বিয়ের আগে ত্বকের দেখভাল

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন: বিয়েতে যেন কনের তোড়জোড়টাই বেশি। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকেই প্রস্তুতির পালা শুরু। কনের মনে বয়ে আসা নানা রকম চিন্তাই যেন ত্বক বিগড়ে যেতে শুরু করে। তাই বিয়ের আগেই দরকার ত্বকের দেখভাল। তবে কনের ত্বকচর্চায় আছে কিছু হিসাব-নিকাশ। সেই কথাগুলোই এবার রোদসীর বিয়ে সংখ্যায়_

কী করবে কী করবে না
বিয়ের কিছুদিন আগে থেকেই মুখ ও শরীরে হলুদ লাগানো বন্ধ করতে হবে। কারণ, হলুদের রং সহজে মিটতে চায় না। তাই বিয়ের সময় মেকআপ আর্টিস্টের পক্ষে মেকআপ দিয়ে হলুদের রং ঢাকা কঠিন হয়ে পড়ে। শুতে যাওয়ার আগে কাঁচা দুধে লেবুর রস মিশিয়ে সপ্তাহে তিনবার লাগাবে। এটি প্রাকৃতিক ক্লিনজার ও অ্যাস্ট্রিজেন্টের কাজ করে। এর ফলে ত্বকের রং আরও উজ্জ্বল হয়। ব্লিচের জন্য গোল গোল করে কাটা আলু নিজের মুখে ভালো করে ঘষতে পারো। আলু প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে। মৃত ত্বক থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে একবার অবশ্যই স্ক্র্যাব করবে। বিয়ের আগে থেকেই বিউটি ডায়েট মেনে চলতে হবে ও জুস খেতে হবে বেশি বেশি। যত দূর সম্ভব বাড়িতে তৈরি খাবার খাও ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার কাজ করে, এটি ত্বকের জন্য উপকারী। ঘুমাতে যাওয়ার ও ঘুম থেকে ওঠার সময় সঠিক ও নির্ধারিত রাখতে হবে। চোখের তলায় কালো দাগ যাতে না পড়ে, তার জন্য বেশি রাত পর্যন্ত মোবাইল বা ল্যাপটপ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা এড়িয়ে যেতে হবে। রোজ সকালে উঠে এক্সারসাইজ করতে ভুলবে না। এ সময় নানান মেকআপ ও কসমেটিকস কিনে নিজের ত্বকে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। ওই সব কসমেটিকস বা মেকআপের কারণে যদি অ্যালার্জি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা পাল্টে ফেলবে। নিয়মিত ম্যানিকিওর ও প্যাডিকিওর করিয়ে নাও। বাড়ির বাইরে গেলে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবে না। স্কার্ফ ও দস্তানা পরতে পারো। ত্বকে ট্যান পড়তে দেবে না।

চুল শুষ্ক হতে থাকলে প্রতি তিন দিনে গরম অলিভ বা আমন্ড তেল দিয়ে চুলে ম্যাসাজ করবে। মাসে এক-দুবার হেয়ার স্পা করাতে পারো। ফেসিয়ালের দুদিন পরে ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আসে। তাই বিয়ের ঠিক দুদিন আগে ফেসিয়াল করিয়ে নেবে। নিজের ত্বক বুঝে ফ্রুট, আরোমা, পার্ল, গোল্ড, অক্সি বা ডায়মন্ড ফেসিয়াল করাতে পারো। বিয়ের আগের শেষ এক সপ্তাহে কোনো নতুন বিউটি ট্রিটমেন্ট বা প্রোডাক্ট ব্যবহার করবে না। এত দিন যা ব্যবহার করছ, তাই ব্যবহার করো। বিয়ের কিছুদিন আগে সারা শরীরে ওয়্যাক্সিং করালে ভালো ও বডি পলিশিং করতে পারো।

দেখভাল ত্বক বুঝে
সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে না চললে কিন্তু ত্বকের ক্ষতি হয়ে যাবে। বিশেষ করে বিয়ে আর বউভাতের দিন যে মেকআপ করবে, তা পরে ত্বককে মারাত্মক শুষ্ক করে তুলতে পারে, ত্বকের বয়স এক ধাক্কায় বেড়ে যেতে পারে অনেকটাই! তাই বিয়ের জন্য যত কাজের চাপই থাক, ত্বকের যত্নটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি হওয়া উচিত! কীভাবে পরিচর্যা করবে ত্বকের, কী কী উপাদান হাতের কাছে থাকতেই হবে! নিয়মিত মেনে  চলবে এসব, বিয়ের দিনে তোমার ত্বকও খুশি আর উচ্ছল থাকবে! ত্বক সুস্থ রাখতে যে জিনিসটির সবচেয়ে বড় ভূমিকা, তার নাম ময়শ্চারাইজার। সঠিক ময়শ্চারাইজারটিও বেছে নেওয়া সমান জরুরি। ত্বকের ধরনের সঙ্গে মানানসই ময়শ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। এটিতে ত্বক আর্দ্র রাখবে, এনে দেবে বাড়তি দীপ্তি। ত্বক আর্দ্র রাখা যতটা দরকার, ততটাই দরকার তা পরিষ্কার রাখা। কোমল ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে। মুখ ধোয়ার পর টোনার লাগালে রোমছিদ্রগুলো সংকুচিত হয়ে যাবে। অনেক মেয়ে টোনার হিসেবে বরফ ব্যবহার করে। তবে বরফ কখনো সরাসরি ত্বকে লাগাবে না, পরিষ্কার রুমালে মুড়ে মুখে বুলিয়ে নিতে হবে। মুখে বাড়তি জেল্লা আনতে ফেস মাস্ক খুবই জরুরি। ত্বকের ধরন আর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বেছে নিতে হবে ফেস মাস্ক। যদি সারা দিনে মাস্কের জন্য সময় দিতে না পারো, তবে ঘুমের সময়টাও মাস্ক লাগিয়ে শুয়ে পড়তে পারো। সকালে উঠে তারুণ্যে ভরপুর ত্বক দেখে চমকে যাবে নিজেই। সাবান কিন্তু ত্বক বেশি রুক্ষ করে দেয়। ত্বকে বাড়তি কোমলতা পেতে বিয়ের মৌসুমটায় বডিওয়াশ ব্যবহার করো। বডিওয়াশে প্রচুর এসেনশিয়াল অয়েল আর ময়শ্চারাইজার থাকে, যা ত্বক আর্দ্র রাখে। বাড়তি পাওনা হলো বডিওয়াশের মিষ্টি সুগন্ধ, যা দিনভর ঘিরে থাকবে তোমাকে।

মেকআপের পর
বিয়ের দিন একটা ভারী মেকআপ নিতেই হয় নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপনের জন্য। এরপর ওই মেকআপ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে হয়। যার ফলে পরদিন অনেক কনের মুখে পিম্পলের মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবার অনেক কনের বিয়ের দিন কিছু সময় পর মেকআপ সরে যাওয়া, কেকি দেখানোর মতো সমস্যাতেও পড়তে হয়। যেটা ওই মুহূর্তে খুবই বিরক্তিকর। এর প্রধান কারণ হলো ত্বককে মেকআপ উপযোগী করে না তোলা।

দুশ্চিন্তা নষ্ট করে ত্বক
বিয়ের আগে কমবেশি সব কনে এবং বরের চোখের নিচের কালো দাগ পড়তে দেখা যায়। এর কারণ হলো, বিয়ের আগে সবার মধ্যেই কিছু দুশ্চিন্তা কাজ করে, যার কারণে পরিপূর্ণ ঘুম হয় না। আবার অনেক সময় হবু বউ আর হবু বরের মধ্যে নিজেদের চেনা-জানাতে সময় দিতে হয়, এতেও রাত জাগতে হয়। বিয়ে নিয়ে কনে এবং বর দুজনেরই বেশি সময় দিতে হয় বিয়ের কেনাকাটায়। দীর্ঘক্ষণ বাইরে ঘোরাঘুরির কারণে ত্বকে সানট্যান, পিগমেন্টেশন স্পষ্ট হয়ে যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ত্বকের পাশাপাশি আমাদের চুলেরও বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের ঘোরাঘুরির কারণে চুলে ধুলা-ময়লা জমে চুল রুক্ষ করে চুল পড়ার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। আর তা ছাড়া বিয়ের দিন চুল সেট করতে যে পরিমাণ হিট আর সেটিং স্প্রে ব্যবহার করা হয় এতে চুলের উজ্জ্বলতা আরও হারিয়ে যায়। তাই চুলের যত্ন নেওয়াটা আবশ্যক হয়ে যায়। কনেকে এখন থেকেই যত্ন নিতে হবে। অন্তত বিয়ের এক মাস আগে থেকেই শুরু করে দিতে হবে। আর সেটা বাসায় বসে হোক কিংবা কোনো বিউটি পারলারেই হোক। তবে বিউটি ক্লিনিকে যত্ন নেওয়াই ভালো। যার যার ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নিলে বিয়ের দিন কনেকে আকর্ষণীয় লাগবে। যদি কোনো কারণে ত্বকে সমস্যা থাকে এখন থেকে যত্ন না নিলে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে মেকআপ ভালোভাবে বসবে না। এ ছাড়া কনেকে বিয়ের পর আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াতে যেতে হয়। তখন তো আর ভারী মেকআপের প্রয়োজন হয় না।

ছবি: ইন্টারনেট

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

4 × three =