বেকিং এ সাধারন কিছু মিসটেক

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

বেকিং এর শখ নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। শখের বশেই হোক কিংবা প্রয়োজনে, বেকিং এমন একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া যেখানে তাপমাত্রা এবং উপাদান থেকে শুরু করে কৌশল প্রতিটি বিবরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখা গেছে অনেক সময় আমরা অনেক আগ্রহ নিয়েই কোন কিছু তৈরি করতে যাই কিন্তু কিছু কিছু মিসটেকের কারনে তা পন্ড শ্রমে পরিণত হয়। তাই বেকিং এর সময় হয়ে যাওয়া এমন কিছু সাধারন মিসটেক নিয়ে আজ আমরা জানবো।

প্রয়োজনীয় উপকরণ একত্রীকরণ

কি তৈরি করতে যাচ্ছি এবং এর উপকরন কি কি আগেই তা নোট করে রাখবো। প্রয়োজন অনুযায়ী মেইন ইনগ্রিডিয়েন্স থেকে শুরু করে ছোটখাটো সবকিছুই হাতের কাছে এনে রাখতে হবে। ইমাজিন করো প্রিয় মানুষের বার্থডে কেকের জন্য বাটার এবং চিনি মিক্স করছো এবং তারপরে বুঝতে পারছো যে, ময়দা প্রয়োজনের তুলনায় একদমই কম আছে। এমন পরিস্থিতি হয়তো বিকল্প অন্য কিছু ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, কিন্তু এটি আসল রেসিপিটির মতো অর্ধেকও ভাল স্বাদ পাবেনা। তাই বেকিং এর প্রথম নিয়মই হলো সবকিছু তার জায়গায় রাখা। রান্নার সরঞ্জাম থেকে শুরু করে এর উপাদানগুলো সব আগে থেকেই পর্যাপ্ত পরিমানে হাতের নাগালে রাখতে হবে এতে বেকিং এর সময় অর্ধেক কমিয়ে দেবে।

উপাদানের সঠিক পরিমাপ

বেকিং এ পারফেকশানের আরেকটি শর্ত হলো উপকরণের সঠিক পরিমাপ। পরিমাপে বেশি বা কমের উপর তৈরিকৃত খাবারের চূড়ান্ত টেস্ট নির্ভর করে। এমনকি এক চিমটি অতিরিক্ত লবণও বিস্বাদ করে দেয়। তাই এইক্ষেত্রে অনুমান করে কিছু দেয়া ঠিক না। সর্বদা রেসিপিতে উল্লেখ করা পরিমাপগুলো ব্যবহার করতে হবে। ওজন করার জন্য প্রয়োজনে ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওভেনের অসমান তাপমাত্রা

যদি কোন রেসিপিতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বেক করতে বলা হয়, তবে এটা মনে রাখতে হবে যে গরম করার ক্ষমতা সমস্ত ওভেনে এক নয়। তাই বেক করার সময় নিশ্চিত করতে হবে যে সঠিক তাপমাত্রায় এটি হচ্ছে। আরও সঠিক তাপমাত্রার জন্য ওভেন থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারো। এছাড়াও, বেক করার সময় তা কখনো সরাসরি ঠান্ডা ওভেনে দেয়া যাবেনা। সর্বদা প্রিহিট নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্দেশ অনুযায়ী ওভেন সঠিক তাপমাত্রায় পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বারবার ওভেন খুলে চেক করা

রান্না করার সময় কৌতূহল বশত বারবার আমরা চেক করে থাকি। কিন্তু বেক করার সময় এই কাজ ভুলেও করা যাবেনা। কারন কাজের মাঝখানে এসে ওভেনের দরজা খোলার ফলে গরম বাতাস বের হতে পারে এবং মাঝখানে দেখা যাবে তোমার শখের কেকটি চুপসে যাবে। বেক করার সময় হয়ে গেলে, কাঁটাচামচ বা টুথপিক দিয়ে কেক চেক করে দেখতে হবে। যদি দেখা যায় যে এটা উপরের দিকে হয়ে গেছে কিন্তু মাঝের অংশ এখনও কাঁচা, তাহলে কেকের উপরের অংশটি ফয়েল দিয়ে ঢেকে দিয়ে আবার ওভেনে দিতে  হবে।

শুষ্ক উপাদানগুলো না চেলে নেয়া

স্মুথ মিশ্রণের জন্য শুকনো উপাদানগুলোকে আগে ভালোভাবে চেলে নিতে হবে। না চেলে নিলে মিশ্রণে ক্লাম্প সৃষ্টি হয়। তাই টেক্সচার সঠিকভাবে পেতে মেশানোর আগে সকল শুষ্ক উপাদান চালনিতে চেলে তারপর মেশাতে হবে।

উপাদানের মেশানোর ক্রমপর্যায় ফলো না করা

উপাদানের ক্রম রান্নার ফলাফলের উপর কতটা প্রভাব ফেলে তা জানলে অবাক হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি তুমি যথাযথ পদক্ষেপগুলো অনুসরণ না করে সরাসরি ময়দায় ডিম যোগ করো, তবে তা ভালোভাবে না মিশে তালগোল বেঁধে যাবে। কোন উপাদনের পর কোন উপাদান যাবে তার ক্রমপর্যায় অনুসরণ করলে এটা নিশ্চিত করা যাবে যে সমস্ত উপাদান সমভাবে বিতরন করার সুযোগ পাচ্ছে। এক্ষেত্রে একটি সাধারন টিপস হলো শুকনো এবং ভেজা উপাদানগুলো মিশ্রিত করার আগে আলাদা রাখতে হবে, এতে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মিশ্রণ তৈরি করবে।

ইলেক্ট্রিক মিক্সার ব্যবহার না করা  

কিছু কিছু আইটেমের মিশ্রণটি অনেক স্মুথ হতে হয়। আর তার জন্য প্রয়োজন উপাদানগুলোকে ভালোভাবে একত্রিত করা যতক্ষন পর্যন্ত না এগুলো একটি নির্দিষ্ট সামঞ্জস্যে পৌঁছায়। হাতের শক্তি ব্যবহার করে কখনোই একই ফলাফল পাওয়া যাবেনা যা ইলেক্ট্রিক মিক্সারের মাধ্যমে সম্ভব হয়। তাই উপাদানগুলোকে বীট করার জন্য মিক্সার ব্যবহার করে দেখো আর পার্থক্য দেখো।

সঠিক প্যানের ব্যবহার

কেক, পাই এবং কুকিকে জ্বলতে দিতে না চাইলে হালকা রঙের বেকিং প্যান ব্যবহার করলে ভালো হয়।  গাঢ় রঙ সবসময় বেশি তাপ শোষণ করে এবং জিনিসগুলিকে দ্রুত গরম করে। তাই বেকড করার জন্য, একটি গাঢ় প্যান তাদের অতিরিক্ত রান্না করার এবং পুড়ে যাওয়ার চান্স থাকে।

প্যানগুলোকে সঠিকভাবে গ্রীস করা

পছন্দের কেক বা কুকিজ বানানোর সময় তা প্যানে আটকে যাওয়ার ঘটনা দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বড় বেকিং বিপর্যয় এড়াতে, প্রথমেই প্যানকে প্রিপেয়ার করতে হবে। এই প্রিপারেশনে মাখন, ময়দা এবং পার্চমেন্ট পেপার যোগ করতে হবে। এতে সর্বদা নিখুঁত ফলাফল দিবে।

উপাদান এবং তাদের বিকল্প সম্পর্কে জানা

কিছু উপাদান সহজেই অন্যদের সাথে প্রতিস্থাপিত হয়। যেমন, রুটির ময়দার পরিবর্তে অল পারপাস ময়দার ব্যবহার এবং এক্টিভ ড্রাই এর পরিবর্তে ইনস্ট্যান্ট ইস্টের ব্যবহার। তবে, বেকিং পাউডার হিসেবে বেকিং সোডাকে এক বলে গুলিয়ে ফেললে হবেনা।

বেকিংয়ের ক্ষেত্রে, অনুশীলন এবং ধৈর্য্য হল তোমার সেরা বন্ধু। এই পথে চলতে নিঃসন্দেহে অনেক ভূল ত্রুটি হবে। নিরাশ না হয়ে বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সাফল্য একসময় ধরা দিবেই।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three × 1 =