ভ্যাকেশন ম্যানেজমেন্ট

করেছে Rodoshee Magazine

ছুটি নেই নেই করেও কীভাবে যেন বছরের একটা সময় প্রায় সবারই ছুটি মিলে যায়। তবে সে ছুটি পাওয়ার পর কী করব কী করব করতে করতে পুরো ছুটিটাই মাটি হয়ে যায় অনেকের। কিংবা এমনও হয়, অনেক সময় বাড়ির বাচ্চাদের লম্বা একটা ছুটি মেলে কিন্তু বাবা-মায়ের কোনো ছুটি থাকে না। সে ক্ষেত্রে তোমার যেটা প্রয়োজন তা হলো ভ্যাকেশন ম্যানেজমেন্টের আওতায় আসা। লিখেছেন তাহমিনা সানি।

ভ্যাকেশন ম্যানেজমেন্ট। শব্দটা ভারী ভারী শোনালেও আসলে কিন্তু ব্যাপারটায় মজা আছে। খুব ভালো হয় যদি বাড়ির সবাই মিলে ছুটি কাটানোর প্ল্যান থাকে তাহলে ছুটি পর্ব শুরু হওয়ার আগেই একটু সময় নিয়ে একসঙ্গে বসা। ধাপে ধাপে শুরু করতে পারো পুরো ব্যাপারটা।

ছুটির প্ল্যানিং
বাসায় যদি স্কুলপড়–য়া বাচ্চা থাকে, তাহলে বছরান্তে কিছু নির্দিষ্ট ছুটি তো মিলেই যায়। যেমন শীতকালীন ছুটি কিংবা বছরের মাঝামাঝি গ্রীষ্মকালীন ছুটি। কলেজ বা ভার্সিটি পড়–য়া থাকলেও একেবারে ছুটি না থাকলেও সেমিস্টার ব্রেকে এক ছোট্ট ছুটি মিলেই যায়। তাই কর্মজীবী বাবা-মা হয়ে থাকলে সন্তানের সঙ্গে নিজের ছুটি মিলানোর চেষ্টা করো। এ ক্ষেত্রে তুমি তোমার অফিসের প্রাপ্য ছুটিগুলো জমিয়ে রাখো। পরে সন্তানের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে ছুটি নিয়ে নাও। আর কোনো দিন যাবে কীভাবে ফিরবে, যাত্রাপথে কেমন সময় যাবে সেটাও ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে নিতে পারো। তাহলে চমৎকার ছুটি উপভোগ শেষে তুমি নির্ঝঞ্ঝাটে কর্মস্থলে ফিরতে পারবে।

কোথায় কোথায় যাওয়া যায়
বেড়ানোর সময় একবার গন্তব্যে পৌঁছে গেলে তখন কোথায় যাবে, সে চিন্তা করতে যাবে না যেন। সময়ের অপচয় তো হবেই। শেষে দুশ্চিন্তায় পেয়ে বসলে বেড়ানোর পুরো মজাটাই মাটি! তাই কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে সে জায়গাটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নাও। জেনে নাও সেখানকার পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে। ব্যাকপ্যাক ছোট রাখলে এ ক্ষেত্রে এক্সট্রা সুবিধা পাবে। খরচান্তে প্রাইভেটে না নিয়ে ভালো মানের পাবলিক পরিবহনগুলোতেও কিন্তু ভ্রমণের মজা নিতে নিতে পারো। এটা অর্থ সাশ্রয়ী তো বটেই, অ্যাডভেঞ্চারেরও একটা অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে মোটামুটি।

থাকা এবং খাওয়া
দেশে কিংবা দেশের বাইরে যেখানেই যাও না কেন, কোথায় থাকবে এবং কোথায় খাবে এগুলো আগে থেকে জেনে রাখলে অর্থ এবং সময় দুটোই বাঁচবে। ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি থাকে, হোটেল মোটেলের ভাড়া বেশি হয়, এই জিনিসটা অবশ্যই মাথায় রাখবে। যদি সম্ভব হয় ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে গেলে অনেক কিছুতেই খরচ কমে যাবে। যারা শিক্ষার্থী তারা ফুল সিজনে বেড়াতে না গিয়ে একটু আগে বা পরে গেলে ভালো করবে। তবে একেবারে অফ সিজনে না যাওয়াই ভালো।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে
বিদেশে ট্যুরের প্ল্যান থাকলে অবশ্যই কোথায় যাবে আর থাকবে তার একটা শর্ট লিস্ট করে ফেলো। আর যেখানে থাকবে, সেখান থেকে ভ্রমণ ডেস্টিনেশনটা কতদূর সেটাও কিন্তু একটা জরুরি বিষয়। কাঁধে ঝোলানোর একটা ছোট্ট ব্যাগে জরুরি কাগজপত্র, ভিসা কার্ড, চেঞ্জড কারেন্সি এসব আলাদা করে রাখতে পারো। যেন প্রয়োজনের সময় ঝট করে পেয়ে যেতে পারো। লাগেজ একেবারে হালকা রাখার চেষ্টা কর। ক্যামেরা আর প্রয়োজনীয় গ্যাজেটগুলো দরকার হলে আলাদা আরেকটা হালকা ব্যাগে ভরে তারপর লাগেজে রাখো।
অর্থের পর্যাপ্ততা যেন থাকে, সেটাও আগে থেকে ঠিক করে রাখো। যে দেশ বা স্থানে যাবে, সে অনুযায়ী মুদ্রা এক্সচেঞ্জ করে নাও। কিছু পরিমাণ ভাংতি অবশ্যই সঙ্গে রাখো। ট্যুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যেখানে বেড়াতে গিয়েছ, সেখানে আশপাশে ঘুরে লোকাল বসবাসকারীরা যেখানে খাবার খায়, সেখানে খাওয়াদাওয়া সারলে খরচটা অনেক কমে আসবে।

ব্যাকপ্যাক গোছানো
একটা ভারী ব্যাকপ্যাক তোমার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। তাই ব্যাগ গোছানোর সময় খেয়াল রাখো একেবারে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যেন তোমার লিস্টে থাকে। টুথপেস্ট, ব্রাশ, আন্ডারওয়্যার, গামছা বা তোয়ালে, ক্যাপ, জুতা, বেল্ট ইত্যাদি ছাড়াও অনুষঙ্গিক আর কী কী প্রয়োজন হতে পারে, তার একটা লিস্ট করো। লিস্ট ধরে টিক চিহ্ন দিয়ে একটা একটা জিনিস ব্যাগে ঢোকাও। সঙ্গে বাচ্চা থাকলে তার প্রয়োজনীয় জিনিস, ওষুধ, আবহাওয়া বুঝে পোশাক, হালকা খেলনা এসব নিতে একেবারেই কিন্তু ভোলা যাবে না।
যারা অ্যাডভেঞ্চার টাইপ ট্যুরে যাবে, তারা যে অনুযায়ী লং বুট বা গ্লাভসের মতো জিনিস, এক্সট্রা ব্যাটারি, টর্চলাইট, দড়ি, অ্যান্টি-মসকুইটো ক্রিম এসব সঙ্গে নিতে ভুলবে না।

বেড়াতে যাওয়ার সময় অন্য যেসব বিষয় খেয়াল রাখবে
বেড়াতে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটা ব্যাপারে আগে থেকে খেয়াল রাখলে অনেক কাজে দেয়। যেমন : নিকটস্থ থানা (পুলিশ), ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেক্স নাম্বার, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, ব্যাংক ইত্যাদি। কিংবা ধরো ওই এলাকা বা তার আশপাশে যদি পরিচিত বন্ধু বা স্থানীয় কেনো আত্মীয় কেউ থাকে তাহলে তার নাম্বার নেবে। তাহলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হলেও পরিবেশ সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনে নিতে পারবে। এসব খোঁজখবর আগে থেকে রাখলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।
একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ কিন্তু বিলাসিতা নয়। ভ্রমণ হলো একটা জ্ঞানের দুয়ার, যেটা খুলে যেতেই তুমি আবিষ্কার করবে তোমার চেনা দুনিয়ার একেবারেই ভিন্ন একটা রূপ। আর ভ্রমণ কোথায় করছ বা কোথায় থাকবে, খাবে এগুলো আগে থেকে একটু নিশ্চিত হয়ে নিলে তোমার যাত্রার পুরো সময়টা হবে একেবারে নিশ্চিন্ত। এ ক্ষেত্রে তাই ভ্যাকেশন ম্যানেজমেন্ট তোমাকে দেবে ঝামেলাবিহীন ভ্রমণের নিশ্চয়তা।

রোদসী/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × 3 =