বিয়ের পোশাকে প্রথাবদল

করেছে Sabiha Zaman

বিয়ে আর বিয়ের পোশাক নিয়ে হাজারো পরিকল্পনা আর স্বপ্ন। একটা সময় বিয়ের পোশাক মানেই ছিল লাল বেনারসি আর শেরওয়ানি। তবে হাল আমলে বিয়ের পোশাকে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কেবল লাল বেনারসিতে টুকটুকে লাল বউ নয়। এখন নানান রঙে ভিন্ন পোশাকে বিয়ের সাজে নিজেকে সাজাও বর-কনে। প্রথাবদলের বিয়ের পোশাক নিয়েই রোদসীর আয়োজন। লিখেছেন সাবিহা জামান_

পোশাকের রং
বিয়ের পোশাকের কথা বললেই আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায় লাল টুকটুকে কনে। কারণ, সেই বহুকাল আগে থেকেই আমাদের উপমহাদেশে বিয়ের কনের পোশাকের রং লাল। বিয়েতে কনের পোশাকে লাল রংকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। আগের দিনে লাল শাড়ি, লাল লিপস্টিক ছাড়া কনের সাজ অসম্পূর্ণ থাকত। তবে বউ সাজে এখন এসেছে অনেক রং। হাল আমলে বিয়ের পোশাকের রঙে বদল এসেছে। সোনালি, সাদা, নীল, গোলাপি ও সবুজের মতো ভিন্ন ভিন্ন রঙে নিজেকে সাজায় কনে। কনের সঙ্গে মিলিয়ে আজকাল বর সাজে। আসলে বিয়েতে লাল পরতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো রঙেই নিজেকে সাজাতে পারো।

সোনালি সাজে কনে
বিয়ের উৎসবে লালের রং এখন অনেক জনপ্রিয়। বেশ গর্জিয়াস লাগবে সোনালি রঙে লেহেঙ্গা অথবা শাড়িতে, সোনালি গাউনেও বিয়ের সাজে বেশ লাগবে। অনেকেই আজকাল বিয়ের জন্য সোনালি রং বেছে নিচ্ছে আর অনেকে পরছে রিসিপশনের দিনে।

নীল
বিয়েতে নিজেকে ভিন্নভাবে ও আধুনিকভাব ফুটিয়ে তুলতে নীল রং বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেক বিয়েতেই দেখা যায় বর-কনে দুজনেই নীল রঙে সেজেছে। সাধারণত বউভাত বা এনগেজমেন্টে আমাদের দেশের নারীরা নীল পরে থাকলেও বর্তমানে অনেকেই বিয়েতেও এই রং পছন্দ করছেন।

ছবি: আনজারা

পিচ
অনেকেই আছে, যারা সাদামাটা থাকতে পছন্দ করে। খুব বেশি উজ্জ্বল রং পছন্দ না করলে পিচ রং বেছে নিতে পারো। ভারতীয় অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা ও অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া তাদের বিয়েতে পরেছিলেন পিচ রঙের লেহেঙ্গা। সেই থেকে বিয়েতে পিচ রঙের ট্রেন্ড চালু হয়েছে। অনেকেই লাল বা সোনালি বাদ দিয়ে বিয়েতে পিচ রঙে নিজেকে সাজাচ্ছে।

সাদা
জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা তার বিয়েতে পরেছিলেন সাদা জামদানি। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ভারী সোনার গয়নায় সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি। সাদা আর সোনালি পাড়ে সাউথ ইন্ডিয়ার বেশির ভাগ কনেই সাজে। এর সঙ্গে সোনার গয়নায় বেশ লাগে। সাদার সঙ্গে মিলিয়ে মেরুন ওড়নায় নিজেকে বউ হিসেবে সাজাচ্ছে আজকাল অনেকেই। ক্রমেই বিয়েতে জনপ্রিয় হচ্ছে হালকা রংগুলো, যার মধ্যে শুভ্র সাদা সবার নজর কাড়ে।

প্রথা পরিবর্তনে পোশাক
প্রত্যেক মানুষের বিয়ে নিয়ে থাকে হাজারো ভাবনা। আর এ ভাবনার বড় একটি স্থান জুড়ে থাকে বিয়ের পোশাক। নিজের বিয়ের পোশাক কী হবে, কেমন হবে, এ নিয়ে ভাবেনি এমন বর-কনে পাওয়া দায়। সমাজের প্রথা আর নিয়মের ভারে ভাবনা যা-ই হোক শেষটায় বেশির ভাগ কনের পরনে থাকে লাল শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গা। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এখন বিয়ের পোশাকেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। প্রথা অনুযায়ী বিয়েতে শাড়ি বা লেহেঙ্গার বাইরে গিয়ে অনেকেই সাজাচ্ছে পছন্দ অনুযায়ী।

বিয়ের পোশাকে সানজানা রিশি

গত বছর ভারতীয় নারী উদ্যোক্তা সানজানা রিশি বিয়ের পোশাক দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি প্রথা অনুযায়ী বিয়েতে শাড়ি বা লেহেঙ্গা না পরে প্যান্ট-স্যুট পরেই বিয়ের আসরে হাজির হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই ফেলে দেন সানজানা। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার প্যান্ট-স্যুট অনেক পছন্দ আর আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নিজের পছন্দ আর আরামের কথা মাথায় রেখেই আমি বিয়েতে এই পোশাক বেছে নিয়েছি।’ ‘গেম অব থ্রোনস’- সিরিজের অভিনেত্রী সোফি টার্নারকেও তার বিয়ের দিন একটি সাদা ট্রাউজার পরা অবস্থায় দেখা যায়।

আসলে বিয়ে মানেই কেবল গৎবাঁধা লাল বেনারসি কিংবা লাল লেহেঙ্গা নয়। আমরা কী সহজেই শাড়িতে নারী বলে নারীকে সংজ্ঞায়িত করছি অথচ সে কী চায় এ কথা আমরা কথা মাথায় রাখি না। এখন সময়ের অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন ডিজাইনের ড্রেসের সমারোহে কেবল শাড়িতেই নারীরা সীমাবদ্ধ নেই। নিজের ভালো লাগা আর কমফোর্টের বিষয়টি নিয়ে এখনকার নারীরা অনেক সচেতন। কে কোন পোশাক পরবে, এটি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। বিয়ের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বর্তমানে নারীরা নিজের পছন্দ আর কমফোর্টের বিষয়টি দেখে থাকে। তাই তো এখন বিয়ে শাড়ি, লেহেঙ্গার পাশাপাশি স্থান করে নিচ্ছে গাউন, সালোয়ার-কামিজ ও প্যান্ট-স্যুট। পশ্চিমা দেশগুলোয় অনেকেই বিয়েতে থিম বেইস সাজ দিচ্ছে। আবার অনেকে বিয়েতে সাজতে চায় প্রিয় সেলিব্রিটির মতো।
বছরের শেষের দিকে বিয়ের ধুম পড়ে যায় আর এ সময় আমাদের দেশে ঠান্ডা থাকে। কিন্তু আমরা বর-কনের পোশাকে এ বিষয়টা একদমই যেন ভুলে যাই। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে এখন অনেকেই গরমের দিনে বেশি ভারী পোশাক না পরে আরামদায়ক পোশাক বেছে নেওয়াই ভালো।

ছবি: রেড

আগে বরের পোশাক বলতেই ছিল কেবল শেরওয়ানি বা পাঞ্জাবি। তবে বেশ কিছু বছর ধরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্যুট-প্যান্ট। অনেকেই আবার ট্র্যাডিশনাল পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে ওপরে কটি পরছে, আবার কেউ বেছে নিচ্ছে কাবলি সেট। কনের সঙ্গে মিলিয়ে কাস্টমাইজ ড্রেসে অনেক বর-কনেই বিয়ে সেরে নিচ্ছে, লাগছেও বেশ।
আসলে বিয়েতে কে কী পরবে, তা প্রথাগত নিয়মে ঠিক না করাই ভালো। বিয়েতে তুমি যেটা ভালোবাসো, যা তোমাকে বিয়ের দিনে সবার থেকে সেরা করবে, তাই পরো। নিজের কমফোর্ট বাদ দিয়ে কোনো পোশাক পছন্দ করবে না। বিয়েতে মন থেকে আনন্দ করো, হাসো। কারণ, প্রাণখোলা আনন্দের থেকে সৌন্দর্য আর কিছুই না।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 − one =