছরের প্রতিপাদ্য বিষয়  ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’।

সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য দিবস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয় প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়েই মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ভাবে দেখা দিচ্ছে। যার কারণ করোনাকালীন সংকট। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বেরই বেড়েছে  মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। শুধু কোভিড আক্রান্তরাই নয় এখনো এই রোগে আক্রান্ত হননি তাদের মাঝেও বাড়ছে মানসিক নানা সমস্যা। হুট করেই জীবনের পরিবর্তন, গোটা নিয়মের হেরফের, অনিশ্চয়তা এ সমইয়ে মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। পুরো বিশ্বেই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বিভিন্ন স্তরে দেখা যাচ্ছে নানা রকমের বিশৃঙ্খলা।

আমাদের দেশের মানসিন স্বাস্থ্য সমস্যাও বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন সংবাদ দেখলেই চোখে পরে আত্নহত্যা। বেড়ে চলেছে বাল্যবিবাহ, অনেকে চাকরি হারিয়েছেন আর অনেকেই চাকরি না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। দির্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনেও ভালো বেই শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা।

আমরা অনেকেই জানিনা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে। নিজেকের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখগতে কি করা উচিত তা অনেকেরই অজানা। কেবল করোনা নয় যেকোন কারণেই মানসিক সমস্যা হতে পারে। আর এ ধরণের সমস্যা দেখা দিলে আমরা অনেক সম্য এড়িয়ে যাই। অনেকে আবার বিষয়গুলো স্বাভাবিক ধরে  বসে থাকেন। আর কনেকে লজ্জা পান মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই আমাদের শরীরের যেমন অসুখ করে মন তেমন অসুস্থ হতে পারে। দীর্ঘ সময় মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর না দিলে পরবর্তীতে বড় ধরণের সমস্যার সম্মুখিন হতে হতে পারে। তাই যখন সমস্যা মনে হবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নাও। নিজের মনের কথা শেয়ার করো কাছের লোকদের কাছে। অনেক সময় দেখা যায় মন খুলে কাছের মানুষদের সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলে ভালো লাগে সাথে মিলে যায় ভালো সমাধান। তবে সাবধান এমন কারোর সাথে নিজের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে না যে তোমাকে বুঝবে না। নিজেকে ভালোবাসো নিজেকে ভালো রাখতে চেষ্টা করো। মন ভালো রাখতে যা দরকারি করো। হতাশ না হয়ে জীবনের সমস্যা স্মাধানে লেগে থাকো। মন ভালো রাখতে নিজে কি চাও কি করছো দেখো। নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নাও।

আমাদের জীবন সব সময় একরকম যায় না। বিভিন্ন সমস্যা আসে অনেক সময় আমরা হাল ছেড়ে দেই, হতাশা আমাদের নিত্য সঙ্গি হতে যায়। যদি বুঝতে পারো পরিবারের কোন সদস্য কিংবা কাছের কেউ মানসিক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তবে তার পাশে থাকো। তাকে সাহায্য করো। আমাদের সচেতনতা থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।

লেখা: সাবিহা জামান

ছবি: ইন্টারনেট

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eleven + 17 =