ভিডিও গেমসের উপকারিতা

করেছে Sabiha Zaman

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর খেলাধুলা মানেই মাঠে যাওয়া নয়। গোটা স্টেডিয়াম ধরা দিচ্ছে আমাদের ডিজিটাল গ্যাজেটের স্ক্রিনে। কয়েক কোটি ভিডিও গেমসের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া এখন অনেক সহজ। ভিডিও গেমস নিয়ে তৈরি হয়েছে পক্ষ-বিপক্ষ। আজকের রোদসীর আয়োজনে থাকছে গেমসের কিছু পজেটিভ দিক নিয়ে । লিখেছেন সাবিহা জামান

গেমসের উপকারিতা

ভিডিও গেমসের আসক্তির বিষয়টি কারোরই অজানা নয়। আসক্তি কোনো জিনিসেরই ভালো নয়, কিন্তু ভিডিও গেমস খেলারও যে কিছু ভালো দিক আছে, সেটা জানা আছে কি? গেমসের কিছু উপকারিতাও রয়েছে। অবাক লাগলেও সত্যি, গেমসের বিভিন্ন উপকারী দিক রয়েছে, যার পজিটিভ প্রভাব আমাদের জীবনে পড়ে।

স্ট্রেস কমাতে গেমস
বাসার কাজ, অফিসের কাজ মিলিয়ে আমরা অনেকেই মানসিক চাপের ভেতর দিয়ে যাই। রোজকার জীবনের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে মুক্তি দিতে গেমস কিন্তু বেশ কার্যকর। আমরা যখন গেমস খেলি, আমাদের মস্তিষ্ক ব্যস্ত হয়ে পড়ে গেমস জেতার জন্য। আর জিতে গেলে আমাদের স্ট্রেস অনেকটাই কমে আসে। তবে না জিতলেও গেমসের আনন্দে আমরা অনেকটাই রিল্যাক্স বোধ করি।

প্রবলেম সলভিং স্কিল
সমস্যা সমাধান করা কিন্তু অসাধারণ একটি দক্ষতা। এখন তো বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রবলেম সলভ করার স্কিল চাওয়া হয়। গেমস খেলা কিন্তু আমাদের সমস্যা সমাধান কৌশল শিখতে খুব ভালো কাজে আসে। কারণ, বেশির ভাগ গেমসেই প্রতি পদক্ষেপে নিজেকে সাবধানে থেকে একেকটি পদক্ষেপ নিতে হয়। এতে করে তুমি একসময় সহজেই কোন সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটি আয়ত্তে আনতে পারো।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গেমস
ঘরের কাজ থেকে শুরু করে অঙ্কের ফর্মুলা মনে রাখতে না পারলে সবটাই ফলাফল শূন্য। বাচ্চা থেকে প্রবীণ মনে না রাখতে পারার সমস্যা আমাদের বেশ ভোগায়। একটু গেমস নিয়ে বসলে কিন্তু একটা সমাধান আসতে পারে। গেমস খেলার ফলে অনেক কিছু মনে রাখতে হয় গেমস-সংক্রান্ত। এতে করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বেশ সাহায্য করে।

একাকিত্ব দূর করে
গেমস খেলে একাকিত্ব দূর করা সম্ভব। অনেকেই আছে, যারা একা থাকতে পারে না, একা থাকলে তারা হাঁপিয়ে ওঠে। নানান দুশ্চিন্তা ডালপালা মেলতে থাকে তাদের মনে। একাকিত্ব দূর করতে গেমস খেলা কিন্তু চমৎকার কাজ করে। আমাদের মস্তিষ্ক ব্যস্ত হয়ে যায় আর আমরা একাকিত্ব অনুভব করার সুযোগ পাই না।

ভালো-খারাপ দুটি বিষয় নিয়েই জীবন। মন্দের সঙ্গেই ভালোর বাস। গেমস খেলার যত উপকারী থাকুক না কেন, এতে আসক্ত হওয়া যাবে না। যেকোনো আসক্তিই জীবনে ডেকে আনে বিপদ। আমরা অনেকেই বাচ্চাদের মন ভোলাতে তাদের গেমস খেলতে দিই। এদিকে লক্ষ রাখতে হবে তারা আসক্ত হয়ে পড়ছে কি না। পরিবার আর নিজের সচেতনতা থেকেই আমরা গেমসের মতো ভয়াবহ আসক্তি থেকে দূরে থাকতে পারি। ডিজিটাল স্ক্রিনের গেমসের আসক্তি থেকে মুক্ত পৃথিবীর আনন্দ অনেক দামি।

তথ্য সংগ্রহ : বিবিসি নিউজ ও জিকো লিভিং

 

 

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

11 + seventeen =