ভ্যালেন্টাইনের পোশাক হবে জোড়ায় জোড়ায়:

করেছে Rodoshee

লেখা: সুরাইয়া নাজনীন

ভালোবাসা দিবস মানে প্রিয়জনকে একটু অন্যভাবে কাছে পাওয়া। সময়ের দিকে তোয়াক্কা না করে দূরে কোথাও বেরিয়ে পড়া। কাটানো মুহূর্তকে ডায়েরির এক কোনায় জায়গা করে দেওয়া। আসছে ভ্যালেন্টাইন ডে! ভেবেছ কিছু? কীভাবে প্রিয়জনকে চমকে দেবে? তবে এবারের ভালোবাসা দিবসের পোশাক যদি হয় জোড়ায় জোড়ায়, কেমন হবে? তাহলে এবারের সংখ্যায় তোমাদের জন্য আমাদের এই বিশেষ আয়োজনটি দেখে নাও-

ফিউশনধর্মী বিভিন্ন কাটিংয়ে নকশার পোশাক তৈরি হয়েছে এবার। প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিয়ে এবার সবাই পোশাক পরতে চাইছে। সে কারণে গর্জিয়াসভাবেই এসব পোশাকে একই রকমের এমব্রয়ডারি, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপ্লিকসহ মিক্সড মিডিয়ার কাজ এসেছে। ভ্যালেন্টাইনকে সামনে রেখে যুগল পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই ডিজাইনাররা এসব পোশাক তৈরি করছেন। দেশীয় নকশার সঙ্গে মিল রেখে পাশ্চাত্য কাটিংয়ের মিশ্রণেও তৈরি হচ্ছে ভিন্নধর্মী পোশাক।
সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি কিংবা শাড়ি সবকিছুতেই থাকছে ফেব্রিক, ডিজাইন বা মোটিফের যুগল উপস্থাপনা। সালোয়ার-কামিজ আর কুর্তার প্যাটার্নে এবার থাকছে লং এবং গাউন স্টাইল, কিছু কাটিংয়ে থাকছে ঘের এবং বডি ফিটিংস।

বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বিশ্বরঙ এবার ভালোবাসা দিবসে ভিন্ন টাইপের কিছু পোশাক এনেছে। লাল রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ ও কুর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কাপল ড্রেসও স্পেশাল। ছেলে ও মেয়ের পোশাকে ম্যাচিং করে পোশাক ডিজাইন করেছি। এসব পোশাকে সুতি কাপড়ের কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, ব্লক, অ্যাপ্লিক, ক্যাটওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিকসহ কারচুপি, হ্যান্ডিক্র্যাফট ও মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ রয়েছে।’
ফড়িং-এর কর্ণধার বিদ্যুৎ আহমেদ বলেন, ‘ভালোবাসা দিবস যেহেতু একটি রঙিন বিষয়, সেহেতু আমরা সেই রংকে অর্থাৎ লাল রং মাথায় রেখে সাজিয়েছি সম্ভার। শুধু যে লাল তা নয়, লালের পাশাপাশি অন্যান্য রঙের ধারাবাহিকতাও আনা হয়েছে। ফড়িং বরাবরই কাপল ড্রেসে জনপ্রিয়। তাই এবারও আমরা তার সংজ্ঞা ঠিক রেখেছি। কাপলদের জন্য ড্রেস করা হয়েছে কিন্তু সেগুলো হুবহু এক নয়। সেখানে কাজের কিংবা রঙের মিল রয়েছে এবং কাপড়গুলোও আমরা সেভাবেই সিলেক্ট করেছি। যেন অনেকের মধ্যে তারা হারিয়ে না যায়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা পোশাক ডিজাইন করার চেষ্টা করেছি।’
একটি দিন মানে, ভ্যালেন্টাইনে প্রিয় মানুষটিকে চমকে দেওয়ার একটা বিষয় তো থাকেই। আর তা যদি হয় প্রেজেন্টেশন? সারা দিন একই রকম, একই রঙের পোশাক পরে পাশাপাশি থাকলেও তৈরি হবে আত্মার মেলবন্ধন। সে জন্যই বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসও প্রাধান্য দিয়েছে ফ্যাশনে উজ্জ্বল সব রং যেমন লাল, নীল আর লালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাইট কালার যা প্রকৃতির সঙ্গেও মিলিয়ে যাবে।
এবার বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেছে, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রংবেরঙের পোশাক সাজানো হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ‘জুটি’ ড্রেস তো আছেই। যেমন শাড়ির সঙ্গে পাঞ্জাবি কিংবা পাঞ্জাবির সঙ্গে সালোয়ার কামিজের কম্বিনেশন। ভালোবাসার রং যেহেতু লাল তাই পোশাকের ডিজাইনে লাল রঙের প্রাধান্যই বেশি। আর ভালোবাসা দিবসের আগের দিন যেহেতু পহেলা ফাল্গুন, তাই এর সঙ্গে তারা ওই দিনের জন্যও পোশাক তৈরি করেছেন। তবে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউস তাদের একটি পোশাকেই দুটোর সম্মিলন ঘটিয়েছে। মানে পোশাকটিতে ভালোবাসা ও ফাল্গুন- একসঙ্গে দুটোকেই পাবে।

ভালো দিবসের ফ্যাশন পসরা : আড়ং, অঞ্জন’স, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, বাংলার মেলা, প্রবর্তনা, নগরদোলা, নিপুণ, বিবিআনা, নিত্য উপহার, অন্যমেলা, এড্রয়েট, ফড়িং, ইন্ডিগো, এমপ্রেসসহ বেশ কিছু হাউসের আউটলেটে পাবে ভালোবাসা দিবসের চমৎকার সব পোশাক। এ ছাড়া আজিজ সুপার মার্কেটে বেশ কিছু দোকানেও পাবে এই স্পেশাল দিনের নানা রঙের পোশাক। সুতি কাপড়ে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, সিকোয়েন্সের মিশেলে ফ্লোরাল ও ঐতিহ্যবাহী আলপনার মোটিফে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। প্রতিটি পোশাকে উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি। এসব পোশাকের কাপড় বেশির ভাগই সুতি।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × one =