বয়স বাড়লেই কী দীপ্তি কমে যায়?

করেছে Suraiya Naznin

সুরাইয়া নাজনীন:

চোখের নিচে কালি পড়ছে। হাত পায়ের ত্বকও যেন আগের মতো নেই! আলমারির রঙিন কাপড়গুলো আড়চোখে তাকাচ্ছে। বয়স বাড়লেই কী সমাজের একদলের দৃষ্টিভঙ্গী ভাগ হয়ে যায়? তোমার আর এগুলো করার কিংবা পরার বয়স নেই। তোমার বয়স বাড়ছে। কিন্তু তুমি যদি এগুলোকে পাত্তা দিতে থাকো তাহলে ধীরে ধীরে মন মরে যাবে। বয়সের দিকে না তাকিয়ে যত্ন নাও নিজের। দেখবে সমাজের সেই লোকগুলোই তোমাক দেখে ভীমড়ী খাবে-তবে দেখে নাও কী উপায়ে তোমার জেল্লা ধরে রাখবে।

কপালে নাহয় কয়েকটা ভাঁজ বেড়েইছে, তার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতার ঝুলিও যে ভারী হয়েছে, সেটা বেমালুম ভুলে গেলে? আর তাছাড়া বয়স তো বাড়ারই বস্তু, সে যতই তাকে টেনেহিঁচড়ে আটকে রাখার চেষ্টা করো, সেটা হওয়ার জো নেই। বরং নিজেকে বয়সোপযোগী করে তুলতে হবে।

যখন সত্যিই নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারবে, নিজেকে সময় দেওয়া, নিজের খেয়াল রাখা তখন আর অহেতুক মনে হবে না। তারপরই আসবে যত্নের প্রসঙ্গ। প্রতিদিন সকাল-সন্ধে একটু সময় দাও নিজেকে। সবটাই হবে সময় এবং স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী।

সকালের জন্য-

সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ হবে ত্বক পরিষ্কার করা। কোনও অবস্থাতেই তা যেন বাদ না পড়ে। ক্লিনজ়ার কেনার আগে একটু খেয়াল রাখবে। একটু বয়স হলে, ত্বক এমনিই শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই জেল বেসড ক্লিনজ়ার ব্যবহার না করাই ভাল। ক্রিম বা অয়েল-বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করা ভাল। এতে ত্বক নরম থাকবে।

ময়শ্চারাইজ়ার কিন্তু মাস্ট। যে কোনও বয়সেই ত্বক নরম রাখতে আর্দ্রতা ধরে রাখা প্রয়োজন। আর সেই কাজটাই করে ময়শ্চারাইজ়ার। ময়শ্চারাইজ়ার কেনার আগে উপকরণের তালিকায় চোখ বুলিয়ে নেবে। হায়ালুরনিক অ্যাসিড, রেটিনল বা ভিটামিন-এ থাকলে তাতে বাড়তি উপকার হবে ত্বকের। ময়শ্চারাইজ়ার ব্যবহারের পর বাড়তি সুরক্ষার জন্য কোনও সেরাম লাগান। সেরাম ত্বককে আলাদা পুষ্টিও দেয়, যা ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে।

দিনের বেলা বাইরে বেরোলে সানস্ক্রিনের ব্যবহার মাস্ট। যাঁরা রান্নাঘরে আগুনের সামনে দিনের অনেকটা সময় কাটাও, তাঁরাও কোনও ধরনের সান প্রোটেকশন ব্যবহার করার চেষ্টা করো। সানব্লক, সানস্প্রে, যে কোনও ধরনের প্রডাক্টই চলবে। নাহলে ত্বকে দাগছোপ বসে যেতে পারে। আর বয়স যত বাড়ে, ততই ত্বকের ন্যাচারাল হিলিং ক্ষমতা কমে আসে। তাই ট্যান পড়লেও তা স্বাভাবিক হতে অনেক বেশি সময় নেবে।

শুধু মুখে নয়, গোটা শরীরে প্রতিদিন অলিভ অয়েল বা নারিশিং বডি লোশন মাসাজ করো। স্নানের পর ত্বক ভিজে থাকা অবস্থায় ত্বক মাসাজ করলে আর্দ্রতা সহজে ত্বকের গভীরে পৌঁছবে।

সপ্তাহে একবার বডি স্ক্রাব করা প্রয়োজন। তবে তার জন্য খরখরে স্ক্রাবিং প্যাড বা ধুধুল ব্যবহার করবেন না। নরম লুফা বা ছোট তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন, যা কোমলভাবে ত্বক পরিষ্কার করবে।

গোসলের আগে চুল আঁচড়ে নাও। সপ্তাহে দু’বার তেল, তিনবার শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহারের অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে।

রাতের জন্য-

রাতে শুতে যাওয়ার আগে আবার মুখ পরিষ্কার করে নাও।
তবে এবার আর টোনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
একটু ঘন কোনও ময়শ্চারাইজ়ার নিয়ে ত্বক ভিজে থাকা অবস্থাতেই মুখ, গলা এবং ঘাড়ে মাসাজ করো। ১০ মিনিট রেখে ভিজে তুলো দিয়ে তা মুছে নাও। গোটা শরীরে লোশন না লাগালেও কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি, পাতায় অবশ্যই ক্রিম বা লোশন লাগাবে। চুল আঁচড়ে হালকা করে বেঁধে শুতে যাও।

আরও কিছু-

মাসে একবার অবশ্যই বাড়িতে পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর করে নাও। পরিষ্কার করে নখ কেটে, পুরনো চটে যাওয়া নেলপলিশ তুলে নিতে হবে। পায়ের গোড়ালি, আঙুলের ফাঁক শ্যাম্পুগোলা পানিতে ভালভাবে পরিষ্কার করে ময়শ্চারাইজ় করে নাও। এতেই দেখবে নিজেকে অনেকটা পলিশড দেখাবে।

ছবি: সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × 3 =