ভেজা চুলে আর নয় 

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

চুল সৌন্দর্যের অলংকার স্বরূপ। এই চুলে মুগ্ধ হয়ে কত কবি-সাহিত্যিক রচনা করে গেছেন কত কবিতা, গানের। ঘন, কালো, সোজা চুল হোক বা হোক সেটা ঢেউ খেলানো; স্বাস্থ্যজ্জ্বল এবং ঝলমলে চুল তার সৌন্দর্যের ছটা আরও বাড়িয়ে তোলে। বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়ই এখন চুলের যত্ন নিয়ে অনেক সচেতন। কিন্তু প্রায়শই সময়ের অভাবেই হোক বা আলসেমিতে ভেজা চুলে আমরা এমন অনেক কাজ করে ফেলি যেটা আদতে চুলের অনেক ক্ষতি করে ফেলে। ভেজা চুলে যা করা যাবেনা এমন কিছু ব্যাপারে জানাতেই আজকের এই আয়োজন।

ভেজা চুলে ঘুমানো কি খারাপ? ভেজা চুলে কি ব্রাশ করা যাবে? চুল ভেজা থাকা অবস্থায় কি স্ট্রেইটনার ব্যবহার করা যাবে? আমাদের চুল ভেজা থাকা অবস্থায় কীভাবে যত্ন নেয়া যায় সে সম্পর্কে এমন অনেক প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরপাক পায়। চুল স্বভাবতই ভঙ্গুর প্রকৃতির। আর ভেজা চুল তো আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, শুকনো চুল আঁচড়ালে স্বাভাবিক যে পরিমান চুল পড়ে তার তুলনায় ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল পড়ার হার অনেক বেড়ে যায়। এর মূল কারণ হল যখন চুল ভেজা থাকে, প্রতিটি কেরাটিন তৈরি করে এমন প্রোটিনগুলো দূর্বল হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করে; এমতাবস্থায় এটিকে টানা, প্রসারিত, বাঁকানো বা যেকোন ধরনের ক্রিয়াকলাপ ক্ষতির জন্য একে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলস্বরুপ চুল পড়া বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগা ফাটা, চুল ঝরা কিংবা চুল ফ্রিজি হয়ে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি এড়াতে ভেজা চুলে করা যাবেনা যেসব কাজঃ

ভেজা চুল ব্রাশ করা

অনেক সময় সময় স্বল্পতার কারণে আমাদের মধ্যে চুল ভেজা থাকা অবস্থায় তা আঁচড়িয়ে বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন ভেজা চুল আঁচড়ানোর মতো এমন ভূল করা কোনভাবেই যাবেনা। এই সময় চুল অনেক দূর্বল হয়ে থাকে এবং সেই সময় এর ড্যামেজ হওয়ার চান্স বেশি থাকে। চুল ব্রাশ করা সর্বোত্তম সময় হল যখন এটি প্রায় বা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। কিন্তু চুল ধোয়ার পরে বা সাঁতার কাটার পরে যদি জট লেগে যায় তবে এক্ষেত্রে তুমি তোমার ভেজা চুলে একটি চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতে পারো এবং পাশাপাশি এটাও নিশ্চিত করতে হবে এতে মসৃণ দাঁতের প্রান্ত রয়েছে যার দ্বারা মাথার ত্বকে জ্বালা না হয়। এছাড়াও, চুলে চিরুনি চালানোর সময় ধীর গতিতে করতে হবে।

তোয়ালে দিয়ে ঘষা

তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য তোয়ালে দিয়ে চুল জোরে জোরে ঘষা আমাদের স্বভাব। চুল হয়তো এতে দ্রুত শুকিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু বিনিময়ে এর যে ফলাফল হয় তা বেশ সুখকর হয়না। জোরে ঘর্ষণের ফলে চুলের গোড়ার দিকের কোষগুলোতে চাপ পড়ে। এমতাবস্থায় এই পদ্ধতি পরিহার করে ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে ঘষার বিপরীতে আলতোভাবে চেপে চেপে বাড়তি পানি শুকিয়ে তা বাতাসে শুকাতে হবে।

হেয়ার স্প্রের ব্যবহার

অয়েল ট্রিটমেন্ট সহ ভেজা চুলে এপ্লাই করার জন্য অনেক ভালো পণ্য রয়েছে তবে কিছু পণ্য রয়েছে যা ব্যবহার করা উচিৎ নয়। হেয়ার স্প্রে এমন একটি পণ্য যা কখনোই ভেজা চুলে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। যদিও চুল ভালোভাবে সেট করার জন্য কিছুটা স্প্রে দিতে প্রলুব্ধ হয়, তবে বাতাসে চুল শুকানোর সাথে সাথে এটি ব্যবহার করা যাবেনা। হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পেতে চুল সম্পূর্ন রূপে শুষ্ক কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভেজা অবস্থায় বাঁধা

অফিসের তাড়া কিংবা দ্রুত কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের তাড়া থাকার দরুন চুল ভেজা থাকা অবস্থায় বেঁধে নেয়ার প্রবণতা অনেক নারীর মধ্যে দেখা যায়। আবার অনেক সময় শ্যাম্পু করার পরে বা সাঁতার কাটার পরে, চুলে পনিটেইল করে রাখে অনেকেই। চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এই অভ্যাসকে জানাতে হবে বিশাল নো। ভেজা অবস্থায় চুল টেনে যখন পিছনে বাঁধা হচ্ছে, তখন এটি তার দৈর্ঘ্যের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে গোড়ার গ্রন্থিগুলোর উপর চাপ বাড়ে এবং ভঙ্গুর অবস্থা ত্বরান্বিত করে।

চুলে হিট বা আয়রন ব্যবহার করা

ফ্যাশনের এই যুগে চুলের জন্য হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার, কার্লার ইত্যাদি সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়েছে। সময় এবং শ্রম সাশ্রয়ে যেমন এগুলোর অনবদ্য অবদান রয়েছে পাশাপাশি এদের ক্ষতিকর দিকও নেহায়েত কম নয়। মাঝে মাঝে চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা গেলেও ভেজা চুলে কোন অবস্থাতেই স্ট্রেইটনার ব্যবহার করা ঠিক নয়। অনেকেই সময় স্বল্পতার দরুন আধা ভেজা চুলেই স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহারের ঝুঁকি নেয়। এতে কিন্তু চুলের কিউটিকলগুলোকে সিজল করে ক্ষতিই করা হচ্ছে।

ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো

সারাদিনের ক্লান্তিবোধ কাটাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শাওয়ার করে নিলে অনেক ফ্রেশ ফিল হয়। আর একটু খানি ভূলের কারণে এতেই ঘটে বিপত্তি। ঘুমানোর আগে গোছল তোমার টায়ার্ডনেস কমালেও ভেজা চুল নিয়ে ঘুমিয়ে গেলে ঘটবে সমস্যা। এতে চুলের দীর্ঘমায়াদী ক্ষতির সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। এতে চুল ভেঙ্গে যেতে পারে, এমনকি চুল ড্যামেজও হতে পারে। তাই একান্তই যদি সাথে সাথে ঘুমাতেই হয় তবে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে তারপর বিছানায় যাওয়া উচিৎ।

চুলের যত্নে আমরা কত কিছুই না করি। কিন্তু যদি ভেজা অবস্থায় চুলের সঠিক নিয়ম না মেনে চলি তবে সব শ্রমই পন্ডশ্রমে পরিণত হয়ে যাবে। এখন তুমি তো জানো যে ভেজা অবস্থাকে উপেক্ষা করে আমরা কিভাবে চুলের ক্ষতি করছি। টিপসগুলো মেনে চলে আমরা চুল রাখতে পারবো আরও হেলদি এবং ঝলমলে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

eighteen − 17 =