বিয়ের গয়নার চলতি ট্রেন্ড

করেছে Sabiha Zaman

বিয়ের সাজে পোশাকের পর আসে গয়নার কথা। গয়না ছাড়া বিয়ের সাজ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। আকদ হোক বা বড় আয়োজনের বিয়ে, গয়নায় বউয়ের সাজের পূর্ণতা আসে। একটা সময় ছিল যখন বিয়ের গয়না মানেই ছিল ভারী গয়না। কিন্তু এখন আর সে যুগ নেই। বেশির ভাগ কনেই বিয়েতে হালকা গয়না পরতে চায়। হালকা নকশার ট্রেন্ডি গয়নায় বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে ফ্যাশনসচেতন কনেদের কাছে। বিয়ের গয়নার চলতি ট্রেন্ড নিয়ে রোদসীর আজকের আয়োজন। লিখেছেন সাবিহা জামান-

বর্তমানে বিয়ের গয়নার ট্রেন্ড নিয়ে কথা বলেন অনলাইন শপ ‘তন্দ্রাবিলাশ’-এর অনিয়া অনি। তিনি বলেন, বিয়েতে এখন শুধু সোনার গয়নাই পরে না বউয়েরা। এখন অনেকেই পাকিস্তানি কনেদের মতো সাজে। মুলতানি আর কুন্দন গয়না বর্তমান ট্রেন্ডে খুব চলছে। অনি আরও বলেন, ‘আগে একটা সময় ছিল যখন আমরা বিয়ের শপিং করতে শপেই যেতাম। কিন্তু করোনার কারণে দুই বছর ধরে অনলাইন শপ থেকেও এখন কনেরা বিয়ের শপিং করছেন। এর অন্যতম কারণ অনলাইন শপগুলোতে ট্রেন্ড মাথায় রেখে আনকমন গয়না আনে।’

সোনার গয়না
আসলে বিয়েতে সোনার গয়নার আবেদন সব সময় রয়েছে। সেই আদিকাল থেকে আজ অবধি বিয়েতে সোনার গয়না ছাড়া যেন পূর্ণতা পায় না। তবে আগের মতো এখন আর ভারী সোনার গয়নার যুগ নেই। বাজেট আর নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে সবাই হালকা ওজনের গয়নাই বেছে নেয়। আজকাল শুধু সোনা দিয়েই বিয়ের গয়না তৈরি হয় না। সোনার সঙ্গে মুক্তা, কুন্দন, পাথরের মিশেলে চমৎকার গয়নার সাজে কনেরা সাজছে। সলিড গোল্ডের পাশাপাশি পুঁতি, মুক্তা, স্টোন ও কুন্দনের মিশেলে তৈরি হচ্ছে বিয়ের গয়না। চলতি ট্রেন্ডে রুবি ও মিনাকারির কাজের সঙ্গে জারকান স্টোনের গয়নায় সাজছে বিয়ের কনে। কনেদের পছন্দের তালিকায় রোজ গোল্ড বা গোলাপি সোনা দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
বিয়ের গয়নার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কনেই ২২ ও ২৪ ক্যারেটের সোনা ব্যবহার করছেন। রেডিমেড কিংবা পছন্দ অনুযায়ী বানিয়ে নিতে পারো তোমার বিয়ের সোনার গয়না।

মডেল: তাসনিয়া ফারিন। জুয়েলারি: তন্দ্রাবিলাশ

রুপা
বিয়েতে কেবল যে স্বর্ণ বা হীরার অলংকার পরতে হবে, এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এই একবিংশ শতাব্দীতে আমরা কোনো নিয়ম বা প্রথায় আবদ্ধ না থেকে নিজের যেটা ভালো লাগে সে গয়নায় বিয়েতে সাজতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এখন বিয়েতে অনেকেই রুপার গয়নায় রুপালি সাজে সাজছে। বিশেষ করে হলুদের দিন রুপার গয়নার প্রচলন দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া রুপার ওপরে গোল্ড প্লেটের গয়না বেশ জনপ্রিয়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইনে রুপার গয়না গড়িয়ে নিচ্ছেন কনেরা।

হীরার গয়না
প্রায় সব মেয়েই চায় হীরার কোনো গয়না তার থাকুক। এখন অনেকেই বিয়েতে সোনা আর হীরার মিশেলে গয়না বেছে নিচ্ছে। অনেকে আবার প্লাটিনামের সঙ্গে হীরার জুড়ি মিলিয়ে বিয়েতে পরছে। হীরা মূলত আভিজাত্যের প্রতীক আর বিয়ের দিন কনের সাজে আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে হীরার গয়নার জুড়ি মেলা ভার। হীরার গয়না বলতে কিন্তু আমরা প্রায় সব সময় একটি ভুল করে থাকি। আমরা ধরেই নিই হীরা কেবল উচ্চবিত্তের নাগালে। কিন্তু এখন মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেও হীরা পাওয়া যায়। বিয়ের মৌসুম ছাড়াও বিভিন্ন সময় হীরার ওপরে বিভিন্ন ছাড় দিয়ে থাকে জুয়েলারি শপগুলো।

আমাদের দেশে দুই ধরনের হীরা পাওয়া যায়, যার একটি বোম্বে কাট আর অন্যটি বেলজিয়াম কাট। বোম্বে কাটের দাম কম থাকায় এর সস্তা চাহিদাও বেশি। হীরার গয়না ক্যারেট হিসাব করে হয়। যে হীরা যত বেশি ক্যারেট, এর দামও বেশি। হীরা কেনার সময় হলমার্কের লোগো দেখে কিনতে হবে। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, ডায়মন্ড গ্যালারি, ভেনাস ডায়াগোল্ড, অলংকার নিকেতন, নিউ জড়োয়া হাউসÑ এসব জুয়েলারি শপে বিয়ে আসলেই ভিড় পড়ে যায়।

ছবি: রেড

পাকিস্তানি আর ভারতীয় গয়নার চলন

হুহু করে বেড়েই চলেছে বিয়েতে পাকিস্তানি আর ভারতীয় গয়নার চল। অনেক কনেই বিয়ের বিশেষ দিনে সাজছে পাকিস্তানি কিংবা ভারতীয় গয়না দিয়ে। বিয়ের জন্য কুন্দন আর জয়পুরি গয়না এখন অনেক কনেই রাখছে পছন্দের তালিকায়। আর এ দুই গয়নাই আসে ভারত থেকে। কুন্দনের গয়নার জন্য ভারত জনপ্রিয়। ভারী গয়না যাদের পছন্দ, তারা অনেকেই ঝুঁকছে কুন্দনের গয়নার দিকে। আর যারা হালকার ভেতরে গয়না চায়, তারা জয়পুরি গয়নাগুলো পছন্দ করে।

পাকিস্তানি গয়নার কদর দিন দিন বাড়ছে। এখন অনেক কনেই পাকিস্তানি পোশাক আর গয়নায় ভিন্নভাবে সাজতে চায়। পাকিস্তানি কাটাই আর মুলতানি গয়নাগুলো ব্রাইডাল সেট হিসেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছে। কাটাই গয়না পুরোটাই হাতে কাজ করা হয়। তাই দেখতে বেশ লাগে। তবে আমাদের দেশের কাটাই থেকে পাকিস্তানি কাটাই বেশ আলাদা। তাই কনেরা বিয়েতে পাকিস্তানি কাটাই রাখে পছন্দের শীর্ষে। আর এ কাটাইগুলো ওজনে হালকা আর গোল্ড পলিশ করা থাকে বলে সোনার মতোই মনে হয়। মুলতানি গয়নাগুলোও অনেক জনপ্রিয় এখন। বিয়েতে ইউনিক লুক দিতে মুলতানি জুয়েলারির তুলনা নেই।

 

‘তন্দ্রাবিলাশ’-এর অনিয়া অনি

 

 

 

 

 

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

10 + 20 =