ব্ল্যাকহেডস দূরীকরনে ঘরোয়া টোটকা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

একটি গ্লোয়ি ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে আমরা কত কিছুই না করি। বুঝেই হোক বা না বুঝেই হোক আমরা এর পেছনে অনেক খরচ করি। কিন্তু সঠিক ও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে ত্বকে ব্ল্যাকহেডসের মত এমন কিছু সমস্যার আবির্ভাব হয় যাতে পুরো চেহারাকে করে তোলে রুক্ষ এবং নিস্তেজ। এই বিরক্তিকর, জটিল সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য ঘরোয়া কিছু ট্রিটমেন্ট নিয়েই আজকের আয়োজন।

আমাদের সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় কম বেশি মুখে নানা সমস্যা লেগেই থাকে। দূষন, ধোঁয়া, ধুলাবালির কারনে ত্বকে ময়লা জমতে শুরু করে। আর এই ময়লা স্কিনের পোরসগুলোতে আটকে থাকে। ঠিক মতো পরিষ্কার করা না হলে এর উপর আরো বেশি তেল ময়লা জমতে থাকে। এক সময় বাতাসের সংস্পর্শে এসে তা অক্সিডাইজড হয়ে ব্ল্যাকহেডসে রুপ নেয়। সাধারনত নাকের দুপাশে, কপালে, গালে, চিবুকে এইসব ছোট ছোট ব্ল্যাকহেডস দেখতে পাওয়া যায়। এর আরেক ধরনের দোসর আছে হোয়াইটহেডস। এক মনে হলেও আদতে এদের মাঝে পার্থক্য আছে। ব্ল্যাকহেডস হল মূলত আটকে থাকা লোমকূপ যা ত্বকের পৃষ্ঠে পৌঁছায় এবং খোলা থাকে। তারা কালো রঙয়ের দেখায় । আর হোয়াইটহেডস হল আটকে থাকা লোমকূপ যা ত্বকের নিচে থাকে এবং সাদা বাম্প তৈরি করে। হোয়াইটহেডস সহজে রিমুভ করা গেলেও প্রথম থেকেই সচেতন না হলে ব্ল্যাকহেডস বেড়ে একসময় স্থায়ী হয়ে বসে যায়। স্ট্রিপের মাধ্যমে ব্ল্যাকহেডস তুলতে পারা গেলেও এতে অনেক যন্ত্রনার কারনে অনেকে এড়িয়ে যেতে চায়। তাই ঘরে বসে ঘরোয়া উপায়ে এর কিছু সমাধান দেয়া হল-

বেকিং সোডা

বেকিং সোডা হল একটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর। শধুমাত্র বেকিং সোডা এবং পানি দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করো এবং তা আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। আঙুল দিয়ে আলতো করে কয়েক মিনিট স্ক্রাব করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি সপ্তাহে দুবার করা উচিৎ। তবে স্কিনে বেকিং সোডা স্যুট করে কিনা আগে তা পরীক্ষা করে নিতে হবে।

দারুচিনি

এটি হল একটি অ্যান্টি- ব্যাকটেরিয়াল মশলা। ত্বকের সমস্ত ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারে, ব্ল্যাকহেডস তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও দারুচিনি পাউডার পোরস টাইট করতে ও রক্ত সঞ্চালনের উন্নতিতে সাহায্য করে। আর লেবুর আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা যা মুখ পরিষ্কার রাখে। দারুচিনি গুঁড়ার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা মুখে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখতে হবে। পরে তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ব্ল্যাকহেডসের পাশাপাশি এটা মরা চামড়া দূর করতেও কাজ করে।

লেবু-লবন-মধু

লেবুর অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট গুণ গ্রীস কাটবে এবং লবনের দানা ত্বকের জন্য একটি নন-অ্যাব্রেসিভ স্ক্রাব হিসেবে কাজ করবে। মধু ত্বককে মশ্চারাইজ করবে এবং জীবানু দূর করতে সাহায্য করবে। এই তিনটি উপাদান দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে তা ব্ল্যাকহেডসে লাগাতে হবে। এক মিনিটের জন্য বৃত্তাকার ভাবে স্ক্রাব করতে হবে। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে তিনবার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

গ্রীন টি

এতে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মরা চামড়া ও ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সাহায্য করে। পানিতে কিছু শুকনো গ্রীন টি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে লাগাতে হবে। ১৫ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলতে হবে।

ডিমের সাদা অংশ

স্কিন টাইটেনিংয়ের জন্য পরিচিত ডিমের সাদা অংশ ব্ল্যাকহেডস দূরীকরনেও কাজ করে। সরাসরি ত্বকে বা মাস্ক হিসেবে প্রয়োগ করা হলে, ডিমের সাদা অংশ পোরসগুলোকে সংকুচিত করে, তাই ব্ল্যাকহেডসগুলোকে জোর করে বের করে দেয়। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল বের করার পাশাপাশি ত্বকের গঠন উন্নত করে।

লেবু চিনির স্ক্রাব

ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়। লেবুর রসের সাথে চিনি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা লাগাতে হবে। হাল্কা হাতে ম্যাসেজ করতে হবে যতক্ষন পর্যন্ত না চিনি গলে যায়। এর পর ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ বার করতে হবে।

ওটমিল এবং দই

এই দুটির মিশ্রনে একটি চমৎকার স্ক্রাব তৈরি হয়। ওটমিলের ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে আর অন্যদিকে প্রোবায়োটিক এনজাইমের সাহায্যে দই ত্বককে পুষ্টি যোগায় এবং ময়েশ্চারাইজ করে। এই দুটির মিশ্রণ মুখে ম্যাসেজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

উপরের এই ঘরোয়া টোটকা ছাড়াও প্রতিদিনের লাইফস্টাইলেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। সবসময় স্কিন পরিষ্কার রাখা, বাইরে থেকে এসেই ভালো ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার রাখা, সপ্তাহে কমপক্ষে ২দিন স্ক্রাব করা, বেশি বেশি পানি পান করা আর হেলদি লাইফস্টাইল লিড করা।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eleven + 9 =