বিয়ের আগে ত্বকের যত্ন

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

যে কোন মানুষের জীবনে বিয়ের দিন হলো সবচেয়ে স্মরনীয় মুহূর্ত। এই বড় দিনের প্রস্তুতির জন্য মাসে পর মাস চলে বিভিন্ন প্ল্যান প্রোগ্রামের। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে নিজেকে সেরা দেখানোর সাজ পোশাক ছাড়াও ত্বকের যত্নেও সক্রিয় থাকতে হবে। বিয়ের দিনে তোমার ত্বক তোমার সামগ্রিক চেহারার একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। তুমি যা খাও, সেই সাথে ত্বকে যা এপ্ল্যাই করো সবকিছুই কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পার্থক্য করতে পারে। তাই নিজেকে গ্লোয়িং ও পরিপাটি দেখানোর জন্য বিয়ের অন্তত মাসখানেক আগে থেকেই কিছু নির্দেশনা ফলো করা উচিৎ।

প্রোপার ডায়েট ফলো করা

ত্বকের যত্ন বলতে স্কিনকে ফ্ললেস করার জন্য শুধুমাত্র বিভিন্ন পন্যের ব্যবহারকে বুঝায় না। তোমার বড় দিনে একেবারে ফিট এবং সুন্দর দেখাতে এর প্রথম ধাপ হলো উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা। তুমি যা খাও তাই তোমার মুখে প্রতিফলিত হয়। অতএব, একটি সুষম খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিৎ। ডায়েটেশিয়ানরা প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের ভারসাম্য সহকারে পুষ্টিকর স্বাস্থ্যকর বাসায় তৈরি খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

নিজেকে হাইড্রেট রাখা

আরেকটি স্কিনকেয়ারের নিয়ম সম্পর্কে কেউ অবধি আজ শুনে না এমন পাওয়া যাবেনা আর তা হল প্রচুর পানি পান করা। পানি পান করার গুরুত্ব কেমন তাতো আর বলার অপেক্ষা থাকেনা। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি পানের নিশ্চয়তা করতে হবে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ত্বক যদি বেশি সেনসেটিভ হয়ে থাকে এমতাবস্থায় অনেক বেশি সচেতন হতে হয়। অনুষ্ঠানের জন্য যদি হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে তবে ত্বকের যেকোন সমস্যার জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া ভালো হবে। তিনি তোমাকে উপযুক্ত পরামর্শ দিবেন এবং একটি সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন সেট করতেও সাহায্য করবেন।

শরীরচর্চা করা

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট করে যেকোন ধরনের শরীরচর্চা করা ভালো। এতে দেহ ও মন থাকবে প্রশান্ত ও সতেজ। যোগব্যায়ামও এই ক্ষেত্রে ভালোই কাজে দিবে। এতে রক্ত চলাচল বেড়ে যাবে, দুশ্চিন্তা কমে যাবে এবং সেগুলো ত্বকের উপর ভালো প্রভাব পড়বে। এছাড়াও মুখের ত্বকের জন্য মুখের যোগ ব্যায়াম করা যেতে পারে। যা ত্বককে টানটান, লাবন্যময় এবং উজ্জ্বল করবে।

সানস্ক্রিনের ব্যবহার

বিয়ে উপলক্ষে কেনাকাটা সহ অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। কাজের প্রয়োজনে অনেক বারই ঘরের বাহিরে যেতে হয়। যখনই বাইরে যাবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা মাস্ট। কী গরম, কী শীত সব ঋতুতেই এর ব্যবহার চাইই চাই। এটি শুধুমাত্র ত্বককে সুর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেনা বরং অন্যান্য ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি থেকেও রক্ষা করা যা আমরা দেখতে পাইনা।

ফেসিয়াল করানো

হাতে সময় নিয়ে ফেসিয়াল করানো এটাই উপযুক্ত সময়। ফেসিয়ালগুলো ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে এবং এটিকে ময়েশ্চারাইজ রাখে। পার্লারে পেশাদার কারো কাছ থেকে নিজের ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সঠিক ফেসিয়েল বেছে নাও। এটি তোমাকে বিয়ের দিনে তাজা এবং উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করবে।

সিটিএম উপেক্ষা করা যাবেনা

সিটিএম অর্থাৎ ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং- এই প্রসেস স্কিনকেয়ার রুটিনে কখনোই উপেক্ষা করা যাবেনা। এর প্রত্যেকটি দৈনন্দিন ত্বকের যত্নে স্ব স্ব কাজে স্কিনকে উন্নত করে। ক্লিনজিং  স্কিনের উপরিভাগের ময়লা অপসারণ করে, টোনিং পরবর্তী ধাপের জন্য ত্বককে প্রিপেয়ার করে এবং ময়েশ্চারাইজিং এর ফলে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়ে নরম, কোমল হতে সাহায্য করে।

এক্সফোলিয়েট

এক্সফোলিয়েটিং খুবই দরকার। এটি এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ত্বকের সমস্ত মৃত কোষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে এবং পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং চকচকে ত্বকের উপহার দিবে। এক্সফোলিয়েটিং অ্যাক্ট তোমার ত্বককে কোমল থেকে কোমলতর করে তুলবে।

ফেসমাস্ক ব্যবহার

যদিও বাজারে আজকাল অনেক ধরনের ফেসমাস্ক পাওয়া যায় সেখান থেকে ত্বকের উপযুক্ত মাস্ক এনে ব্যবহার করতে পার। অথবা আমাদের বাসায় হাতের কাছে যা আছে, তা হতে পারে যে কোন ফল অথবা সামান্য বেসন, চালের গুঁড়া বা মধু যে কোন কিছু দিয়েই হ্যান্ডমেড মাস্ক বানিয়ে তা অ্যাপ্লাই করতে পারো। আর এগুলোর নিয়মিত ব্যবহারে তার রেজাল্ট দেখে নিজেই চমকে যাবে।

ম্যানিকিউর এবং পেডিকিউর

তোমার হাত এবং পা বাইরের আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত। হাত এবং পায়ের ত্বককে ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করার জন্য প্রতিদিন এগুলো ধুয়ে, ময়েশ্চারাইজ এবং অন্যান্য লোশন প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও বাড়িতে বসেও ম্যানিকিউর এবং পেডিকিউর করা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম

স্কিন কেয়ারের আরেকটি নিয়ম যার ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়না তা হল সঠিক ঘুমের চক্র বজায় রাখা। ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো খুবই দরকার তাও একটি নির্দিষ্ট রুটিন সময়ে। সঠিক এই ঘুমের চক্র শুধু তমার শরীরকে নিয়ন্ত্রিত করেনা বরং এটি কাজ করে যা সরাসরি ত্বককে প্রভাবিত করে।

মানসিক চাপ এড়ানো

বিয়ে এমন একটি বিষয় যা তোমার মানসিক অবস্থারও অনেক প্রভাবিত করতে পারে। এই সমস্ত মানসিক চাপ যা তোমার শরীর এবং মনকে ব্রেকআউট বা নিস্তেজ করে দেয়। তাই অযথা এই চাপ ঝেড়ে ফেলো। এক্ষেত্রে শরীর ও মনকে শান্ত করার জন্য এবং স্ট্রেস রিলিফ করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে একটি হল মেডিটেশন করা।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × 2 =