ভ্রমণের উপযোগী পোশাক

করেছে Sabiha Zaman

একঘেয়ে জীবনে বদল আনতে চাই ব্রেক। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে একটু ছুটির দেখা মিললে বেরিয়ে আসা যায় দূরে কোথাও। ভ্রমণে যেখানেই যাওয়া হোক না কেন, সবার আগে প্রয়োজন ভ্রমণের প্রস্তুতি। এ জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে হবে। নয়তো তোমার ভ্রমণের আনন্দ পুরোটাই মাটি হয়ে যাবে। ভ্রমণের সময় তুমি কী ধরনের পোশাক পরছ, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কেমন হবে ভ্রমণের পোশাক, তা নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন শশী-

কাপড়ের ধরন
খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা কোথাও ভ্রমণের সময় আলমারির সবচেয়ে ভালো পোশাকগুলো বাছাই করি। কিন্তু সেই পোশাক ভ্রমণে আমাকে আরাম দেবে কি না, সেটা ভুলে যাই। ফলস্বরূপ অনেক সময় জমকালো আর ভারী পোশাক পরে ঠিকমতো ভ্রমণের আনন্দ নেওয়া হয় না। তাই ভ্রমণের পোশাক নির্বাচনের সময় মনে রাখবে, আরামের সঙ্গে আপস নয়। এমন পোশাক নির্বাচন করো, যা পরে আরামসে সহজ-সাবলীল থাকা যায়, সহজে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়।
ঘোরাঘুরির সময় একটু হইহুল্লোড়, ছোটাছুটি হবে না, তা কি হয়। তাই খেয়াল রাখো তোমার পোশাকটি যাতে শরীর থেকে ঘাম শোষণ করে নিতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় সঙ্গে সুতি, লিনেন ফেব্রিকসকে প্রাধান্য দিলে। ঘোরাঘুরির সময়ে একদম আঁটসাঁট পোশাক পরিহার না করাই ভালো। কারণ, এসব কাপড়ে হাঁটাচলায় কষ্ট হয়। তাই ভালো হয় ঢিলেঢালা হালকা পোশাক। তবে অতিরিক্ত ঢিলেঢালা নয়, মানানসই পোশাক পরতে হবে, যা তোমাকে দেবে আরাম আর স্বস্তি।

মানানসই পোশাক
আরামকে প্রাধান্য দিয়ে কোন ধরনের পোশাক নিতে হবে, আশা করছি সে ধারণা পেয়ে গেছো। এবার আসছি কোন জাতীয় পোশাক সঙ্গী করতে পারো সেটা নিয়ে। আগেই বলেছি আরামদায়ক পোশাক নিতে হবে। তুমি চাইলে যেকোনো পোশাক পরেই ঘুরতে পারো। তবে এমন কোনো পোশাক নির্বাচন করা উচিত নয়, যেটায় তোমার হাঁটাচলায় সমস্যা তৈরি করে। টি-শার্ট, ফতুয়া, কামিজ, কুর্তি, টপস, শার্ট পরতে পারো ভ্রমণের সময়ে। এসব পোশাক পরলে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে পারবে। এসব পোশাক পরে পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকায় বেড়াতে গেলেও কোনো সমস্যা হবে না চলাফেরায়।
বাঙালির ঐতিহ্য শাড়ি। দেশের বাইরে গেলে শাড়ি নিতে ভুলবে না। শাড়িতে ছবি তুললে অনেক ভালো ছবি আসে। এ জন্য শাড়ি নিতে পারো। তবে এটা ঠিক, শাড়ি পরে বেশিক্ষণ চলাফেরা করা অসুবিধা হয়। আর অনেকেই শাড়ি পরতে পারে না। তাই ভ্রমণের পোশাকের তালিকা থেকে শাড়ি বাদ দাও, যদি অভ্যাস না থাকে।

আবহাওয়া
ঘোরাঘুরি করার আগে বিবেচনা করে নাও যেখানে যাচ্ছ সেখানকার আবহাওয়া কেমন। আবহাওয়াভেদে নিয়ে নাও পোশাক। দেশের ভেতরেও কিন্তু আবহাওয়ার তারতম্য বিবেচনা করতে হবে। এই যেমন ঢাকায় সাধারণত যে তাপমাত্রা, সিলেটে কিন্তু তার চেয়ে অনেক কম তাপমাত্রা। দেশের বাইরে যাওয়ার আগে নেট ঘেঁটে জেনে নাও যেখানে যাবে সেখাকার আবহাওয়া কেমন। ঠান্ডা থাকলে সঙ্গে রাখো গরম জামাকাপড়। ঠান্ডার তীব্রতা বেশি থাকলে একটু ভারী পোশাক নেওয়াই ভালো। আর গরমের সময় কোথাও গেলে ফ্যাশনেবল সুতি পোশাক রাখতে পারো।

পোশাকের রং
পোশাকের ধরনের পাশাপাশি রং নিয়েও ভাবতে হবে যখন বাক্স-পেটরা গোছাও। ভারী, রংচঙা, জবরজং কাপড় না নেওয়াই ভালো। বাদামি, কালো ও খাকি রঙের প্যান্ট, পালাজো, স্কার্ট সঙ্গে রাখতে ভুলো না। কারণ, এ রংগুলো অন্য প্রায় সব রঙের টি-শার্ট বা শার্টের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ওড়না বা স্কার্ফ পরলে সাদা, কালো, মেরুন অথবা নীল বেছে নিতে পারো। কারণ এ রঙের স্কার্ফগুলো খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায় অন্য রঙের সঙ্গে। বেড়াতে গেলে ছবি তোলা হবেই। তাই কমলা, লাল, নীল, মেরুন ও সবুজ এ রঙের পোশাক সঙ্গে রাখতে পারো। এগুলোয় ছবি ভালো আসে।

ছবি : সংগৃহীত
তথ্য সুত্র: ওপরাহ ডেইলি

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × 2 =