ভালো লাগে না একই খাবার

করেছে Sabiha Zaman

ওই তো প্রতিদিন ডিম, খিচুড়ি আর সেরেলাক। বাড়ির কনিষ্ঠ সদস্যের চোখমুখের কোঁচকানো ভাব দেখলেই বোঝা যায় সে আর ওসবে নেই। এখর দরকার মজাদার খাবার। এই প্রাতে বাবা-মাকেও একটু কৌশলী না হয়ে উপায় নেই। যদি ডিমটাকেই একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করা যায় সন্তানের সামনে, তাহলে হয়তো সোনামণির চোখে একটু হলেও আলোর ঝলকানির দেখা মিলতে পারে। লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন।

রংবেরঙের খাবার : শিশুরা উজ্জ্বল রং পছন্দ করে। তাই খাবারের ক্ষেত্রেও উজ্জ্বল রং তাদের আকৃষ্ট করবে। খাবারে রঙিন সবজি ও ফলের ব্যবহার খাবার আকর্ষণীয় করে তুলবে। আর বিভিন্ন ফল ও সবজির ব্যবহারে শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাবে, যা স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

আকর্ষণীয় পরিবেশনা : সুন্দরভাবে পরিবেশিত খাবারের প্রতি আগ্রহ সবারই বেশি থাকে। সুন্দরভাবে কেটে এবং সাজিয়ে শিশুদের সামনে খাবার পরিবেশন করা হলে তারা খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। খাবার বাছাই এবং সাজাতে শিশুর মতামত নিলে ভালো। খাবার বাছাই এবং সাজানোর সময় শিশুর মতামত নিতে পারো। বাড়ন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তারা কী ধরনের খাবার পছন্দ করবে এবং তা কীভাবে পরিবেশন করা হলে তারা খেতে আগ্রহী হবে, এসব বিষয়ে মতামত নেওয়া যেতে পারে। এতে তারা নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

নানা সাইজে সাজিয়ে : শিশুরা একই ধরনের খাবার খেতে চায় না। তাই বিভিন্ন আকৃতিতে কেটে খাবার সাজিয়ে পরিবেশন করলে তা খেতে আগ্রহ পাবে শিশুরা। সবজি, ফল, পনির, ডিম ইত্যাদি তারা, স্মাইলি ইত্যাদি মজাদার আকারে কেটে সাজিয়ে শিশুদের সামনে পরিবেশন করা যেতে পারে।

নামকরণে নতুনত্ব : খাবারের প্রচলিত নাম শুনলে শিশুরা নাক সিটকাতে পারে। তাই তাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে শিশুদের পছন্দসই নামকরণ করে। ফলে তাদের মনে হবে খাবারটি নতুন কোনো খাবার। ফলে তারা খেতে আগ্রহী হবে।

মেনু পরিবর্তন : শিশুকে এক খাবার প্রতিদিন দেবে না। যেমন রোজ ডিম সেদ্ধ না দিয়ে ডিমের তৈরি নানা জিনিস যেমন পুডিং, জর্দা ইত্যাদি দিতে পারো। দুধের ক্ষেত্রেও তাই। পুডিং, সেমাই বা পায়েসে প্রচুর দুধ থাকে, সেটাই দাও। ফল খেতে না চাইলে কাস্টার্ড করে দাও।

পরিবেশন পাত্র : অনেক সময় খাবার পরিবেশনেও ভিন্নতা আনলে কাজ হয়। রঙিন পাত্রে খাবার পরিবেশন করো। টেবিলকে করো সুন্দর ও আকর্ষণীয়। টিভি দেখা কমিয়ে পর্যাপ্ত খেলার ব্যবস্থা করো, এতে খিদে বাড়বে।

একসঙ্গে খাওয়া : সচরাচর এটাই দেখা গেছে, শিশু যদি একা খায়, তাহলে সে খুব বেশি খেতে চায় না। কিন্তু যদি সপরিবার বসে একসঙ্গে খায়, তাহলে খেতে উৎসাহ পাবে। তাই দুপুরের খাবার বা রাতের খাবার সবাই একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করো।

পরিবেশ তৈরি : শিশু যদি খুব অন্যমনস্ক থাকে, তাহলে খিদে নষ্ট হয়ে যায়। তোমার শিশুর বন্ধুরা সবাই বাইরে খেলাধুলা করছে, আর তুমি জোর করে বাড়ির মধ্যে রেখে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছ, তাহলে কিন্তু তোমার শিশুটি একেবারেই খেতে চাইবে না।

জোর করে নয় : খাবার নিয়ে জোর করবে না। শিশুকে নিজের হাতে খেতে অভ্যস্ত করে তোলো। খাবার প্রস্তুত, বাজার বা পরিবেশনে সম্ভব হলে তাকে সঙ্গে রাখো। তার পছন্দমতো মাছ, মাংস বা সবজি কিনো। এতে খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়বে।

ওজন বুঝে : সন্তান ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না, তা-ও নজরে রাখতে হবে। যদি দেখা যায় যে বাচ্চা সমবয়সীদের মতোই বাড়ছে, ওজনও ঠিক আছে; তাহলে বুঝতে হবে তার শরীরে পুষ্টির কোনো ঘাটতি নেই, অর্থাৎ তোমার শিশুর খাওয়াদাওয়া স্বাভাবিকই আছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায়, বাচ্চার ওজন বয়সের তুলনায় বেশি অথচ মা-বাবার অভিযোগ শিশুটি একদমই খায় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মা-বাবাকে বুঝতে হবে যে শিশু যদি ঠিকঠাক না খেত, তাহলে তার ওজন বেশি হতো না। আর এরপর যদি জোর করে শিশুটিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা শিশুটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিকল্প খাবার : শিশুদের একদম অল্প বয়স থেকে এক বা একাধিক স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প থেকে নিজের পছন্দমতো খাবারটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এটি তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরিতে সাহায্য করবে। এটি শিশুদের কোনো খাবার খেতে অস্বীকার করার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সেই সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন খাবারে নতুনত্ব আনলে তা শিশুকে সহজে খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

শিশু মডেল: ইয়োশা কবির প্রসন্না

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four × one =