“ভালো পাত্রী” চাই!

করেছে Sabiha Zaman

রোদেলা নীলা:  চব্বিশতম বিসিএস সরকারি কর্মকর্তা বন্ধুর বাসার ড্রয়িংরুমে যখন কিশোরী একটি মেয়ে চায়ের ট্রে হাতে পাশে বসে বলেছিল, আসসালামু আলাইকুম আপা, নিন চা নিন। তখন চমকে গিয়ে মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? মেয়েটি যেন লাজুক লতার চেয়েও তিন গুণ লজ্জায় নিজের মুখ ঢেকেছিল শাড়ির আঁচলে। আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধু হই হই করে উঠেছিল, ওর আর পড়ার দরকার কী; এসএসসি পাস করেছে; অনেক হয়েছে। আমার দিকে কাপ এগিয়ে দিয়ে বন্ধু হেসে বলল, নে চা নে, তোর ভাবি দারুণ চা বানায়। আমি মোটামুটি ৮ রিখটার স্কেলে ধাক্কা খেলাম, এই যে পাশে নরম-শরম মেয়েটা বসে আছে, সে আমার চল্লিশোর্ধ্ব বন্ধুর বউ; তাকে আমি বন্ধুর ছোট বোন ভেবে বিরাট একটা ভুল করেছিলাম। অসম বয়সী বিয়ে করা যাবে না এমন কোনো আইন নেই, কিন্তু জেনারেশন গ্যাপ বলে যে একটা শব্দ আছে, সেটা তো বৈবাহিক সম্পর্কে দারুণ দরকারী সেটা অনেকেই ভুলে যায়।

আমার মতো বোকা হয়তো জীবনে কমবেশি অনেকেই হয়েছে, একবার পার্কে হাঁটতে গিয়ে একজন বয়স্ক লোকের ঘাড় জড়িয়ে কিশোরী মেয়েকে দেখে বলেই ফেলেছিলাম, আপনার নাতনি কিন্তু দেখতে বেশ, পেছন থেকে আমার স্বামী থামিয়ে দিয়েছিল আরে, চোখের মাথা খেয়েছ নাকি, ওটা বুড়ার বউ। সত্যি আমি আজকাল চোখের মাথা খেয়ে বসে আছি; আমি জানি বিয়ে করতে হয় দুজন নর-নারীর বয়সের ভারসাম্য এবং মানসিক মিল কতটা হবে তার ওপর নির্ভর করে। বিয়ে করে ফেলাটাই কেবল উদ্দেশ্য থাকার কথা নয়, কলহকে জয় করে ঠিকঠাক সংসার করা আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

বিয়ে নিয়ে বিখ্যাত মানুষের দুটো উক্তি
বিয়ের সময় বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে ভুলো না, অন্তরের সৌন্দর্যের সন্ধান নাও আর বি ল্যান্ডাস

সুখী সেই ব্যক্তি, যিনি তার স্ত্রীর মধ্যে একজন সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে পান
ফ্রাঞ্জ শুবার্ট

এই একবিংশ শতাব্দীতে তো অসম বয়সী জোড়া আশা করাই যায় না, যেখানে ঘরে বসে আজকাল মনের মতো সঙ্গী খোঁজা খুব সহজ। অনলাইনের বদৌলতে দেশে বসে শিক্ষিত ছেলেরা উন্নত বিশ্ব থেকে মনের মতো পাত্রী নিয়ে আসছে। বিয়ের জন্য পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন পড়লে মনে হয় না ভেতরের সৌন্দর্যকে পাত্রপক্ষ প্রাধান্য দিচ্ছে, সারাক্ষণ সুন্দরী মেয়ে খোঁজার যে প্রবণতা দেখা যায়, তাতে ভালো মনের মেয়েরা হারিয়ে যাচ্ছে।

ছবি-রেড, মেকওভার বাই আফরোজা সোমা

যদি নিজের চাওয়াটা হয় এমন নিচু মনের, তাহলে বিজ্ঞাপনের পয়সা দিয়ে কেবল ঘরের আসবাবের মতো একটি বউ পাওয়া সম্ভব, উপযুক্ত সঙ্গী নয়। দেখা যাক, অধিকাংশ বিজ্ঞাপনদাতা কী চান-

পাত্রী চাই অ্যাঞ্জেলিনা

পত্রিকার পাতা ওলটালে বেশ চটকদার বিজ্ঞাপন এখনো আমাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। এসব পাত্রের পরিবারেরা আসলে ছেলের জন্য জীবনসঙ্গী খোঁজেন নাকি ঘরের শোভাবর্ধনের জন্য জিনিস খোঁজেন, সে প্রশ্ন আমার মনে সব সময়।

নমুনা ১-
ঢাকায় নিজস্ব বাড়ি-গাড়ি, বিদেশে পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক, ২৬ বছর, ৫’৯” ‘সুদর্শন’ পাত্রের জন্য ‘ঢাকায় বসবাসকারী’ পর্দানশীন ৫’৩” ঊর্ধ্ব উচ্চতার ‘প্রকৃত’ সুন্দরী পাত্রী চাই। কী মনে হচ্ছে? বিয়ের পাত্রীর খোঁজ, নাকি দোকানে গিয়ে সর্বোচ্চ দামে ভালো ‘পণ্য’টা কেনার প্রচেষ্টা? ‘প্রকৃত সুন্দরী’টা কী বস্তু?

নমুনা ২-
বিদেশি হাউজিং কোম্পানির সিইও, এমবিএ, ঢাকায় বসবাসরত সুদর্শন পাত্রের জন্য আর্কিটেক্ট/ইঞ্জিনিয়ারিং/এমবিএ অধ্যয়নরতা ঢাকায় সেটেল্ড, ‘লম্বা, সুন্দরী’ পাত্রী আবশ্যক।

বাঙালি ছেলেরা বউ খুঁজতে গেলে সব সময় অ্যাঞ্জেলিনা জোলি খোঁজে, সমস্যা হলো নিজে যে তারা ব্র্যাড পিট না সেটা মনে রাখে না। আবার এই অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ঘরে নিয়ে বোরখা পরিয়ে রাখে; বড়ই বিচিত্র এদের মন।

পাত্রী হবে পর্দানশীল

ইদানীং মাথা প্যাঁচানো হিজাবি পাত্রীর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সত্তর দশকে বাংলাদেশে শহরের মেয়েরা যতটা মুক্তমনের সাধারণ জীবন যাপন করত; আজ আর তেমন দেখা যায় না। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে অফিস পাড়াতেও হিজাবি মেয়ের সংখ্যা অনেক। হিজাব মানে কেবল বোরখা পরে পর্দা করা নয় কিন্তু; বেশ আকর্ষণীয় কাপড়ে নিজের অবয়ব ঢেকে রাখা; আর এই পোশাকের প্রতি একটা বাড়তি আগ্রহ লক্ষ করা যায় যুবক-যুবতীদের। বিজ্ঞাপনের অনেকটা জুড়ে থাকে পাত্রীকে পর্দানশীল হতে হবে, নামাজি হতে হবে, বিষয়টা এমন যে পর্দানশীল বা নামাজি হলেই যেন পাত্রের সঙ্গে সে মৃত্যু অব্দি সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। একজন খোলামেলা উন্নত-মিশুক মনের মেয়ের চেয়ে পর্দানশীল অনেক ক্ষেত্রে সংকীর্ণমনা মেয়েটির চাহিদা বাজারে এখন অনেক বেশি। দূর থেকে বোরখা পরা একটা মেয়েকে দেখে আমাদের মধ্যে যে ধরনের শ্রদ্ধাবোধ জেগে ওঠে, সেই একই মেয়ে যদি সাধারণ পোশাকে বের হয়, সেই অনুভূতি মানুষের মধ্যে কাজ করে না।

সুন্দরী পাত্রী আবশ্যক

এই একটি বিশেষণ একজন নারীর যোগ্যতা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়; সুন্দরী আবার তার পাশে লেখা থাকে শিক্ষিতা, তার মানে ডাবল যোগ্যতা। পড়তে পড়তে মাথার চুল ফেলে দিলেও মেয়েটিকে সুন্দরী হতেই হবে নয়তো বাজারে যোগ্য বর পাওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় কম শিক্ষিত মেয়েরাই এগিয়ে থাকে, তাদের পড়ালেখা কম, মাথাভর্তি গোছা গোছা চুল, চোখের নিচে কালি পড়েনি এবং চোখে মোটা চশমাও দিতে হচ্ছে না। অতএব মেয়ে তো মহা সুন্দরী, এর মগজে বুদ্ধি যতই কম থাকুক; ঠিকঠাক আত্মীয়স্বজনের সামনে বসিয়ে রাখা যাবে। আর অনেক শিক্ষিত পুরুষদের ধারণা বউ কম শিক্ষিত হলে ভালো; বুঝবে কম, প্রশ্ন করবে কম, তাই বৈবাহিক জীবনে ঝামেলাও কম।

বড়লোকের কন্যা চাই

পাত্রী খোঁজার সময় এই যোগ্যতাটা অনেক সময় প্রকাশ্যে খুব বেশি আনা হয় না; কিন্তু ভেতরে ভেতরে ছেলেরা বউ সার্চ করার সময় দেখে নেয় মেয়েটির বাবার ঢাকায় নিজস্ব বাড়ি আছে কি না। কারণ, চাকরি করে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া দিয়ে বাচ্চাদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানোর মতো আর্থিক সংগতি অনেকেরই হয় না। তাই নিজের বাড়ি কোনো এক অজপাড়াগাঁয়ে হলেও বউটির বাড়ি যদি ঢাকায় হয় তবে তো সুখ আর সুখ, বাসা ভাড়ার বাড়তি টাকাটা আর খরচ করতে হলো না। তাই তো ঢাকায় নিজস্ব (পিতার) বাড়ি পাত্রীদের একটা আলাদা যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয় সমাজে।

 

ছবি-রেড, মেকওভার বাই আফরোজা সোমা

এই এত্তো এত্তো যোগ্যতার ভিড়ে মনের মতো একটি সঙ্গী খোঁজা ব্যাপারটা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। জীবনচলার পথে দরকার একজন সহনশীল, ধৈর্যশীল, ভালো মনের স্ত্রী সেটা কোনোভাবেই কোনো বিজ্ঞাপনে আজ অব্দি আসেনি কিংবা এসে থাকলেও তেমন করে পাত্রের পরিবারকে টানতে পারেনি। বিয়ে তো আর এক-দুই দিনের ব্যাপার নয়, সারা জীবন একই ছাদের নিচে থেকে দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়। তাই নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যে প্রাধান্য না দিয়ে ভেতরের গুণটাকে যাচাই করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমান পাত্রের কাজ। তবে এখন সময় এসেছে পাত্রীকেও জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের। তাই পাত্রী বাছাই না করে একজন ভালো মানুষ বাছাই করতে হবে জীবনের জন্য, অনেকে গায়ের রংটাও অনেক বেশি প্রধান্য দিয়ে থাকে কিন্তু রং দিয়ে কিবা যায় আসে। মানুষটার মনটাই যদি কালো হয়। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে কিছু ইতিবাচক চিন্তা করতেই পারি-

জাতের মেয়ে কালো ভালো

কালোর প্রতি আমাদের অবহেলা চিরদিনের; ফরসা মেয়ে দেখলেই আমাদের আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তার পরিবারের কে কী করে, তারা কোথা থেকে উঠে এসেছে এ বিষয়গুলো কোনোভাবেই প্রাধান্য পায় না। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে দুই পরিবারের সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানা একটি প্রাচীন প্রথা এবং আমি বিশ্বাস করি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি রীতি। মেয়েটি হিন্দুর ঘরে জন্মেছে নাকি মুসলিম ঘরে জন্মেছে, সেটা জানার চেয়ে বেশি দরকার মেয়েটি কী শিক্ষায় বড় হয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবারের কন্যাসন্তান বেশ আদবকায়দা শিখে বড় হয়, তার ছোটবেলার শিক্ষা তাকে আলোকিত করে পরিণত বয়সে। একটি নম্রভদ্র ব্যবহারের মেয়ে যদি অসুন্দরীও হয়, তার কাছ থেকে তার ভবিষ্যৎ সন্তানেরা সুস্থ ব্যবহার শিখবে আর অবশ্যই দাম্পত্যজীবনে এমন মেয়ে একটি ছেলেকে শান্তি দিতে সক্ষম হবে।

শিক্ষিত নারী শিক্ষিত জাতি

নেপোলিয়ানের সেই বিখ্যাত বাণীটি আজ বলতে ইচ্ছা করছে ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ বিয়ে করার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য যদি হয় সন্তানের বাবা হতে চাওয়া, অবশ্যই সে ক্ষেত্রে একজন শিক্ষিত মেয়েকেই ঘরে আনাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মেয়েটি যেমন বাইরে কাজ করে পয়সা উপার্জন করবে, তেমনভাবে সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়া করাতে পারবে। অনেক শিক্ষিত ছেলে ভাবে; মেয়েরা বাইরে কাজ করলে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কিন্তু এটা কি একবার ভেবে দেখেছেন; পরিবারের কর্তাব্যক্তিটির যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তিনি পঙ্গু হয়ে গেলেন বা মারা গেলেন, তাহলে তার অবর্তমানে তার সংসারের দায়িত্ব কে নেবে? তাই শিক্ষিত স্ত্রী হচ্ছে পরিবারের একটি সম্পদ, যিনি ইচ্ছা করলেই যেকোনো অফিসে কাজ পেয়ে যেতে পারবেন, যে কোনো সময় এবং সংসারের দায়িত্ব নিতে পারবেন।

ধৈর্যশীল এবং সহনশীলতা অন্যতম গুণ

শুধু পাত্রীদের ক্ষেত্রে নয়, সংসার সুখী করার জন্য পাত্র-পাত্রী দুজনকেই যথেষ্ট ধৈর্য ও সহনশীল হওয়াটা দরকার। জীবনে ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই থাকবে, আর এই সবকিছুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়াই একজন সহনশীল মানুষের কাজ। বিয়ের বাজারে কেউ যদি এমন বিজ্ঞাপন দেয় যে একজন ধৈর্যশীলা পাত্রী আবশ্যক, তাহলে হয়তো পাত্রীর লম্বা লাইন কিছু হলেও খাটো হবে, তাতে ক্ষতি নেই, দাম্পত্যজীবনকে সফল করতে চাইলে লিস্টটা শর্ট করে নিয়ে মনটা ব্রড করা ভালো।

স্ত্রী নয় বন্ধু খুঁজুন

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি করাটা খুব জরুরি, সে জন্য কাছাকাছি বয়স হলে দুজনের মধ্যে শেয়ারিংয়ের জায়গাটা আরও ব্যাপক হয়। নিজেকে লিডারের জায়গায় বসিয়ে ওয়াইফকে ডোমিনেট করার মধ্যে সাময়িক তৃপ্তি লাভ করলেও দীর্ঘ সময়ে সে সম্পর্কটা তেতো হয়ে যায়। মানুষমাত্রই স্বাধীন চিন্তার, সবাই নিজ নিজ জায়গায় স্বতন্ত্র থাকতেই বেশি পছন্দ করে, তাই তো জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যেন সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যায় এবং সেটা বোঝার মতো পরিপক্ব ম্যাচিউরিটি যেন তার থাকে এমন একজন পাত্রীর সন্ধান করাই শ্রেয়।’Happy is the man who finds a true friend, and far happier is he who finds that true friend in his wife.’—Franz Schubert

মানুষ যখন বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন কেউই চায় না এত পয়সা খরচ করে লোক জানিয়ে ধুমধাম করে সেই বিয়েটা ভেঙে যাক। সবাই চায় সংসারী হতে; প্রিয় মানুষটির হাতে হাত রেখে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করতে। বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি, তাই দুই পরিবারের মধ্যে চুক্তিটা পাকাপোক্ত না হলে সম্পর্কটা শক্ত করা মুশকিল। চাওয়াটা যদি হয় এতটাই প্রশস্ত তাহলে চাওয়ার পন্থাটা যেন না হয় সংকীর্ণ; পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেবার ব্যাপারে নিজেদের অন্ধকার মনের পরিচয় দিলে কখনোই একজন উপযুক্ত পাত্রী পাওয়া যাবে না। মানুষের জন্য মানুষ দরকার, জাহির করে পণ্য কেনা বন্ধ করতে হবে। এমন বস্তাপচা বিশেষণ; সুন্দরী পর্দানশীল পাত্রী না খুঁজে ধৈর্যশীল ভালো মনের পাত্রী খোঁজা হোক একবিংশ শতাব্দীর পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন।
‘প্রকৃত’ সুন্দরী নয়, একজন ‘প্রকৃত’ ভালো নারী পারে তার সংসারে যত ঝড়ই নেমে আসুক না কেন কান্ডারি হয়ে সেটাকে প্রতিহত করতে। একটি আদর্শ পরিবার গড়তে এমন কান্ডারি আমাদের দরকার।

ছেলেরাও কম যায় না 

বিয়ের জন্য পাত্র পক্ষের কনে খোঁজার ব্যাপারে যেমন হাজার খানেক শর্ত থাকে , তেমন করে পাত্রী পক্ষও কিন্তু বিরাট ফিরিস্তি নিয়ে বসেন ।পাত্র অবশ্যই লম্বা হতে হবে ,ঢাকায় বাড়ি থাকতে হবে , পাত্রের পেট মোটা থাকা যাবে না অথবা মাথায় টাক যেন না থাকে ; এ ক্ষেত্রে কন্যাটি যতোই বেটে হোক । এই এতো এতো চাহিদার ভিড়ে পাত্রের মানুষ হিসেবে যে যোগ্যতা টুকু থাকতে পারে তা একেবারেই ম্লান হয়ে যায় । ব্যাপার যেন এমন বিয়ের পর মেয়েটি সংসার করবে একজন সুদর্শন নায়ক গোছের কারো সাথে প্রাসাদ সমতূল্য বাড়িতে ।
কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন ,দেখতে যতো সুশ্রি হোক ,মানুষ হিসেবে পাত্র যদি সৎ না হন পরিশ্রমী না হন তবেতো সংসার টিকিয়ে রাখাই মুশকিল । মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে কী আর আজীবন একী ছাদের নিচে থাকা সম্ভব ! এর বাইরেও পাত্রী পক্ষের চাহিদা বাড়তে থাকে যৌথ পরিবারে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে না । আচ্ছা ,যে ছেলের বাবা মা তাকে এতো দূর লেখা পড়া করিয়ে বড় করলো তার ওপর কী সেই ছেলের বাবা মা’র অধিকার নেই ? নাকি সন্তান হিসেবে কোন দায়িত্ব নেই তার ? ছেলে কী মেয়ে ,সব সন্তানই সব বাবা মায়ের কাছে প্রিয়; কেও নিশ্চই চাইবে না তার নিজের সন্তানকে আলাদা করে রাখতে । বিয়ের পরে মেয়েরা স্বামীর বাড়ি যাবে এটা একটা প্রথা ,তাই বলে কোথাও লেখা থাকে না সেখানে মেয়ের বাবা বা মা থাকতে পারবে না । বরং বড় পরিবারে নতুন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার মনটা আরো বেশী ব্যাপক হবে । তাইতো দুই পরিবার পাশাপাশি অবস্থান করতে পারলে ভালো ; যদি সম্ভব হয় ।
এখন সময় এসেছে পুরনো মিথ ভেঙ্গে নতুন করে পরিবার গঠন করবার ,নতুন ভাবে চিন্তা করলে সমাজ থেকে বিয়ে নিয়ে ভীতি অন্তত কমে আসবে ।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 × 3 =