বিয়ের গয়না

করেছে Suraiya Naznin

রোদসী ডেস্ক: যতই সাজো আর শাড়ি পরো, গয়না ছাড়া কি বউসাজ পূর্ণ হয়? একসময় বিয়ের গয়না মানেই ছিল গাভর্তি ভারী স্বর্ণালংকার। যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গয়নার ফ্যাশন ট্রেন্ডেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। তাই ঐতিহ্যবাহী ভারী গয়নার বদলে অনেকেই বেছে নিচ্ছে হালকা নকশার ট্রেন্ডি গয়না। বিয়ের গয়না শুধু সাজগোজের উপকরণ নয়। এটা মায়ের বাড়ির আশীর্বাদ বা শ্বশুরবাড়ির উপহার।

আগে বিয়ের গয়না মানেই ছিল সোনার গয়না। সোনার আকাশছোঁয়া দাম আর ফ্যাশন পরিবর্তনের কারণে বিয়ের গয়নায় জায়গা করে নিয়েছে রুপা, গোল্ড প্লেটেড গয়না, পাথরের গয়না, মুক্তো এমনকি হীরাও। তবে সোনার গয়নার আবেদন কমেনি এতটুকুও। এখনো বাঙালি বধূ মানেই সোনার গয়নায় মোড়া। তবে আগের মতো শুধু হলুদ আর সাদা সোনার গয়নার বাইরে এখন গোলাপি সোনা বা রোজ গোল্ড বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

সোনার গয়না
পেটানো খাঁটি গিনি সোনার বদলে এসেছে কিছুটা হালকা ডিজাইনের সোনার সঙ্গে পাথর, পুঁতি, কুন্দন বা মুক্তার মিশেলে তৈরি গয়না। তোমার বিয়ের শাড়ির কালারের সঙ্গে মিলিয়ে স্টোন বা পুঁতি বসিয়ে নিতে পারো। এখনকার ট্রেন্ড সেটাই। এ ছাড়াও পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গোল্ডের গয়নায় মিনা করিয়ে নিতে পারো। ব্যবহার করতে পারো রুবি, পান্না, টোপাজের মতো দামি পাথর। রোজ গোল্ডের সঙ্গে মুক্তা সুন্দর মানাবে। তোমার মায়ের বা দাদির ট্র্যাডিশনাল গয়নাগুলোকে পাথর, পুঁতি বসিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারো হালফ্যাশনের। সোনার গয়না কিনতে পারো বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, রাইফেল স্কয়ার বা গুলশান পিংক সিটি থেকে। রেডিমেড কিনতে পারো বা নিজের পছন্দ অনুযায়ী বানিয়ে নিতে পারো। তবে হাতে সময় থাকা চাই ২ সপ্তাহ থেকে এক মাস। ১৮ ক্যারেটের সোনার ভরি ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৭ হাজার টাকা, ২২ ক্যারেট ভরি প্রতি ৫০ হাজার টাকা।

 

 

হীরার গয়না
সোনা যেমন ঐতিহ্য, হীরা তেমনি আভিজাত্যের প্রতীক। আগে শুধু উ”চবিত্তের নাগালে থাকলেও এখন মধ্যবিত্তের হাতের সীমানায় চলে এসেছে হীরা। পুরো সেট না হোক, দু-একটা হীরার গয়না তো থাকা চাই-ই চাই। আমাদের দেশে দুই ধরনের হীরা পাওয়া যায়, বোম্বে কাট আর বেলজিয়াম কাট। বোম্বে কাট দামে সস্তা হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। হীরার গয়না পাবে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, ডায়মন্ড গ্যালারি, ডায়াগোল্ড, অলংকার নিকেতন, নিউ জরোয়া হাউস এই দোকানগুলোতে। হীরার নাকফুল ২ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, কানের দুল ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, আংটি ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, নেকলেস ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। দেড়-আড়াই লাখ টাকায় পাবে হালকা ডিজাইনের সেট। বেলজিয়াম কাটের ক্ষেত্রে সেটের দাম পড়বে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। হীরার গয়না বেশি মানাবে শিফন বা জর্জেটের হালকা কাজের আধুনিক শাড়ি বা লেহেঙ্গার সঙ্গে। এনগেজমেন্ট বা বউভাতে হীরার গয়না বেশি মানানসই।

রুপার গয়না
বিয়েতে প্রচলিত রুপার গয়নার চল না থাকলেও রুপার ওপর গোল্ড প্লেটেড করে নিতে পারো। বিশেষ করে কিছু গয়না যা পরে আর তেমন পরা হবে না সেগুলো রুপো দিয়ে বানাতে পারো। যেমন নথ, টিকলি, টায়রা, ঝাপ্টা বা নূপুর। অনেকেই আজকাল হলুদে ফুলের গয়নার পাশাপাশি বা পরিবর্তে ব্যবহার করছে রুপার গয়না। রুপার ভরি বর্তমানে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। রুপার গয়নার রিসেল ভ্যালু আছে। বিয়ের পরে যেসব গয়না পরা হয় না, সেগুলো বিক্রি করতে পারো বা বানিয়ে নিতে পারো অন্য কিছু।

গোল্ড প্লেটেড
গোল্ড প্লেটেড গয়নার জনপ্রিয়তা বাড়ছে ক্রমেই। স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই ঝুঁকছে গোল্ড প্লেটেড গয়নার দিকে। বিয়ের সব গয়না বানাতে পারো সিটি গোল্ড, ইমিটেশন বা গোল্ড প্লেটেড ম্যাটেরিয়াল দিয়ে। কপার বা অ্যান্টিক কালারের গোল্ড প্লেটেড গয়না এখন বেশ চলছে। পাথর, পুঁতি, মুক্তা মানাবে একসঙ্গে। সেটের দাম পড়বে ১২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। এসব গয়না পাবে গাউছিয়া, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটিতে।

কোন শাড়িতে কোন গয়না

কাতান, বেনারসি, জামদানি, মসলিন এসব দেশি শাড়ির সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল সোনার গয়না বেশি মানাবে। শিফন, জর্জেট, নেট শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে পাথর, পুঁতি বা হীরার গয়না। গয়নায় জমকালো ভারী কাজ থাকলে কিছুটা হালকা কাজের শাড়ি বেছে নাও। এতে গয়নার সৌন্দর্য বেশি ফুটে উঠবে।

 

কী কী গয়না চাই
গয়না এমন হওয়া চাই, যা বিয়ের পর শুধু সিন্দুকে বন্দী হয়ে থাকবে না। তাই এখন সিতা হার, মুকুট, তাজের দেখা পাওয়া যায় কম। একটি সিতা হারের বদলে আলাদাভাবে দুই-তিনটি হার পরতে পারো। মাথায় পরতে পারো টিকলির পাশাপাশি টায়রা। এখন এক লহর ছাড়াও ২-৫ লহরের টায়রাও পরছে অনেকে পুরো মাথাজুড়ে। এক পাশে ব্যাংস কাট রাখলে অন্য পাশে পরতে পারো ঝাপ্টা। মুখজুড়ে বড় নথের পাশাপাশি চলছে ছোট নথও। কানের ঝুমকা বা কানপাশার সঙ্গে অনেকেই পরছে টানা। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ওড়না পরো। হাতে সোনার বালা বা চুড়ের সঙ্গে শাড়ির রং মিলিয়ে পরো গোল্ড প্লেটেড স্টোন, পুঁতি আর ঝালর লাগানো চুড়ি। বাজুতে অনেকেই পরছে বাজুবন্ধ। চাইলে কোমরে পরতে পারেন বিছা। বিশেষ করে হলুদে কোমরে রুপার বিছা বেশ ভালো লাগবে। আজকাল পায়ে ভারী নকশার নূপুর চলছে বেশ। বেণি বা খোঁপায় জড়িয়ে নিতে পারো রুপা বা গোল্ড প্লেটেড মালা।

ছবি: ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × four =