বয়স যখন উনিশ-কুড়ি

করেছে Rodoshee

এ বয়স প্রতিযোগিতার। হার না মানার, নতুন কিছু জানার। অনাবিল স্বাধীনতা উপভোগের। চারপাশে বর্ণিল আলোর হাতছানি যেন মেলে ধরে রংধনুর ওই নীলাকাশ। কখনো এ বয়সের রং হার মানায় রংধনুর সাত রংকেও। ফ্যাশনে, তারুণ্যে, প্রতিবাদে, ঝড়ে এ বয়স হয়ে ওঠে অনন্য। এ বয়স মেলে ধরতে জানে নিজের সৌন্দর্য। এ বয়সেই আসে প্রথম শারীরিক অনুভূতি, প্রথম প্রেম, প্রথম স্বাধীনতা, প্রথম বাঁধভাঙা উচ্ছাস! লিখেছেন- লিহান লিমা।

বাঁধভাঙা উচ্ছাস
বিদেশে এই বয়সীরা পায় প্রথম একা থাকার স্বাধীনতা, বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলোতে পড়াশোনার তাগিদে এই বয়সীরা বাড়ি ছাড়ে। একা থাকার স্বাধীনতা দ্বার খুলে দেয় আড্ডা-মাস্তি আর উল্লাসের। ইচ্ছে-ঘুড়ির নাটাইতে লাগাম টানা ভার। এ সময় যেন লাল, নীল অনেক স্বপ্নেরা ভর করে। যদিও সময়টা কলেজের পাট চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত আঙিনায় প্রবেশের। কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার প্রথম পাঠ নেওয়ার। নিজের ইচ্ছেগুলো নিয়ে থাকে অনেক স্বপ্ন, কখনো তা মেলে ধরা যায়, আবার কখনো তা ভেঙে যায়। তবে হতাশা নয়, মনোবল আর নিজের ভালো লাগার বিষয়কে প্রাধান্য দিলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। স্বপ্ন দেখানোর মানুষ এ পি জে আবদুল কালাম বলতেন, ‘স্বপ্ন সত্যি করার আগে স্বপ্ন দেখতে হবে। ওটা স্বপ্ন নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন তাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।’

নয় শুধু পাগলামি
এ বয়স যতটা ভুলের ঠিক, ততটাই কিশোর বয়সের পাগলামিগুলোকে সামলে নেওয়ার। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ওএনএস) অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপান, ধূমপান, সেক্স ও স্মার্টফোনে আসক্তি বিবেচনা করে ২০০০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে দেখেছে, আজকালকার ১৮-১৯ বছর বয়সীরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন ও বিচক্ষণ প্রজন্ম। তারা দেখে, এসবে সময় দেওয়ার তুলনায় এ বয়সীরা এখন মনোযোগ দিচ্ছে শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের দিকে। এই বয়সে চাইলে ভালো লাগার দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তুমি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে থাকতে পারো। সেটি হতে পারে ফটোগ্রাফি, বিদেশি ভাষা শেখা, থিয়েটার, আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ, ভলেন্টিয়ারি কিংবা ভালো লাগার জায়গাটায় আত্মনিয়োগ।

প্রথম প্রেম
এ বয়সেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। প্রথম প্রেম কিংবা ভালো লাগা, সবকিছুই যেন হয় রঙিন। অনলাইনে পরিচয় হওয়া বন্ধুটি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দেখাতেই ভালো লাগার মানুষটি পরিবার, বন্ধু ও এত দিন পাশে থাকা মানুষগুলোর চেয়ে হয়ে ওঠে সবচেয়ে আপন। নিঃসন্দেহে প্রেমের সম্পর্ক বড়ই মধুর। প্রথম প্রেম এক অজানা ভালো লাগায় মোহাবিষ্ট থাকে। মনোবিজ্ঞানী চার্লস লিন্ডহোমের মতে, ‘প্রেম হলো একটি প্রবল আকর্ষণ, যা কোনো যৌন-আবেদনময় দৃষ্টিকোণ হতে কাউকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপর ব্যক্তির প্রতি একই সঙ্গে শক্তিশালী মানসিক এবং যৌন আকর্ষণ কাজ করে।’ দার্শনিক বার্নার্ড শ প্রেমকে দেখেছেন ধ্বংসকারী উপাদান হিসেবে। তার মতে, প্রেম হলো সিগারেটের মতো, যার শুরু আগুন দিয়ে, আর পরিণতি ছাইয়ে। রোমাঞ্চের আনাচে-কানাচে বাস্তবতাকে শত্রু ভাবাটা দোষের কিছু কি! আবেগের জায়গা থেকে প্রিয় মানুষটির ভেতরটাও সন্ধান করার সময় মেলে না। কিন্তু জানো কী, সঙ্গী নির্বাচনে ভুল হতেই পারে। এই সত্যিটাকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকলে কখনোই ঠকবে না তুমি। নিজেকে প্রশ্ন করো, সঙ্গীর হাত ধরে তুমি কি নিরাপত্তা, নির্ভরতা আর ভালোবাসার স্পর্শ খুঁজে পাও? সম্পর্কে অন্ধবিশ্বাস দিন শেষে যেন তোমার অশ্রুজলের কারণ না হয়। আবার একতরফা প্রেমে বাড়ে কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর হতাশা। ভুল মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেওয়ার অভ্যেস পরিহার করে বাস্তবতাকে মেনে নিলেই মিলবে কষ্ট থেকে মুক্তি।

প্রথম যৌনতা
ভারতের ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এক লাখ নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সে কিশোরীরা প্রথম যৌন সম্পর্ক করে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ, প্রিয় মানুষের প্রতি দুর্বলতা, যৌনতা সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে সহজেই যৌন সম্পর্কে প্রভাবিত হতে পারো তুমিও। ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বে সব প্রেমের উৎস হচ্ছে যৌনতা। সফোক্লিসের ইডিপাস রেক্স থেকে তিনি সৃষ্টি করেন তার মতবাদ ইডিপাস কমপ্লেক্স। যেখানে মাতার প্রতি শিশুপুত্রের দৈহিক আসক্তি ও পিতার প্রতি শিশুপুত্রের ঈর্ষাবোধ দেখানো হয়েছে। ইলেকট্রা কমপ্লেক্সে তিনি দেখান কন্যাসন্তানের প্রতি পিতার থাকা একধরনের অবচেতন যৌন কামনা। কালের প্রবাহে এই তত্ত্ব বিতর্কিত ও এর বিপক্ষে শক্ত যুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারণ, ফ্রয়েড যৌনতাকে আশ্রয় করে তত্ত¡ বানিয়েছেন, কিন্তু এখনো এই মতবাদের প্রভাব কম নয় যাদের কাছে প্রেম মানেই শরীর বা যৌনতা। প্রাচীন রোমানদের কাছে আবেগ মানেই প্রেম বা যৌনতা। ১৯ শতক থেকেই মুক্ত ভালোবাসা বা ফ্রি লাভ শব্দটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এটি বিয়ে ও সন্তানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে। উন্মক্ত যৌনতা শব্দটি মুক্ত ভালোবাসার ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হয়। জার্নাল অব সেক্স রিসার্চের গবেষকেরা বলছেন, নারীরা প্রথম প্রেমের ক্ষেত্রে অবহেলা করে থাকে, অন্যদিকে যৌন সম্পর্কের জন্য সঙ্গী খুঁজতে ভালোবাসার অভিনয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ করে। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত যৌন শিক্ষার যথেষ্ট অভাব থাকায় পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাময়িক আকর্ষণ কিংবা প্রবল আবেগে স্থিরতা ধরে রাখা ভার। তবে যে কোনো সিদ্ধান্তই যেন হয় ভেবেচিন্তে। ঝোঁক কিংবা আবেগের বশে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তোমার ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করবে কি না, তোমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা একটু ভেবে দেখলেই সঠিক পথ বেছে নেওয়া কঠিন কিছু নয়। নিজেকে জানো এবং বাছাই করো, ঠিক কিংবা ভুল তোমার ওপরই নির্ভর করছে। তুমিই জানো তুমি কী করছ এবং তোমার জন্য কোনটা সঠিক।

সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি

লাইক, কমেন্ট, লাভ রিঅ্যাক্ট পেতে কার না ভালো লাগে। ঘোরা, আড্ডা কিংবা খাওয়া, ফেসবুকে ছবি আপলোড না করলে যেন সবকিছুই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিংবা ফেসবুক ছাড়া যোগাযোগ, ভাবা বড় দায়। অস্ট্রিয়ার মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা সাজিয়াগ্লো ও টোবিয়াস গ্রেটামেয়ার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ে চালানো জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুক মানুষকে একা করে দেয়। ব্যবহারকারীদের মন-মেজাজ খারাপসহ তারা একাকিত্ব, পরশ্রীকাতরতা ও অতৃপ্তিতে ভোগে। ভাবো, ফ্রেন্ড লিস্টের কেউ হয়তো ঘুরতে গেল, কিংবা নতুন পোশাক পরে ছবি, কেউ হয়তো অনেক শপিং করল। এসব দেখে একটু কি আফসোস হয় না, ইসসস, যদি আমিও পারতাম। এতটুকু আফসোস থেকেই পরবর্তী সময়ে তৈরি হতে পারে হীনমন্যতা। যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী জিন টুয়েনজ ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় উঠে এসেছে, সব ধরনের পরিবেশ থেকে বেড়ে ওঠা তরুণদের মধ্যেই বেড়েছে হতাশা, আত্মহত্যার চেষ্টা ও আত্মহত্যার প্রবণতা। সব সম্ভাব্য ঝুঁকির অন্যতম কারণ স্মার্টফোন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের শেষের দিকে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় আর ঠিক এ সময়েই তরুণদের মধ্যে হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। কিন্তু তাই বলে কি স্মার্টফোন চালানো ছেড়ে দেবে? অবশ্যই না। তবে তা যেন তোমার আসক্তির কারণ না হয়।

বিখ্যাতরাও ব্যতিক্রম নয়
মূল্যবোধ, সচেতনতা, নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, স্বাধীনচেতা মনোভাব, আত্মনির্ভরশীলতার মতো ইতিবাচক বিষয়গুলো আসে এ বয়সেই। সেই সঙ্গে থাকে সমবয়সীদের সঙ্গে প্রগাঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা, ব্যক্তিসত্তার দ্ব›েদ্বর মতো জটিল বিষয়। ১৯ বছরের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে জটিলতা থাকে অনেক। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এই বয়সে প্রথমবার নগ্ন হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফটোগ্রাফার মার্সেল ইন্ডিকের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছিলেন। শিল্পের দাবি মেনে এমন সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণে জোলির অকপটতাই তাকে পরবর্তী সময়ে এনে দিয়েছিল সফলতা। যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা ভারতীয় বংশোদ্ভ‚ত অক্ষয় ১৯ বছরেই ব্রিটেনে কম বয়সী কোটিপতিদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। জমি বেচাকেনায় মানুষকে সহায়তাবিষয়ক অনলাইন ব্যবসা ‘ডোরস্টেপস’ চালিয়ে ছিনিয়ে এনেছেন সফলতা। আবার এই বয়সেই ধর্ষণের মতো নির্মমতার শিকার হয়েছেন বিখ্যাত পপস্টার লেডি গাগা। দীর্ঘদিন ভুগেছেন পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে। কিন্তু বন্ধু ও পরিবারের সমর্থন, চিকিৎসকদের প্রেরণা ও নিজের প্রতি বিশ্বাসই তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করে।

নিজের যত্ন নিচ্ছো তো?
পরিবার থেকে দূরে থাকার ফলে খাওয়াদাওয়ার প্রতি খুব একটা আকর্ষণ থাকে না এই বয়সীদের। অন্যথায় উনিশ-কুড়ির খাবার মানেই যেন ফাস্ট ফুড। ফাস্ট ফুড খেতে দারুণ হলেও এটি ব্রণ, শুষ্কতা, অ্যালার্জির মতো ত্বকের সমস্যার সৃষ্টি করে। ত্বকের সতেজতা ও ঔজ্জল্য কমে যায়। স্থ‚লতার অন্যতম কারণ ফাস্ট ফুড। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অথচ এ বয়সেই ক্যালরি ও প্রেটিনের চাহিদা বেড়ে যায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ও লৌহযুক্ত খাবার প্রয়োজন। তাই খাবার তালিকায় ফাস্ট ফুড প্রথম পছন্দ হিসেবে জায়গা করে নিলেও শাকসবজি, দুধ, ডিম, কলিজা, মাংস, টক, ডাল লেবু ও ফল রাখতে হবে নিজের জন্য।

‘ভাল্লাগে না কিছু’
এ বয়সে অভিমান বলে কথা, সেই যেন হয় মনের রাজা, সদ্য কৈশোর পার করা অভিমানী মনে বাবা-মা কিংবা প্রিয়জনদের প্রতি সৃষ্টি হয় রাগ আর ক্ষোভ। কিন্তু মনে রাখতে হবে দিন শেষে তারাই শুভাকাঙ্ক্ষী, আপনজন, বিপদে মাথায় হাত রাখার নির্ভরতা, মমতা, ভালোবাসা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বয়সে ৪ থেকে ৫ শতাংশই বিষণ্নতায় ভোগে। হরমোনাল পরিবর্তনের কারণেই হয় এই বিষণ্নতা। সবকিছুতেই সৃষ্টি হয় বিরক্তভাব, সমস্যাগুলো মন খুলে বলতে পারে না, কিংবা সমালোচনা সহজভাবে নিতে পারে না, কথায় কথায় রাগান্বিত হয়ে যাওয়া, পরিবার ও বন্ধুদের কোনো পরামর্শ না শোনার মতো বিষয়গুলোর উদয়ও হয় এই বয়সে। হঠাৎ করেই পরিবর্তন হয় খাবার ও ঘুমের অভ্যাস। ব্যায়াম, ধ্যান, পরিবারকে সময় দেওয়া, নিজের শখের ও পছন্দের বিষয়গুলোর যত্ন নেওয়াই পারে এই পরিস্থিতি কাটাতে।

বয়সের দোষ!
এই বয়সীরা পোশাক নিয়েও পড়ে নতুন বিড়ম্বনায়। তোমার পছন্দ জিনস-ফতুয়া কিংবা পাশ্চাত্য ঢঙের পোশাক। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে যেন শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজ না পরলেই নয়। অন্যদিকে নিজের পছন্দের পোশাক পরে খেতে হয় বড়দের বকা। এ ক্ষেত্রে নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি চিরায়ত সংস্কৃতির কথা ভাবলে খারাপ হয় কি? পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস, ফাল্গুন কিংবা উৎসবে ও বাঙালির আত্মার সঙ্গে মিশে থাকে পোশাকের প্রাধান্য। কিন্তু এ মন যে প্রথা ভাঙার, নিজের পছন্দকে স্বীকৃতি দেওয়ার, তাই মন যা বলে, নিজে যা পরে স্বস্তিবোধ করো তাতেই তুমি হয়ে উঠবে অনন্য। এ বয়সেরও তো একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে বৈকি। মেয়েদের ক্ষেত্রে পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে হয় ছেলেবন্ধু নিয়ে সমালোচনা। মেয়েদের এই মানায় না, ওই মানায় না, কত-কী? কিন্তু লৈঙ্গিক সমতা আর উদারতায় বিশ্বাসী তারুণ্য কি আর এ কথা মানে। বন্ধুত্বের আবার ছেলেমেয়ে কী? মন তো তাই বলে। তবে ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতাই আনবে সমৃদ্ধি। ইউরিপিদিস কি এমনি এমনি বলেছিলেন ‘একজন বিশ্বস্তবন্ধু ১০ হাজার আত্মীয়ের সমান।’

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × 5 =